
হার্ট অ্যাটাক
Myocardial Infarction Or acute Myocardial Infarction সাধারণত Heart Attack নামে পরিচিত। এ অবস্থায় মানবদেহে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় হার্টের কোষের মৃত্যু ঘটে। এটার সবচেয়ে প্রধান কারণ হচ্ছে, করোনারি ধমনির রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া- এটা হয়ে থাকে ধমনির দেয়ালে জমা চর্বি দলা ও ম্যাক্রোফেজ দলা ফেটে যেয়ে। এতে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, ফলে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়; যার চিকিৎসা দেরি হলে হৃৎপিন্ডের মাংসপেশির ক্ষতি হয় বা মরে যায়।
হার্ট অ্যাটাক লক্ষণগুলো কী কী ?
- বুকে ব্যথা, যা বাম বাহুতে বা ঘাড়ের বাম দিকে যায়।
- শ্বাসকষ্ট ও বমির ভাব বা বমি হওয়া
- বুক ধরফড় করা
- দুর্বলতা
- বদহজমের অনুভূতি
- ঘাম হওয়া
- দুশ্চিন্তা (মৃত্যুর অনুভূতি হওয়া )
- ভাগ হার্ট অ্যাটাক কোনো বুকে ব্যথা বা অন্যান্য লক্ষণ ছাড়াই হয়ে থাকে (বৃদ্ধ বয়স, ডায়াবেটিক রোগী, হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরে )
রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলো কী কী ?
- ইসিজি (হার্টের কোন স্থানে ক্ষত হয়েছে জানা যায়)
- ইকো কার্ডিওগ্রাম,
- রক্তে ক্রিয়েটিন কাইনেজ-এমবি (CK-MB) এবং এলডিএইচ LDH মাত্রা নিরূপণ
- রক্তে ট্রপনিন মাত্রা নির্ণয়।
- করোনারি এনজিওগ্রাম (হার্টের ধমনির কোথাও সরু বা বন্ধ হয়ে গেছে তা জানা যায় )
- হার্ট অ্যাটাকের সাথে সাথে কী করবেন ?
- বিশ্রাম নেবেন
- অক্সিজেন
- অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট
- নাইট্রোগ্লিসারিন (জিহ্বার নিচে)
- বেশির ভাগ ST ওঠা হার্ট অ্যাটাকের ST-elevation MI ক্ষেত্রে Thrombolysis & Percutaneous cornonary Intervention (PCI) চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু ST না ওঠা হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে বেশির ভাগ চিকিৎসা করা হয়, তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ক্ষেত্রে PCI প্রায়ই করা হয়ে থাকে। যদি অনেকগুলো ধমনি বন্ধ হয়ে যায় এবং মোটামুটি অন্যান্য সমস্যামুক্ত থাকে, তাদের বাইপাস সার্জারি করা যেতে পারে।
- হার্ট অ্যাটাক সমগ্র পৃথিবীতে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মৃত্যুর একটি অন্যতম কারণ
কাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি –
- হার্টের অসুখের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে
- যদি আগে থেকে হৃৎপিন্ড ও রক্তনালীর অসুখ থাকে
- বয়স্ক রোগী হলে
- ধূমপানকারীদের
- রক্তে উচ্চমাত্রার চর্বি যেমন- ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল এবং কম মাত্রায় এইচডিএল থাকে।
- ডায়াবেটিস
- উচ্চ রক্তচাপ
- অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি
- দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ
- হার্ট ফেইলিউর
- বেশি বেশি মদপান করা
- ওষুধের অপব্যবহার যেমন-কোকেন ও মেট এমফিটামিন)
- ধীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভোগা
- ধমনিতে চর্বি জমার জন্য যেসব কারণ ঝুঁকি বৃদ্ধি করে, একই কারণ হার্ট অ্যাটাকেরও ঝুঁকি বৃদ্ধি করে
- অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি (BMI=>30kg/m2)
- বয়স পুরুষের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর ও মহিলার ক্ষেত্রে ৫৫ বছর
- পুরষের ঝুঁকি মহিলাদের থেকে বেশি
অন্যান্য বুক ব্যথার কারণগুলো কী কী ?
