বয়ঃসন্ধীকালে তথা যৌবন আগমনের শুরুতে প্রত্যেক নারীরই মাসিক বা ঋতুস্রাব হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই মাসিক সবার ক্ষেত্রে নিয়মমাফিক নাও হতে পারে, অথবা নিয়মিত হলেও বিভিন্ন সমস্যাযুক্ত হতে পারে। এ রকম একটি সমস্যা যুক্ত মাসিক বা ঋতুস্রাব হচ্ছে ব্যাথাযুক্ত মাসিক। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলা হয় ডিসমেনোরিয়া।
ডিসমেনোয়ারিকে সংজ্ঞায়িত করতে গেলে বলতে হয় যে, ডিসমেনোরিয়া হলে এমন এক ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব যা একজন মেয়ের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত করে।
শতকরা ৫০ ভাগ থেকে ৭০ ভাগ মহিলারই যন্ত্রণাদায়ক ঋতুস্রাব বা ডিসমেনোরিয়া সমস্যা থাকে। এটা সারা দুনিয়াব্যাপী তরুণীদের একটি কমন সমস্যা। ডিসমেনোরিয়া সমস্যাকে সাধারণত দু ভাগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাইমারী ও ২. সেকেন্ডারী
প্রাইমারী ডিসমেনোরিয়া সাধারণত মেয়েদের প্রথম মাসিকের দু/তিন বছর পর শুরু হয়। ১৫-২৫ বছর বয়সের মেয়েদেরই সাধারণত এই সমস্যা বেশি হয়। পঁচিশ বছর বয়সের পর এ সমস্যা কমে আসতে শুরু করে। বিশেষ করে বিয়ের পর এই সমস্যা আর দেখা যায় না। প্রাইমারী ডিসমেনোরিয়া সত্যিকার কারণ আজ পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়নি, তবে এর সাথে সম্পর্কযুক্ত কিছু সমস্যার সহাবস্থান বের করা সম্ভব হয়েছে। যেমন:
১. এই সমস্যা প্রাধনত ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের তরুণীদের মধ্যেই সীমাব্ধ থাকে। ২. যে সকল তরুণী মাসিকের আগে ও পরে টেনশনে থাকে তাদের ডিসমেনোরিয়া দেখা যায়। ৩. বিষন্নতা বা পিপ্রেশনজনিত মানসিক সমস্যাগ্রস্থ তরুণীদের ব্যথাযুক্ত মাসিক বেশি হয়। ৪. মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল তরুণীদেরও মাসিকের আগে ও পরে ডিসমেনোরিয়া বেশি হয়। ৫. অস্বস্তিকর, অশান্তিপূর্ণ ও কোলাহলময় পারিবারিক পরিবেশে জীবন যাপনকারী তরুণীদেরও ডিসমেনোরিয়া সমস্যা থাকতে পারে। ৬. স্বাস্থ্য ভালো নয়, রোগাটে বা রোগাক্রান্ত মেয়েদের ডিসমেনোরিয়া হয়। ৭. মা-বাবার আদরের মেয়ে অথবা যে মায়ের ডিমেনোরিয়া সমস্যা ছিল তার মেয়েরও সমস্যা হতে পারে।
ব্যথাযুক্ত মাসিক বা ডিমেনোরিয়া লক্ষণ:
ডিসমেনোরিয়াার ব্যথার একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য রোগের ব্যথা থেকে আলাদা। এই ব্যথা মাসিক শুরু হবার কয়েক ঘন্টা আগে শুরু হয় এবং ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা স্থায়ী হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরো একদিনও স্থায়ী হয়। ব্যথা প্রথমে পেটের দিকে থাকে এবং পরে উরুর ভিতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথার তীব্রতায় চেহারা ফ্যাকাসে দেখায়, ঘাম নির্গত হয়। বমি বমি ভাব, তবে তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে বমি অবশ্যই থাকবে। পাতলা পায়খানাও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে পায়খানা ও প্রস্রাব করতে কষ্ট হতে পারে।
প্রাইমারী ডিসমেনোরিয়া প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে হবে:
১.স্বাস্থ্যহীনতা বা ভগ্ন স্বাস্থ্য বা অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকলে তা দূর করতে হবে।
২.বিষন্নতা, মানসিক কষ্ট, কুসংস্কার, ভুল ধারণা দূর করতে হবে।
৩.ডিসমেনোরিয়ায় আক্রান্ত তরুণীদেরকে বোঝাতে হবে যে, মাসিক বা ঋতুস্রাব হলে প্রত্যেক নারীরই শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া।
৪. ঘরে-বাইরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দূর করতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

