
টাইফয়েড জ্বর
টাইফয়েডের রেগীকে অনেক দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে হয়। কেননা টাইফয়েডের রোগী বহুদিন ধরে জীবাণু বহন করতে পারে এবং তা অন্যদের মাঝে ছাড়তে পারে। এ রকম রোগীকে আরো অনেক দিন চিকিৎসা দিতে হয়।
ভ্যাকসিন নিলে তিন বছর প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মে
যে জীবাণু দ্বারা টাইফয়েড হয়ে থাকে তাকে সালমোনেলা টাইফি বলা হয়। এটা এক ধরনের গ্রাম নেগেটিভ ব্যাসিলাস। ফ্ল্যাজেলার সাহয্যে এই জীবাণু সব সময় গতিশীল থাকে। সাধারণত ২২০০ রকমের সালমোনেলা প্যারাটাইফি ‘বি’ শুধু মানুষকে আক্রান্ত করে থাকে। যেহেতু বিভন্ন ধরনের জীবাণু দ্বারা এই জ্বর হয়ে থাকে, সেজন্যই এ জ্বরকে (Enteric) এনটারিক জ্বর বলা হয়ে থাকে। তবুও এটি টাইফয়েড জ্বর নামেই পরিচিত।
সাধারণত যেসব সালমোনেলা মানুষের মধ্যে থাকে, সেগুলোই টাইফয়েড জ্বর সংক্রমিত করে। এজন্যই টাইফয়েড জ্বরের রোগীকে অনুসরণ করলে কোথা থেকে তা সংক্রমিত হয়েছে তা বের করা যায়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই টাইফয়েড জ্বরের ঝুঁকি বেশি।
কিভাবে হয়
টাইফয়েডের জীবাণু খাবারের সাথে দেহে ঢুকে পাকস্থলীর এসিডের বাধা পার হয়ে অন্ত্রে ঢোকে। প্রায় এক লাখের মতো জীবাণু দেহে প্রবেশ করলে অসুখ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। টাইফয়েডের জীবাণু অন্ত্রের মধ্য দিয়ে রক্তে প্রবেশ করে। রক্তের মধ্যে জীবাণুগুলো স্বেতকণিকায় প্রবেশ করে এবং বিস্তার লাভ করতে থাকে এবং এ সময়ে অসুখের প্রকাশ ঘটে।
লক্ষণ :
জীবাণু শরীরের ঢোকার সাথে সাথেই টাইফয়েড জ্বর হয় না, কিছু দিন পরে হয়। এটা জীবাণুর পরিমাণ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার পর প্রতিদিন বাড়তে থাকে। টাইফয়েড জ্বর সাধারণত অপরিবর্তিত অবস্থঅয় দীর্ঘস্থায়ী হয়। জ্বর অল্প ও ঋণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে জ্বর তীব্র হয় এমনকি মৃত্যুমুখে পতিত হতে পারে। অনেক সময় তৃতীয় কিংবা চতুর্থ সপ্তাহের দিকে অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে অথবা ক্ষুদ্রান্ত্রের শেষের দিকে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। সাধারণত এ অবস্থাগুলো হঠাৎ করে হয়।
কোনো কোনো রোগীর জ্বরের সাথে আবার কোষ্টকাঠিন্য দেখা দেয়। কোনো কোনো রোগীর আবার যকৃত ও প্লীহা কিছুটা বড় হয়ে যায়। কোনো কোনো রোগীর নাড়ির গতি তুলনামূলক কমে যায়। অনেকের আবার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। অনেকের বুক ও পেটের উপরিভাগে লাল লাল দাগ দেখা যায়।
এগুলো সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় টাইফয়েড জ্বরের জীবাণু বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সে ক্ষেত্রে জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং মৃত্যুর হারও বেড়ে যায়। অনেক রোগী টাইফয়েড জ্বরের জীবাণুবাহক হিসেবে কাজ করে। এদের জ্বর থাকে না। তবে সারাজীবন অন্যদের জন্য হুমকি হয়ে থাকে। এদের পুরোপুরি চিকিৎসা করিয়ে ফেলা ভালো। এতে সমাজ উপকৃত হবে, যদিও এরা নিজেদের চিকিৎসার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা :
রক্তের শ্বেতকণিকার পরিমাণ কমে যায়, কিন্তু যদি রোগীর জটিলতা দেখা দেয় তবে রক্তে শ্বেতকণিকার পরমাণ বেড়ে যেতে পারে। এসব সংক্রামক ব্যাধিতে রোগজীবাণু আলাদা করতে পারলে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় হয়েছে বলে ধরা হয়। অসুখের প্রথম সপ্তহেই এই জীবাণু রক্ত থেকে আলাদা করা যায়। অনেক সময় এই রোগ নির্ণয়ে ভিডাল পরীক্ষা করা হয়। তবে এই পরীক্ষার রোগ নির্ণায়ক মূল্য কম। কারণ অন্যান্য সালমোনেলা জীবাণু দ্বারাও এই পরীক্ষা পজিটিভ হতে পারে।
বাকি অংশঃ-টাইফয়েড জ্বর (পর্ব – ২)
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
