
মিষ্টি কুমড়ার খাদ্য ও ঔষধি গুণ
মিষ্টি কুমড়ার খাদ্য ও ঔষধি গুণ
আমাদের অতিপরিচিত সবজিজাতীয় Cucurbitaceae পরিবারভুক্ত বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। স্বাদ ও পুষ্ঠিগুণে ভরপুর মিষ্টিকুমড়া। এটির গাছ উচ্চতায় এক ফুট এবং দৈর্ঘ প্রায় ১৬ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর কান্ড গোলাকার শিরাযুক্ত ও নরম হয়। পাতা গোলাকার, বৃহত, খাজঁকাটা ও লোমযুক্ত। ফল বিভিন্ন আকৃতির এবং ওজনে হয়ে থাকে। গড় ওজন সাধারণত ২.৫ থেকে ৭.৫ কেজি হয়ে থাকে। তবে তা কখনো ওজনে ৩৫-৩৫ কেজি পর্যন্তও হয়। পরিপক্ব ফল কয়েক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। একই গাছে লম্বা বৃন্তযুক্ত হলুদ বর্ণের পৃথক স্ত্রী ও পুরুষ ফুল হয়। আমাদের দেশের আবহাওয়ার সারা বছর চাষ হলেও এটি মূলত গ্রীষ্মকালীন উদ্ভিদ। সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে এর বীজ রোপণ করা হয় এবং আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে ফুল ও ফল হয়। এটি বাংলাদেশের সর্বত্রই কমবেশি চাষ করা হয়। তবে এটি আমাদের দেশীয় উদ্ভিদ নয়। এর আদি নিবাস উত্তর আমেরিকা বলে ধারণা করা হয়।
মিষ্টিকুমড়ার ব্যবহৃত অংশ : মিষ্টিকুমড়ার কোনো অংশই ফেলনা নয়। এর ব্যবহৃত অংশ হলো-পাতা, কান্ড, ফ’ল, ফল ও বীজ।
মিষ্টিকুমড়ার পুষ্টিগুণ :
খাদ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি হলো মিষ্টিকুমড়া। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মিষ্টিকুমড়াকে বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য রূপে ঘোষণা করেছে।
প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্রেশ মিষ্টিকুমড়ায় রয়েছে-
ক) কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা ৭ গ্রাম
খ) প্রোটিন বা আমিষ ১ গ্রাম
গ) ফ্যাট বা চর্বি .০১ গ্রাম
ঘ) ডায়েটারি ফাইবার .০৫ গ্রাম
ভিটামিন :
| ভিটামিন A | ৭৩৮৪ IU |
| ভিটামিন C | ৯.০ মিগ্রা. |
| ভিটামিন E | ১.০৬ মিগ্রা. |
| ভিটামিন K | ১.১ মিগ্রা. |
| ভিটামিন E1 | ০.০৫০ মিগ্রা. |
| ভিটামিন E2 | ০.১১০ মিগ্রা. |
| ভিটামিন E6 | ০.০৬১ মিগ্রা. |
| ফোলেট | ১৬ মাইক্রোগ্রাম |
খনিজ উপাদান হিসেবে রয়েছে-
সোডিয়াম ১ মিগ্রা, পটাপশিয়াম ৩৪০ মিগ্রা, ক্যালসিয়াম ২১ মিগ্রা, ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিগ্রা, ম্যাঙ্গানিজ ০.১২৫, ফসফরাস ৪৪, সিলেনিয়াম ০.৩ মাইক্রোগ্রাম, জিঙ্ক ০.৩২ মিগ্রা। মিষ্টিকুমড়াতে কোন কোলেস্টেরল নেই।
আরও পড়ুনঃ কুমড়ার বিচির এত গুণ জানতেন কি!
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
