ঘরে বসে স্তন ক্যান্সারের প্রতিকার ও প্রতিরোধ
বর্তমান সময়ে নারী রোগীদের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বাংলাদেশর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিজিস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন ১৪ হাজার ৮২২ জন এবং মারা যান সাত হাজার ১৩৫ জন। এ পরিসংখ্যান থেকে আমরা বুঝতে পারি, অতি দ্রুত ও অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের স্তন ক্যান্সার কী, এর লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।
স্তন ক্যান্সার কী?
স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জানার আগে আমাদের স্তনের গঠন জানতে হবে। স্তননালী, গ্রন্থি, কলা টিসু নিয়ে তৈরি। প্রধানত বেশির ভাগ স্তন ক্যান্সার স্তননালী থেকে শুরু হয়। অর্থাৎ যে নালী দিয়ে দুধগ্রন্থি থেকে স্তনের নিপল বা বোঁটাতে আসে। কিছু ক্যান্সারগ্রন্থি থেকেও উৎপত্তি হয়। অন্য ধরনের ক্যান্সার আছে, যেগুলো হয় কলা টিসুতে।
লক্ষণ :
- স্তুনে কোনো চাকা অনুভব করা শক্ত বা নরম চাকা হতে পারে।
- স্তনে ব্যথা।
- স্তনের আকার পরিবর্তন।
- নিপল বা বোঁটা থেকে রস বের হওয়া।
- বসলে গোঁটা বা ব্যথা অনুভব করা।
- নিপল ভেতরের দিকে চেপে বা দেবে যাওয়া।
- স্তনের চামরার পরিবর্তন লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে ওঠা, চামড়া মোটা বা শক্ত হয়ে যাওয়া।
- নিপলে ব্যথা অনুভব করা।
কিভাবে ছাড়ায়?
প্রধানত লসিকানালী (Lymph vessel)ও গ্রন্থি (Lymph node)-এর মাধ্যমে ।
পরীক্ষা (Invastigation):
- দৈহিক চেকআপ করা ডাক্তারের মাধ্যমে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি
- ম্যামোগ্রাফি
- FNAC ( সুই দিয়ে গোট থেকে রস পরীক্ষা)
- এ ছাড়া- MRE, CT Scan, PET Scan, Bone Scan, Tumour Markers
Staging ( স্টেজিং) :
পরীক্ষা অনুযায়ী স্তন ক্যান্সার স্টেজ (I-IV) ১-৪ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই স্টেজিং করা হয় TNM- এর মাধ্যমে। এখানে পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাকা বা টিউমারের আকার। চাকা কতটুকু ছড়িয়েছে স্তনে সীমাবদ্ধ আছে নাকি তার বাইরে গেছে। লসিকাগ্রস্থিতে ছড়িয়েছে কি না। অন্য কোথাও গেছে কি না।
Stage-0 : স্তননালীতে সীমাবদ্ধ।
Stage -I : ক্যান্সার কোষ যখন স্তনের নালী থেকে কাছে কলা টিসুতে ছড়ায়।
Stage -II : কিছু পরিমাণ লসিকাগ্রন্থিতে ছড়ানো।
Stage -III : পুরোপুরি লসিকাগ্রন্থিতে ছড়ানো।
Stage -IV : লসিকাগ্রন্থি থেকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায়, হাড় যকৃত ও মস্তিষ্কে ছড়ানো।
চিকিৎসা :
বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা আছে।
-সার্জারি বা অপারেশন
-ক্যামোথেরাপি
-রেডিওথেরাপি
-হরমোনথেরাপি
– টারগেটথেরাপি
– Stageing অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রতিকার ও প্রতিরোধ :
বর্তমানে স্তন ক্যান্সার যেখাবে চড়াচ্ছে, সেজন্য এটার উপযুক্ত প্রতিকার করা উচিত। পাশাপাশি জনসচেতনতামূক কার্যক্রম শুরু করে এর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। যেমন-নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করা মাসে একবার (Self Breast Examination)।
এর লক্ষণ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানা।
কিছু স্ক্রিনিং টেস্ট বা ইনভেস্টিগেশন করা, বছরে একবার।
– CA15-3
-BRCA-1, BRCA-2
-USG of both Breast & Axilla
-Mammography
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু এবং তার বাস্তবায়ন করে স্তন ক্যান্সারের হার এবং তার কারণে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা যায়। সরকারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা দেয় যেসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও তাদের স্বাস্থ্যকর্মী এবং সমাজের সর্বস্তরে মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

