ফিজিওথেরাপি’র ইতিহাস লিখেছেন- ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

ফিজিওথেরাপি  ইতিহাস (এথেন্স, গ্রিক )

বর্ণনাঃ

বিজ্ঞানের সবকটি শাখার উন্নতির ধারাবাহিকতায় থেমে নেই চিকিৎসা বিজ্ঞানও। একসময় মানুষ সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার অভাবে মারা যেত, কষ্ট পেত কিংবা পঙ্গু হয়ে মানবতার জীবনযাপন করত। কিন্তু র্বতমান আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞানের অবদানে আজ মানুষ অসম্ভব কে করেছে সম্ভব, ফিরে পাচ্ছে মুখের হাসি ও চলমান স্বাভাবিক জীবণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা যে শাখাটি আবিস্কারের জন্য আজ মানুষ পঙ্গুত্ব কে করেছে জয়, সে সঙ্গে কাটাচ্ছে বাত-ব্যথা মুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক জীবণ সেই শাখাটির নাম ফিজিওথেরাপি। আসুন এবার জেনে নেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক এই শাখাটির আদ্যপাত্ব।

ফিজিওথেরাপি একটি ইংরেজী শব্দ। এখানে ফিজিও অর্থ শারীরিক আর থেরাপি অর্থ চিকিৎসা পদ্ধতি অর্থাৎ ফিজিওথেরাপি অর্থ হচ্ছে বিশেষ ধরনের শারীরীক চিকিৎসা পদ্ধতি। ১৯১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের একদল স্বাস্থ্য কর্মী প্রথম তাদের দেশে চিকিৎসা সেবায় প্রথমবারের মত ফিজিওথেরাপি সেবা দেয়া শুরু করে। ঠিক এর পরের বছর ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট তাদের দেশেও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা দেয়া আরম্ভ করে। এরপর শুরু হয় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি কাজে নানা গবেষণা। ১৯২১ সালে যুক্তরাষ্টের চিকিৎসক মেরি এমসি মিলান ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট এসোসিয়েশন গঠন করেন এবং ঘোষণা দেন এখন থেকে পঙ্গুদের পুনবার্সনের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক শাখাটির নাম ফিজিওথেরাপি।

১৯২৪ সালে জিওরজিয়া ওয়ার্ম স্পিং ফাউন্ডেশন পোলিও রোগ নিয়ে কাজ শুরু করে, এক পর্যায়ে ফাউন্ডেশনটির অন্যতম কর্মী সিস্টার কিননি পোলিও চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি অন্তভুর্ক্ত করেন। এরপর ফিজিওথেরাপি হয়ে উঠে পোলিও রোগীর পুনবার্সন ও চিকিৎসার মুল চিকিৎসা পদ্ধতি। মোট কথা এটাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর ১৯৫০ সালে পঙ্গুত্ব ও বাত ব্যথা প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন হাসপাতালে নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস ডিপার্টমেন্টের পাশাপাশি স্থান করে নেয়। তারপর বিজ্ঞানের অবদানে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ধীরে ধীরে সংযুক্ত হতে থাকে হাইড্রোথেরাপি, ক্রায়োথেরাপি, কাইনেশিওলজি।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বাত ব্যথা ও প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিতে যোগ করেন ইলেক্ট্রিকাল স্টিমুলেশন, শর্টওয়েভ ডায়াথেরামি, আল্ট্রাসাউন্ড ওয়েভ, মাইক্রো ওয়েভ ইনফ্রারেড রেডিয়েশন, আল্ট্রাভায়োলেট রেডিয়েশন,ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক ওয়েভ, ওয়াক্স বাথসহ ফেরাডিক, গ্যালভানিক কারেন্ট। ফিজিওথেরাপিতে এ অংশটির নাম দেয়া হয় ইলেক্ট্রোথেরাপি। ১৯৯০ সালে ফ্রেডি কেলর্টেনবর্ন নামের একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ম্যানুয়াল থেরাপির বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করে রোগীকে সুস্থ করে তোলার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।এভাবেই একটু একটু করে সাফল্য অর্জনের মধ্য দিয়ে ফিজিওথেরাপি বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ও স্পোর্টস ইনজুরির চিকিৎসাসহ পঙ্গুদের পুনবার্সনে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্যতম শাখা হিসেবে স্থান করে নেয়।

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপিঃ

উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি বর্তমানে বাত ব্যাথ প্যারালাইসিস ও স্পোর্টস ইনজুরির চিকিৎসায় অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, বাত ব্যথা চিকিৎসায় কিছু ভিটামিন ছাড়া যে সব ব্যথার ঔষুধ ব্যবহার করা হয় এর পার্শ্বপ্রতিত্রিয়ায় পেপটিক আলসারসহ কিডনি ডেমেজ হয়ে যায়। একারনে এসব ঔষুধ দীর্ঘদিন সেবন করা যায় না। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে বাত ব্যথা ও প্যারালাইসিস চিকিৎসায় ফিজিওথেরাপিই বর্তমানে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত একমাত্র উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি।

আরও পড়ুনঃ হিজামা কি, কেন, কিভাবে করে ও হিজামার ফজিলত বা উপকারিতা?

ডা. মোঃ সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগঃ-ডিপিআরসি হাসপাতাল( ২৯ প্রবাল হাউজিং,রিং-রোড,শ্যামলী,ঢাকা-১২০৭)
সিরিয়ালের জন্য ফোনঃ-  +8801997702001; +8801997702002
www.dprcbd.com
www.bdtodays.com
www.shafiullahprodhan.com
www.medicalbd.info
www.dhakatv.info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*