হৃদরোগ প্রতিরোদে কী কী ব্যবস্থা নেয়া যায়?

হৃদরোগ

নিন্মে বর্ণিত পাঁচটি ওষুধবিহীন ব্যবস্থা হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ জন্য স্বাস্থ্যকর জীবন ব্যবস্থা হৃদরোগ থেকে রক্ষা করে। তবে পারিবারিক ইতিহাস, বয়স ও লিঙ্গ ভেদ ও তিনটি ঝুঁকি বদলানো যায় না। কিন্তু নিচের পাঁচটি ব্যবস্থা গ্রহণ করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

ধুমপান করবেন না-

ধুমপান করা ও তামাক সেবন হৃদরোগর অন্যতম প্রধান করাণ। তামাকের ভেতরে থাকা রসায়ন (Nicotine) হার্ট ও রক্তনালীর ক্ষতি করে। ফলে ধমনিকে সরু করে(Atherosclerosis) দেয়। এর ফলে পরবর্তীকালে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কেননা সরু ধমনির বিপক্ষে হার্টের গতি বৃদ্ধি পায় ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। এমনকি ধূমপায়ীর আশপাশে যারা থাকেন, তাদেরও একই ভাবে উপরোক্ত ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তবে সুখবর হলো ধূমপায়ী যদি ধূমপান ত্যাগ করে, তাহলে এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়। মহিলারা যদি ধূমপানের সাথে জন্মবিরতিকরণ পিল খান। তবে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অধূমপায়ীদের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে।

সপ্তাহে পাঁচ দিন প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যয়াম করা-

এ ধরনের ব্যায়াম নিয়মিত করলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। এর সাথে যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, তবে ফল আরো ভালো হয়। শারীরিক পরিশ্রমে ওজন কমে গেলে হার্টের ওপর চাপ কমে যায়। কেননা উচ্চরক্তচাপ, উচ্চমাত্রায় রক্তে কোলেস্টেরল এবং ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্য খাওয়া-

বিশেষ খাবার গ্রহণ করার ফলে উচ্চরক্তচাপ সেরে গেলে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব । এ খাবার হচ্ছে- কম চর্বিযুক্ত খাবার, কম কোলেস্টেরল ও লবণ। খাবারে বেশি ফলমূল, শাকসবজি, কম চর্বিযুক্ত দুধের খাবার এবং সামুদ্রিক মাছ ও (স্যালমন ও ম্যাকেরেলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড) হার্টকে রোগমুক্ত রাখে। (Saturated fat) (লাল গোশত, দুধের তৈরি খাবার, নারকেল) এবং (Trans fat) বেশি ভাজা ফাস্টফুড, বেকারির খাবর প্যাকেটজাত স্নাকস, মার্গারিন ও ক্রাকার্স) রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়িয়ে হৃদরোগের (Coronary artery disease) ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তা ছাড়া ফলমূল ও শাকসবজি হার্টের অসুখের সাথে সাথে ক্যান্সারও প্রতিরোধ করে।

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা-

যৌবনে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে এ সময় শরীরে মাংস না বেড়ে চর্বি বৃদ্ধি পায়। ফলে এই অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি পায়। ফলে এই অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি এবং ডায়াবেটিস হতে পারে। (BMI) যদি ২৫-এর বেশি হয় তবে হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ,রক্তে চর্বি এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পুরুষের কোমরের মাপ ৪০ ইঞ্চি ও মহিলাদের ওজন বৃদ্ধি বলা হয়। শরীরের ওজন ১০ শতাংশ কমাতে পারলে এসব ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

নিয়মিত স্বাস্থ্য চেকআপ করা-

যদি নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিস চেকআপ করা না হয়,তাহলে এ সমস্যগুলো শরীরে আছে কি না বুঝা যায় না। তাই চেকআপ না করে এসবের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ায় হার্ট ও রক্তনালীর কখন ক্ষতি হবে তা বুঝবেন কী করে? বয়স্কদের দুই বছর পরপর রক্তচাপ মেপে দেখা দরকার। তবে যদি ঝুঁকি তাকে তাহলে আরো ঘনঘন দেখা দরকার। স্বাভাবিক রক্তচাপ হচ্ছে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। কোলেস্টেরল প্রতি পাঁচ বছর পরপর চেক করা দরকার। তবে যদি হৃদরোগের অন্যান্য ঝুঁকি থাকে, তাহলে আরো ঘনঘন চেক করা দরকার।

ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের একটা অন্যতম ঝুঁকি-

এজন্য রক্তে সুগারের মাত্রা নির্ণয় করে ডায়াবেটিস আছে কি না তা জেনে আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানো যায়। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা চিকিৎসা করে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

আরও পড়ুনঃ হৃদরোগের চিকিৎসায় এনজিওপ্লাস্টি।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*