শরীরের ওজন হঠাৎ করে কমে যাওয়ার প্রতিকার (পর্ব- ২)

শরীরের ওজন হঠাৎ করে কমে যাওয়ার প্রতিকার

এ জন্য কী করবেন

অধিক আঁশযুকত্ খাবার গ্রহণ করুন; যাতে অন্ত্রনালী ও পায়ুপথ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারেন। তাই অধিক ফলমূল, লাল আটা ও চাল, শস্যদানা, কমলা ও টমেটো গ্রহণ করবেন।

টাটকা শাকসবজি খান- সবুজ, হলুদ ও পাতাযুক্ত শাকসবজি (বাঁধাকপি, ফুলকপি ) অন্ত্রনালী, পায়ুপথ, পাকস্থলী ও অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ আছে, এমন খাবার গ্রহণ করুন- ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার, যেমন- টাটকা ফল, সবুজ শাকসবজি, দুধজাতীয় খাদ্য ও কলিজা পায়ুপথ ও জারায়মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার; যেমন- আমলকী আমড়া, পেয়ারা, কমলা, কাঁচা মরিচ, টমেটো ইত্যাদি খাবারও অন্ত্রনালী, পাকস্থলী, পায়ুপথ ও জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন-এ জন্য নিয়মিত ব্যায়াম (হাঁটার অভ্যাস বেশ উপকারী) এবং অধিক ক্যালরি যুক্ত খাদ্য পরিহার করুন।

ক্যান্সারের সতর্ক লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসকরে পরামর্শ নিন

  • কোনো ক্ষত না শুকানোর প্রবণতা
  • পায়খানার অভ্যাসের পরিবর্তন বা মাঝে মাঝে পাতলা অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া
  • অস্বাভঅবিক রক্তক্ষরণ
  • স্তনে কোনো দলা বা শক্ত চাকা হওয়া
  • পেটে অজীর্ণতা বা ঢোক গিলতে সমস্যা
  • গলা বসে যাওয়া বা অবিরাম কাশি হওয়া
  • আঁচিল বা তিলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া

অনেকেরই ভুল খাবার খেয়ে বা ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণুঘটিত কারণে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের কিছু ডায়রিয়অ জীবাণুবিধ্বংসী ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব হলেও চার সপ্তাহের বেশি ডায়রিয়া চললে তাকে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বলে। অন্যান্য কারণ যেমন আইবিএস, সিলিয়াক ডিজিজ, ইনফ্লামেটরি বাউয়েল ডিজিজ (IBD) ইত্যাদি কারণেও হতে পারে। এর ফলে হঠাৎ শরীরের ওজন কমতে পারে।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হঠাৎ ওজন কমার অন্যতম কারণ হলেও এটি সাধারণত টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিসে দেখা যায়। এ ধরনের ডায়বেটিস হয়ে থাকে যুবক, শিশু ও ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য যখন শরীরে পর্যান্ত ইনসুলিন তৈরি করে শরীরে তৈরি গ্লকোজ দেহের কোষে পৌছতে পারে না। গ্লুকোজ হচ্ছে প্রধান জিনিস, যা আমাদের শরীরে কাজ করার শক্তি দেয় এবং যখন কোষ গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না, তখন রক্তের ভেতর এই গ্লকোজ বৃদ্ধি পেয়ে ডায়াবেটিস হয়। ফলে শরীর যথেষ্ঠ শকিত্ (ক্যালরি) না পেয়ে হঠাৎ ওজন কমে যায়।

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার চিকিৎসা

যে কারণে হঠাৎ ওজন কমে যায়, সেসব কারণের চিকিৎসা করইে প্রকৃত চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই আপনি যদি হঠাৎ ওজন হারান, তবে এ রোগের কারণ নির্ণয় করার জন্য প্রকৃত ডাক্তারের কাছে যেতে দেরি করবেন না। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবেন এবং এর চিকিৎসা করবেন। মানসিক সমস্যার জন্য মানসিক বিশেষজ্ঞের পরাপমর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। তাছাড়া ওজন কমার চিকিৎসায় আরো প্রয়োজন ব্যালান্সড পথ্য, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম এবং অবশ্যই যথেষ্ট বিশ্রাম। আপনার চিকিৎসককে সব কিচু বলে ব্যবস্থা নেবেন। কেননা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া মারাত্মক অসু-বিসুখের লক্ষণ, যা আগে নির্ণয় করলে এসব অসুখ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ভারসাম্যপূর্ণ পথ্য

সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ পথ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সঠিক পথ্য পরিকল্পনা করা কঠিন। পথ্য তখনই ভঅরসাম্যপূর্ণ হবে, যখন খাবারে অনুপাতিক হারে শর্করা, আমিষ ভিটামিন ও খনিজ বিদ্যমান থাকে এবং তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি সরবরাহ করে। খাবারের ৫০ শতাংশ ক্যালরি জটিল শর্করা থেকে, ২০ শতাংশ আমিষ থেকৈ এবং ৩০ শতাংশ চর্বি থেকে এলে তা স্বাস্থ্যকর অনুপাত।

স্বাস্থ্যকর পথ্য টিপস

  • ভারসাম্যপূর্ণ পথ্যে প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার, ডালসহ চাল, আটা, তাজা ফলমূল ও শাকসবজি ।
  • তেল, চর্বিযুক্ত খঅবার ও চিনি কম গ্রহণ করা কারণ এই খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং পৃকৃতপক্ষে এগুলো শরীরে ক্যালরি ও কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে।
  • অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ পরিহার করুন। কেননা এটি বেশি গ্রহণকারীদের জন্য ক্ষতিকর।
  • প্যাকেটজাত বা টিনজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার ক্যালরি, চর্বি, চিনি, কৃত্রিম রাসায়নে সমৃদ্ধ থাকে।
  • কোমলপানীয় ও মদজাত দ্রব্য পরিহার করুন।
  • প্রতিদিন যথেষ্ঠ পনি পান করুন।

আল কুরআন : জমিনের ওপর বিচরণশীল এমন কোনো জীব নেই, যার রিজিক (পৌছানোর দায়িত্ব) আল্লাহর ওপর নেই। তিনি (যেমন) তার আবাস সম্পর্কে অবহিত, ( তেমনি) তার মৃত্যুর পর তাকে যেখানে সোপর্দ করা হবে তাও তিনি জানেন। এসব (কথা) একটা সুস্পষ্ঠ গ্রন্থে (লিপিবদ্ধ) আছে।

আরো পড়ুনঃ-শরীরের ওজন হঠাৎ করে কমে যাওয়া (পর্ব-১)

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*