
মানসিক রোগী চেনার উপায়
মানশাওসেন সিনড্রম (Munchaucen syndrome)
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য রোগী নানা প্রকার অসুখের ভান করে। চিকিৎসককে বাধ্য করেন অস্ত্রোপাচার করে দেয়ার জন্য। রোগীর অভিনয় এত নিখুঁত যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও বিভ্রান্ত হয়ে যান। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিলেও কিছুদিন পর আবার ডাক্তারকে চাপ দিতে থাকে পুণরায় ভর্তির জন্য এবং নতুন নতুন রোগের উপসর্গ তৈরি করতে থাকে চিকিৎসককে বিভ্রান্ত করার জন্য। এ রোগের কারণ হলো-
অস্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব
মর্ষকাম (Mesochism)
অন্যের দৃষ্ঠি ও সহানুভূতির চেষ্ঠা।
রোগীর দেহে বহু অপারেশনের দাগ থাকে এবং বিভন্ন সময়ে ভুল ঠিকানা দিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে ওই ভুল ঠিকানাটাও বদলিয়ে ফেলে। অনেকে এ রোগকে হাসপাতাল আসক্তি বলে থাকেন। চিকিৎসায় খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায় না।
কাটার্ড’স সিনড্রম (Cotard’s syndrome)
রোগীর অটল ভ্রান্ত বিশ্বাস জন্মে যে তার দেহের কোনো বিশষ অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে, তার নাড়িভূড়ি পঁচে গেছে। অনেক রোগী তার নিজের , পরিবারে এমনকি দুনিয়ার অস্তিত্ব অস্বীকার করে থাকে। রোগীর ভেতরে নেতিবাচক অটল ভ্রান্ত বিশ্বাস () জন্মে।
সাধরণত গুরুতর বিষণœতা রোগে এমনটি হয়। বিষণœতার চিকিৎসা করলে এই রোগ ভালো হয়ে যায়।
ব্রিকট’স সিনড্রম (Briquets syndrome)
অনেকে এটাকে সেন্ট লুইস হিস্টেরিয়া বলে । রোগী এমন সব শারীরিক উপসর্গ নিয়ে উপস্থিত হয় যার কোনো দৈহিক রোগের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। নানাবিধ দৈহিক উপসর্গ মাথা থেকে পা পর্যন্ত রোগীর মধ্যে থাকে।
সেজন্য আমেরিকার সেন্ট লুইসের সাইকিয়াট্রিস্টগণ ৩৭টি উপসর্গ তালিকাভুক্ত করে বলেছেন এর মধ্যে যদি ১৫টি উপসর্গ রোগীর মধ্যে থাকে তবে তাকে উক্ত রোগ হয়েছে বলে মনে করতে হবে। সাধারণত এই রোগটি মেয়েদের হয় এবং ৩০ বছর বয়সের পূর্বেই দেখা দেয় এবং বহু দিন থাকে। চিকিৎসা সন্তষ্টজনক নয়।
ফলিয়া ডু (Foliea deus)
প্রথমে পরিবারের যে কোনো একজনের সাইকোসিস রোগ হয়। তারপর যদি একই পরিবারে অন্য সদস্যকে রোগটি আক্রান্ত হয় তবে তাকে ফলিয়া ডু রোগ বলে। যার প্রথম অসুখটি দেখা দেয় তার মধ্যে আধিপত্য করার প্রবণতা থাকে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির অনুসরণ করার বা নির্ভরশীল হওয়ার প্রবণতা থাকে। ফলে দ্বিতীয়জন প্রভাবিত হন প্রথমজনের দ্বারা।
চিকিৎসা
দুজনকে আলাদা রাথতে হবে এবং এন্টিসাইকোটিক ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। প্রথমজনের চেয়ে দ্বিতীয়জন চিকিৎসায় তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়।
জিলা ডিলা টুরেটস সিনড্রম (Gilles dela tourettes syndrome)
দেহের যে কোনো মাংসপেশির হঠাৎ ঘনঘন সঞ্চালন এবং মুখ দিয়ে আকস্মিকভাবে অশ্লীল শব্দ নির্গত হওয়া এ রোগের প্রধান উপসর্গ। সাধারণত এ রোগ ১৬ বছর বয়সের পূর্বেই হয়ে থাকে। তবে গড় বয়স হলো ৫-৬ বছর।
উপরে বর্ণিত উপসর্গ ছাড়াও রোগী লাফাতে পারে, নাচতে পারে এবং অন্যের কথার অনুকরণ করতে পারে। এই সমস্ত শিশু ও কিশোররা চঞ্চল প্রকৃতির হয় এবং লেখাপড়ায় অনগ্রসরতা দেখা দেয়। এদের আবেগের গোলযোগ ও আচরণগত সমস্যা দেখা দেয় যেমন থুথু ফেলা, অবলেহন করা, স্পর্শ করা, ধাক্কা মারা, হাত বা অন্য কিছুর গ্রাণ বা গন্ধ শোঁকা ইত্যাদি। তবে দুশ্চিন্তায় এই রোগটি বাড়ে।
চিকিৎসা
হ্যালোপেরিডল জাতীয় এন্টিসাইকোটিক ওষুধ ৫-২০ মিলিগ্রাম বেশ কার্যকরী আর তার সাথে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বন্ধ করার জন্য প্রসাইক্লিডিন হাইড্রক্লোরাইড ৫-১০ মিলিগ্রাম দিতে হয়।
হ্যালোপেরিডলে মাত্রা শুরুতে কম করে আরম্ভ করে অবস্থা অনুসারে ক্রমেই বাড়াতে হয় এবং দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের পর আবার ধীরে ধীরে কমিয়ে এনে শেষ করতে হয়। রোগের পরিণতি সন্তষ্ঠজনক নয়। আচরণগত চিকিৎসা ভালো কাজ করে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
