ফ্রি-র‌্যাডিকেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সম্পর্কে জানি

ফ্রি-র‌্যাডিকেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সম্পর্কে জানি

ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, মাসকুলার ডিজেনারেশান, নিউরাল ডিজেনারেশান, টিউমার, ক্যান্সার এই সব জটিল রোগের জন্যও দায়ী  ফ্রি-র‌্যাডিকেল।

আধুনিক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ মাত্রই ফ্রি-র‌্যাডিকেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই দুটো শব্দের সঙ্গে পরিচিত। মানুষের দেহে প্রতিনিয়ত নানাভাবে ফ্রি-র‌্যাডিকেল তৈরি হয়। আমরা প্রতিদিন বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে ফর্মালিন এবং ইনসেক্টিসাইড গ্রহণ করছি। যা আমাদের শরীরে একধরনের স্ট্রেস বা ধকল তৈরি করে। এই ধকলের জন্যই প্রতিনিয়ত শরীরে ফ্রি-র‌্যাডিকেল তৈরি হচ্ছে।

তা ছাড়া আমাদের চারপাশের দূষিত পরিবেশ, অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলেও শরীরে ফ্রি-র‌্যাডিকেল তৈরি হয়।

Please Subscribe Us!

ফ্রি-র‌্যাডিকেল শরীরের কী কী ক্ষতি করে

এটা শরীরে এমন এক ধংসাত্মক প্রক্রিয়া শুরু করে, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক কোষবিভাজন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অস্বাভাবিক বিভাজনের ফলে শরীরে নানারকম জটিলতা দেখা দেয় ও রোগের সৃষ্টি হয়। আধুনিক জীবনে যেসব রোগের প্রকোপ বেশি, তার অধিকাংশের জন্য দায়ী এই ফ্রি-র‌্যাডিকেল।

ডায়াবেটিস, হার্ট ডিজিজ, মাসকুলার ডিজেনারেশান, নিউরাল ডিজেনারেশান, টিউমার, ক্যান্সার এই সব জটিল রোগের জন্যও দায়ী  ফ্রি-র‌্যাডিকেল।

এ থেকে পরিত্রাণের উপায় ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’

নিয়মিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গ্রহণ করলে, তা ফ্রি-র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাবকে নিউট্রালাইজ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। যদি একটা সহজ উদাহরণ দেই বুঝতে সুবিধা হবে। অ্যাকুরিয়ামে কিছু মাছ রাখা হয়, যেগুলো শুধু অ্যাকুরিয়ামের ময়লা-বর্জ্য খেয়ে অ্যাকুরিয়ামকে পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। ঠিক তেমনি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্রি-র‌্যাডিকেলগুলোকে এনগাল্‌ফ (খেয়ে ফেলা) করে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

অ্যান্টি-আক্সিডেন্ট শরীরের জন্য উপকারী হলেও এর যথেচ্ছ ব্যবহার সবসময় উপকারী না-ও হতে পারে। বিশেষত, শরীরে যদি কোনো ধরনের টিউমার তৈরি হতে শুরু করে, তখন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ব্যবহার হিতে বিপরীত হতে পারে। এজন্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

Please Subscribe Us!

তবে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ফার্মেসি থেকে না কিনে নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমেও গ্রহণ করা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিদিনের ডায়েটে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই ও ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে, যা মূলত প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

দেশীয় ফল, সবজি ও অর্গানিক খাবারে অভ্যস্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত শরীর চর্চা, হালকা ব্যায়াম ও হাঁটার অভ্যাস শরীরকে ফ্রি-র‌্যাডিকেলমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কাজেই নিজেকে সুস্থ এবং ফ্রি-র‌্যাডিকেলমুক্ত রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান ও পরিমিত জীবন-যাপনের কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*