আপনি কী সহজেই রেগে যান? হাসিঠাট্রা উপভোগ করতে পারেন না বা রীতিমতো বিরক্ত হন ? সব কাজ নিজে করতে চান কিন্তু শেষ করে উঠতে পারনে না আবার অন্য কারও কাজ আপনার পছন্দ হয় না? এই সব প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তা হলে বুঝতে হবে আপনি বেশি স্ট্রেসড আউট। অফিসের চাপ , সাংসারিক দুশ্চিন্তা, পারিবারিক ঝামেলা, আরও বিধি কারণে আমরা অনেক সময় স্ট্রেসড থাকি। তবে যত বেশি টেনশন করবেন তত বেশি আপনার কাজ প্রভাবিত হবে। আবার হাল ছেড়ে দিয়ে ব সে থাকাও সম্ভব নয়। স্ট্রেসকে পজিটিভলি ম্যানেজ করার চেষ্টা করুন।
তাহলে কী করবেনঃ
»নিজেকে জিজ্ঞেস করুন কোন কোন কারণে আপনার স্ট্রেস লেভেল বেড়ে যায় এবং তা ডায়রিতে নোট করুন। এই সময়ে আপনি কীভাবে রিয়্যাক্ট করেছেন লিখে রাখুন। পরে ডায়েরি পড়লে বুঝতে পারবেন কোন ধরনের পরিস্থিতিতে আপনি বেশি স্ট্রেসড হয়ে পড়েন প্রত্যেক পরিস্থিতি সম্বন্ধে দুবার ভাবুন। যুক্তি দিয়ে ভাবলে দেখবেন চিন্তাভাবনা অনেক সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন এবং পরবর্তীকালে ওই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে সহজে মোকাবিলা করতে পারবেন না।
»নিজের মনে বিশ্বাস রাখুন, যে যেই সমস্যাই আসুক না কেন আপনি সামলে নিতে পারবেন। পজিটিভ চিন্তাভাবনা করুন। ‘আমার দ্বারা কিছু হবে না’ এই ঘরনের মানসিকতা একেবারেই পোষণ করবেন না।
»অফিস থেকে বাড়ি ফিরে ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে সোফায় শুয়ে পড়লে কিন্তু স্ট্রেস আরও বেড়ে যেতে পারে। অ্যাক্টিভ থাকুন। তার মানেই যে বাড়ি ফিরেই এক্সারসাইজ করতে হবে বা বাড়ির কাজ করতে হবে তা নায়। ভালো করে গোসল করুন, হালকা লিকার চা খান। বাচ্চাদের সঙ্গে খেলুন, স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করুন। পরের দিনের কথা বেশি না ভেবে রাতে ভালো করে ঘুমোন। ক্লান্তি ও স্ট্রেস কমবে।
»সব কাজের মাঝেও নিজের জন্যে কিছুটা সময় রাখুন। পছন্দের কোনও কাজ করুন। ঘুমোতে পারেন, বই পড়তে পারেন। নিজের রোজকার রুটিনে একটু রদবদল আনুন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই রান্নাধরের কাজে ঝাঁপ না দিয়ে হাঁটতে বেরুন। মন ভালো হবে। সারাদিনের জন্যে একটা ডায়েট রেজিম মেনে চলুন। অফিসে একটানা কাজ না করে মাঝে মাঝে ব্রেক নিন। সকালে দিকে জরুরি কাজগুলো সেরে ফেলুন। দুপুরের পর কাজের ইচ্ছে অনেকটা চলে যায়। তখন চা কফি না খেয়ে উঠে হাঁটুন, ডিপ ব্রিদিং করুন। রাতে ঘুমনোর আগে হালকা গান শুনুন বা বই পড়ুন। উইকএন্ডে বাড়িতে না থেকে কোথাও ঘুরে আসুন।
»খাবারদাবারের কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আমরা যা খাই তার প্রভাব আমরা কীরকম ফিল করব তার ওপর নির্ভর করে। কফি কম খান। ভিটামিন সি,বি৩, ম্যাগনেশিয়াম,জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মুরগির মাংস, বাদাম স্ট্রেস মোকাবিলায় সাহায্য করে। অতিরিকত্ স্ট্রেস বা ক্লান্তির জন্যে দুপুর বা রাতের মিল কখনওই স্কিপ করবেন না। স্ট্রেসের কারণে অনেক সময় ইমোশনাল ইটিংয়ের সমস্যা দেখা যায়। এই সময় ফাস্টফুড যেমন বার্গার, ডিপ ফ্রায়েড খাবার খাবেন না।
»স্ট্রেসের প্রভাব কাটাতে হালকা স্ট্রেচিং, মেডিটেশন করুন। ৩০ মিনিট কার্ডিওভাস্কুলার ওয়র্কআউট করলে ফ্রেশ থাকবেন এবং ক্লান্তিও দূর হবে।
স্ট্রেস রিলিফ করার জন্যে মাসে ১-২ বার পার্লারে বা স্যালুনে যান। অ্যারোমাথেরাপি বা মাসাজ ট্রাই করতে পারেন। স্ট্রেস মোকাবিলায় এই ধরনের রিলাক্সেশন টেকনিক কাজে দেয়।
আরও পড়ুনঃ মেনোপজাল হটফ্ল্যাশ মানসিক অবসাদ।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

