আসুন আজকে জেনে নেই একটি পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে।

টাইফয়েডে আক্তান্ত শিশুর ছবি।

 

পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু আপনার একটু অসচেতনতায় এই পানিই আপনার জন্য বয়ে নিয়ে আসতে পারে দূর্ভোগ। আসুন আজকে জেনে নেই একটি পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে।

 

 

টাইফয়েড কিঃ- 

টাইফয়েড একটি রোগ যা সাধারণত ছোট বাচ্চাদের হয়ে থাকে। এই রোগের প্রধান জীবাণুর নাম হচ্ছে সালমোনেল্লা এনটোরিকা (সালমোনেল্লা টাইফি বা প্যারাটাইফি)।
এই নামটির উৎপত্তি গ্রীক পুরানিক কাহিনী থেকে। বলা হত টাইকোস নামক ধোঁয়া যা আসুস্থকর ও পাগলামির কারণ।

 

কেন হয়ঃ-

টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে এই রোগটি ছড়ায়। সাধারণত বন্যার পর প্রাদুর্ভাব বেশি হয়।

– পানি ফুটিয়ে পান না করলে।

– খাবার পানির উৎসের আশে পাশে বথরুম থাকলে।

– স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভালো না থাকলে।

– খাওয়ার আগে ভালমত হাত না ধুলে।

– বাথরুম ব্যবহার এর পর হাত না ধুলে।

– রাস্তার পাশের অপরিষ্কার খাবার খেলে।

কাদের হয়ঃ- 

সাধারণত ছোট শিশু বা বয়স্ক লোক যাদের শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কম তাদের বেশি হয়। বাংলাদেশ সহ ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভিয়েতনাম, আফ্রিকায় এই রোগটি বেশি হয়।

 

 

কিভাবে ছড়ায়ঃ-

১. দূষিত পানি পান করলে।

২. পানির উৎসের কাছে বাথরুম থাকলে, বাথরুম থেকে জীবানু গুলো পানির সাথে মিসে
ছড়িয়ে যায়।

৩. টয়লেট ব্যবহার এর পর সাবান দিয়ে হাত না ধুলে।

 

লক্ষণ সমূহঃ- 

– জ্বর (সাধারণত ১০৩ – ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট)

– গা ব্যথা

– খাওয়ায় অরুচি

– পায়খানা কষা হওয়া

– প্রচন্ড মাথা ব্যথা

– পেট ব্যথা

– ডায়রিয়া

– গয়ে লাল লাল র‌্যাশ উঠা (রোজ স্পট)

ঠিকমত চিকিৎসা না করালে আরো ভয়াবহ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন-

– ইনফেকশন (নিউমোনিয়া)

– এনকেফালাইটিস

– অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া

– প্রলাপ বকা

এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে।

 

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সমূহঃ- 

– ব্লাড কালচার

– স্টুল কালচার

– ভিডাল টেস্ট (সাধারণত এখন আর অতটা ব্যবহার হয় না)

 

 

চিকিৎসাঃ- 

– বেড রেস্ট

– প্রচুর পরিমানে পানি বা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।

– জ্বর এর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ

– অ্যান্টিবায়োটিক (কালচার রিপোর্ট অনুযায়ী)

– সাধারণত সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যামপিসিলিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।

– গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সেফট্রিয়াক্সোন ব্যবহৃত হয়।

টাইফয়েড এর জন্য চিকিৎসা করলেও অনেক সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে বার বার টাইফয়েড জ্বর হতে পারে (সাধারণত ৩% – ৫% ক্ষেত্রে) এদেরকে ক্যারিয়ার স্টেট বলে। এই সব ক্ষেত্রে সাধারণত সার্জারী করে পিত্তথলি ফেলে দিলে উপকার পাওয়া যায়।

যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক এর ক্ষেত্রে ১-২ এর মধ্যে উন্নতি দেখা যায় এবং সাধারণত ৭ – ১০ এর মধ্যে রোগ ভালা হয়ে যায়। তবে চিকিৎসা যাই করান না কেন, সব সময় রেজিস্টার্ড বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে করবেন।

 

 

প্রতিকারঃ-

একটু সাবধানতা, একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে টাইফয়েড এর মতো একটি প্রাণ ঘাতী রোগ থেকে বাঁচাতে।

এছাড়াও এখন টাইফয়েড এর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। মুখে খাওয়ার উপযোগী বা ইনজেকশন এর মাধ্যমে নেওয়ার।

মুখে খাওয়ার উপযোগী ভ্যাকসিন প্রতি ৫ বছর পর পর বুস্টার ডোজ এবং ইনজেকশনের ক্ষেত্রে প্রতি ২ বছর পর পর বুষ্টার ডোজ নিতে হয়।

 

যা অবশ্যই করতে হবেঃ- 

– ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়ম মোতাবেক ওষুধ খাবেন।

– খাওয়ার আগে এবং বাথরুম ব্যবহার এর পর অবশ্যই সাবান ও পানি দিয়ে হাত
ভালোভাবে পরিষ্কার করবেন।

– চিকিৎসা শেষ হয়ে যাওয়ার পর ও ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক স্টুল কালচার করাবেন পরিপূর্ণ নিশ্চয়তার জন্য।

– রাস্তার পাশের ময়লা আবর্জনাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করতে হবে।

 

সচেতন হোন, আপনার সাবধানতা, সচেতনতাই আপনার শিশুকে রক্ষা করতে পারে ভয়াবহ টাইফয়েড থেকে। ভালো থাকুক আমাদের শিশুরা।

 

আরও পড়ুনঃ অটিজম প্রতিরোধে করণীয় চিকিৎসা

                                                                                                                         ডাঃ সাজিব

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*