কোথাও কিছু নেই, বুকে ব্যথা,জ্ঞান হারিয়ে ফেলা, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ।
পাঁচ মিনিট আগেও বোঝা যায না যে, মানুষটির সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে চলেছে। মিনিট দশেকের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শুরু না হলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত। কেন হয় এরকম তার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ধারণা পওয়া যায়নি। যে কোনো বয়সের মানুষের যে কোনও সময়ে আকস্মিক হুদরোগ জনিত মৃত্যু হতে পারে। মানুষের শরীরের যে মৃদু ইলেকট্রিসিটি হার্টকে চালু রাখে, তার কোনো রকম গোলযোগ হলে এক দিকে হার্ট বিট অথ্যাধিক বেড়ে যেতে পারে, অন্য দিকে হৃদস্পন্দন একদম কমে গিয়ে রকত্ সঞ্চালন ব্যাহত হতে পারে। ফলে হার্টের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। ফলে প্রায় সমস্ত শরীরের সঙ্গে মস্তিষ্কেও অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে মিনিট খানেকের মধ্যেই রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা শরু না করলে রোগীর মৃত্যু রোধ করা এক প্রকার অসম্ভব। কেননা এই অবস্থায় পৌছানোর সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিমভাবে হার্টকে চালু করার চেষ্টা করতে হয়ে মূলত দুটি পদ্ধতিতে।
(ক) হাসপাতালে পৌছানোর আগে কৃত্রিমভাবে হৃদপিন্ড সচল করার চেষ্টা করা, ডাক্তারি পরিভাষায় যার প্রচলিত নাম (CPR) বা কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন।
এবং
(খ) বিশেষ ধরনের যন্ত্রের সাহায্যে হার্টকে চালু করা।
কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (CPR) কি?
সিপিআর আসলে কৃত্রিমভাবে হার্ট ও লাংসকে কিছুক্ষণ চালু রাখতে সাহায্য করে। সিপিআর করতে পারনে যে কোনও মানুষই। এর জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। প্রত্যেকটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষকে সিপিআরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিপিআর করা হয় এইভাবে- ১. প্রথমে রোগীর মুখের ভিতরের লালা একটা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে শুকনো করে দেিত হবে। ২. ঘাড় উঁচু করে শুইয়ে, নাক চেপে ধরে মুখে মুখ দিয়ে বুকভরা বাতাস ফুঁ দিয়ে রোগীর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার চেষ্টা করতে হবে। এই রকম পাঁচ ছয়বার করার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক পদ্ধতিতে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ (অর্থ্যাৎ বুকে জোরে চাপ দিয়ে হার্ট চালু করার চেষ্টা) করলে রোগী কিছুটা সামলে নেবে। তবে সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকলে সিপিআর করা কিছুটা মুশকিল। ৩. এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে করতে যদি হাসপাতালে একবার পৌছে দেওয়া যায়, তবে চিকিৎসকে রোগীকে বাঁচানোর সুযোগ পাবেন। নইলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগেই প্রাণ সংশয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চিকৎসা : আকস্মিক হৃদরোগে মৃত্যুপথ যাত্রী রোগীকে যদি সময় মতো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া যায়,তবে চিকিৎসকরা প্রথমেই ডিফিব্রিলেটর নামে এক বিশেষ ধরনের যন্ত্রের সাহায্যে হার্টকে চালু করেন। তারপর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা হয়।
আরও পড়ুনঃ একা থাকাবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত এই ৪টি কাজ করুন।
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