- পালমোনারি এমবোলিজিম
- এওর্টিক ,ধমনি ছিঁড়ে যাওয়া
- পেরিকাডিয়ামে, পানি জমা হওয়া
- টেনশন নিউমোথারাক্স,
- খাদ্যনালী ছিঁড়ে যাওয়া
- কোন কোন ঝুঁকি বদলালে হার্ট অ্যাটাক কমানো যায়।
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। যেমন- শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়াম করলে ঝুকি কমে যায়।
- খাদ্যভাস পরির্তন -যেমন চর্বিযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড পরিহার করা। বেশি বেশি শাকসবজি থেকে আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা।
- উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- কোন কোন ঝুঁকি বদলানো যায় না।
- বয়স
- লিঙ্গভেদ-মহিলা/পরুষ
- ৬০ বছর বয়সের আগে হার্ট অ্যাটাকের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে।
- জন্মবিরতিকরণ বড়ি গ্রহণকারী মহিলাদের ঝুঁকি বেশি-যদি ধূমপান করেন, তবে এ ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড অনুসারে নিম্নের যেকোনো দু’টি থাকলে হার্ট অ্যাটাক নির্ণয় করা যায়।
- বুকে ব্যথার ইতিহাস ওপরের বর্ণনানুযায়ী ২০ মিনিটের বেশি থাকলে।
- কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করে ECG তে পরিবর্তন থাকলে।
- CK-MB Troponim- এর রক্তের মাত্রা বুক ব্যথার সময় বৃদ্ধি পাওয়া এবং ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়া।
হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে করনীয় কী কী ?
- হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে নিমলিখিত নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তার ফলে একবার হার্ট অ্যাটাকের পর পুনরায় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
- উচ্চ রক্তপাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- জীবনযাত্রা পরিবর্তন-যেমন শারীরিক পরিশ্রম করা, সপ্তাহে পাঁচ দিন আধা ঘন্টা করে হাঁটা, ধূমপান বন্ধ করা, হৃৎপিন্ডের জন্য ক্ষতিকর এমন পথ্য পরিহার করা ও মদপান বর্জ করা। তবে এই ব্যায়াম হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ৪-৬ সপ্তাহ পর শুরু করতে হবে।
- তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া যাতে না হয় সেজন্য বিষেধ না থাকলে নিচের ওষুধগুলো ব্যবহার করা।
- অ্যাপসপিরিন/ক্লপিডগরেল জাতীয় অ্যান্টি-প্লাটিলেট ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা, যাতে Plaque ছিড়ে আবার হার্ট অ্যাটক না হয়। তবে দু’টি ওষুধ একসাথে দিলে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় ।
- বেটা ব্লকার ওষুধ যেমন মেটোপ্রলোল অথবা কারভিডিলল বাম ভেন্ট্রিকুল কার্যক্ষমতা কমার জন্য ও হার্টে রক্ত সরবরাহ কমা অব্যাহত তাকলে উপকারী ওষুধ। তা ছাড়া এই ওষুধে মৃত্যুহারও কমে যায়।
- ACE প্রতিবন্ধক ওষুধ : এই ওষুধ হার্ট অ্যাটাকের ২৪-২৮ ঘন্টা পর শুরু করা যায় যদি হার্টের কার্যক্ষমতা ঠিক থাকে-বিশেষ করে এটা বেশি উপকারী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সম্মুখ অংশে অ্যাটাক হলে ও হার্টের বাম ভেন্ট্রিকলের কার্যক্ষমতা কমে গেলে কার্যকরী।
- রক্তে চর্বি কমানোর ওষুধ STATIN মৃত্যুহারের সাথে সাথে অনেক খারাপ প্রতিক্রিয়াও কমায়।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
