
মাথা ব্যাথাকে অবেহেলা করবেন না
আমদের মধ্যে হঠাৎ একটি লোক মারা যায়। আমরা অবাক হই। কিন্তু লোকটি অনেক আগে থেকে সংঙ্কেত পান। তিনি গ্রাহ্য করেননি। যেমন: একদিন ঘুম থেকে ওঠে সঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। কথা জড়িয়ে যাচ্ছে মাথা ঘুরছে। কিছুক্ষণ পর স্বাভাকিবক হয়ে যান। এসবই স্ট্রোকের পূর্বলক্ষণ।
তারপর তিনি মনে করেন ওটা হঠাৎ হয়েছে। তেমন কিছুই না। চিকিৎসকের কাছে গেলেন না। ভুল করলেন। বয়স ষাট বা তার বেশি হলে শরীরের কোনো উপসর্গই সাময়িসক মনে করা ঠিক নয়। এত অঘটন ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। অনেক সময় সামান্য লক্ষণ আবার অনেক সময় ষ্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায়। এজন্য বয়স ষাটোর্ধ্ব হলে দুই-একদিন অন্তর রক্তের চাপ পরীক্ষা, ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা ইত্যাদি করানো ভালো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। স্ট্রোকের আরো পূর্ব লক্ষণ আছে। যেমন, মুখের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া। কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা। মাথা ঝিম ঝিম করা বা হালকা বোধ হওয়া ও হাঁটাচলায় অসুবিধা।
কোনো কারণ ছাড়াই প্রচন্ড মাথায় যন্ত্রণা ইত্যাদি। এগুলো অবহেলা না করে অবিলম্বে নিকটস্থ চিকিৎসক বা ক্লিনিক বা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া উচিত। স্ট্রোক মস্তিকের সব জায়গা এক সাথে আক্রমণ করতে নাও পারে। আবার করতেও পারে। রক্তচাপ মাপলে যদি ওপর দিকে বেশি থাকে তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ওষুধে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ষাটোর্ধ্ব লোকের হার্ট অ্যাটাক অপেক্ষা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ইন্ডয়ানা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বরেছেন, ষাটোর্ধ্ব লোকের প্রায় প্রতিনিই স্ট্রোক করে, তার হয় টের পায় না অথবা অবেহেলা করেন। মস্তিষ্কের বেশির ভাগ আক্রান্ত হলে টের পান। তাদের ডিমেনশিয়া হয়। মিস্তিক্ষের বেশির ভাগ অঞ্চল তকন পুরোপুরি ধ্বংস হয়। এর প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ। সিস্টোলিক প্রেসারের লাগামছাড়া বৃদ্ধি। আর সেই সাথে ধূমপান, ডায়াবেটিসযুক্ত হয়, তাহলে সমূহ বিপদ। বিশেষ করে বিড়ি, সিগারেটপায়ীরা সর্বদা ঝুঁকিতে থাকে। কোলেস্টেরল আরেক শত্রু। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়লে ঘনত্ব বাড়ে। রক্তের প্রবাহ ধীর গতি হয়ে যায়। তাই এই দূষমণকেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।
এ জন্য লাল গোশত, ডিম, কলিজা, ঘৃত, মাখন ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাদ্য বর্জন করতে হবে। সহজপাচ্য খাবর খেতে হবে। সন্দেশ, রসগোল্লা ও অন্যান্য মাখনযুক্ত মিষ্টান্ন দ্রব্য বর্জন করতে হবে। সামান্য পানাহার এবং সকাল-বিকেল অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটাচলা করা দরকার। সব সময় চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা অত্যাবশ্যক। যেকোনো উত্তেজনা থেকে দূরে থাকতে হবে। কোনো প্রকার টেনশন জড়ানো যাবে না। ধর্মেকর্মে মনোনিবেশ করা শ্রেয়। উত্তেজিত হওয়ার মতো কার্যাবলি থেকে দূরে থাকতে হবে। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। কোনো জাগতিক সমস্যায় না জড়ানো শ্রেয়। যথাসম্ভব নিয়ানুবর্তিতা মেনে চলা ভালো।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
