
হার্টঅ্যাটাক
হার্টঅ্যাটাক – রক্তের গ্রুপের সাথে হার্টঅ্যাটাকের সম্পর্ক কতটা ?
যাদের রক্ত ‘ও’ গ্রুপের নয় তাদের হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কিছুট বেশি। সাম্প্রতিক গবেণণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন যাদের ‘ও’ গ্রুপের রক্ত তাদের হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় সামন্য কম। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যাদের রক্তের গ্রুপ এ, বি, এবং এবি গ্রুপের তাদের শরীরে রক্ত জমাট করার প্রেটিনের উপস্থিতি বেশি।
গবেষকরা বলছেন এ ধরনের গবেণা ফলাফলের মাধ্যমে ডাক্তারদের বোঝাতে সুবিধা হবে যে কারা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি কংগ্রেসে এ গবেষণাটি উপস্থান করা হয়। প্রায় ১৩ লাখ মানুষের ওপর গবেণা চালিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গবেণায় দেখা গেছে যাদের রক্তে গ্রুপ ‘ও’ নয় তাদের ১ হাজার জনের মধ্যে ১৫ জন হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে যাদের রক্ত ‘ও’ গ্রুপের তাদের ১ জনের মধ্যে ১৪ জন হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকে।
পার্থ্যক্যটি সামন্য হলেও সার্বিক জনসংখ্যার বিচারে এ সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু হার্ট বিষয়ে কাজ করে এমন ্একটি দাতব্য সংস্থা মনে করে, মানুষ যাতে ধূমপান বর্জন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা দরকার।
এর আগে এক গবেষণায় উঠে এসেছিল যে যাদের ‘এবি’ রক্তের গ্রুপ আছে তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। তবে রক্তের গ্রুপ ছাড়াও হার্টঅ্যাটাকের আরও কিছু কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।
গবেষকরা বলছেন, রক্তের গ্রুপ নিয়ে কিছু করার না থাকলেও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের মাধ্যমে হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ছে সে বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার । তবে বড় ধরনের হৃদরোগের ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপ তেমন কেনো পার্থ্যক্য তৈরি করে না বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনি কি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছেন ?
অতিরিক্ত ক্ষুধা বা তৃষ্ণা, ওজন কমা, দৃষ্ঠিশক্তি হ্রাস প্রভৃতি উপসর্গ সাধারণত ডায়াবেটিসের লক্ষণ। কিন্তু লক্ষণগুলো সব সময় নাও থাকতে পারে। প্রতি ২জন ডায়াবেটিস রোগীর মাধ্যে ১জন জানেন না যে তিনি এ রেগে আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে চোখের জটিলতা, হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা, পায়ে পঁচন, খোস-পাঁচড়া প্রভৃতি জঠিলতা নিয়ে ডায়বেটিস শনাক্ত হয়।
সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় তাই ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও জটিলতা প্রতিরোধের অন্যতম পূর্বশর্ত। তাই ডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণ না থাকলেও যারা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো উচিত।
কারা ঝুঁকিপূর্ণ ?
- বয়স ৪৫ বা তার বেশি
- স্থুল ব্যক্তি
- রক্ত-সম্পর্কীয় নিকটাত্মীয়য়ের ডায়াবেটিস থাকলে
- শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা অধিক ওজনের সন্তান প্রসবের পূর্ব ইতিহাস
- পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রম
- উচ্চরক্তচাপ, স্ট্রোক বা হৃদরোগ
রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেশি এবং এইচডিএলের মাত্রা কম থাকলে তাছাড়া গর্ভবতী নারীদের সময়মতো ডায়াবেটিস নির্ণয় না হলে, বেশি ওজনের শিশু জন্মদান, অকালগর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী শিশু মৃত্যু, জন্মগত ত্রুটি বা প্রসব-পরবর্তী মা ও সন্তানের বিভিন্ন জটিতা দেখা দেয়। শিশুদের সাধারণত টাইপ-১ ডায়াবেটিস বেশি দেখা যায়। তবে ১৮ বছরে নিচেও টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকর আশঙ্কা থাকে। তাই স্থকায় তাই স্থূলকায় বাচ্চা এবং সেই সাথে রক্তসম্পর্কীয় নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস বা মায়ের গর্ভকালীন ডায়বেটিসের ইতিহাস থাকলে অথবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্টের উপসর্গ যেমন- ঘাড়ের কালো দাগ, উচ্চরক্তচাপ, পলিস্টিক ওভারি সিনড্রম প্রভৃতি থাকলে ১০ বছরের পর যেকোনো শিশুর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা উচিত।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
