জ্বর চেনার উপায় এবং করনীয়

জ্বর চেনার উপায় এবং করনীয়

ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকের জ্বর জ্বর অনুভূত হয়। সাধারনত শিশু হতে বয়বৃদ্ধ, যে কাররোই এমন বোধ হতে পারে। আমাদের ডাক্তারী ভাষায় জ্বর এর আরেক নাম “পাইরেক্সিয়া”। যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সীমার ৩৫.৫-৩৭.৫ সে. (৯৭.৭-৯৯.৫) ফা অধিক তাপমাত্রা নির্দেশ করে। শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারনত ঠান্ডা অনুভূত হয়। যখন শরীরের “উচ্চ নির্দিষ্ট সূচক” (Set Point) থেকে তাপমাত্রা বৃদ্ধিপায় গরম অনুভূত হয়। অনেক কারনেই জ্বর হতে পারে। গবেষণায় জানা যায় উচ্চ তাপমাত্রা থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যদিও জ্বরের উপকারিতা নিয়ে যথেষ্ট অনেক মত পার্থক্য আছে। হাপারথার্মিয়া দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক সূচকের (Set Point) অতিরিক্ত তাপত্রার ফল।

জ্বরের প্রকারভেদ:

ক) একটানা জ্বর (Continuous fever): সারাদিন শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে এবং ২৪ ঘন্টার ১ সে. এর বেশি তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না।

যেমন: লোবার নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, মুত্রনালীর ইনফেকশন, ব্রুসেলসিস, টাইফাস ইত্যাদি।

খ) নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বর (Remittent fever): একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়ে এবং পরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যার।

যেমন : ম্যালেরিয়া,  কালাজ্বর (Kala-zar), সেপ্টিসেমিয়া।

গ) কুয়েটিডিয়ান জ্বর (Quartan fever): পর্যাকাল ২৪ ঘন্টা। সাধারণত, ম্যালিরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

ঘ) টারশিয়ান জ্বর (Tertian fever): যার পর্যায়কাল ৪৮ ঘন্টা। সাধারণত, এটিও ম্যলেরিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

ঙ) কোয়ার্টান জ্বর (Quartan fever): যার পর্যায়কাল ৭২ ঘন্টা, এটি প্লাসমোডিয়াম মেলেরিয়ার (Plasmodium malaria) জীবানুর ক্ষেত্রে দেখা যায়।

ডায়াগোনোসিস (Diagnosis):

যদিও জ্বর পরিমাপ করা অনেক সহজ। কিন্তু এর লক্ষন বের করা অনেক কষ্টকর। ফিজিকাল পরীক্ষার ছাড়াও আপনার ডাক্তার আরও অনেক পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখবেন। সাধারণত (CBC, FBC, S.Electrolytes) জ্বরের ফলে অনেক বেশী করা হয়।

চিকিৎসা (Treatment): 

১. প্রথমেই জ্বর হলে রোগীর পুরো শরীর স্পঞ্জিং করিয়ে দিতে হবে। টানা প্রায় ১০ মিনিট অবিরাম স্পঞ্জিং করলে তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।

২. যাদের অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, স্পঞ্জিং করার সময় বুকে যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের ঠাণ্ডা পানি মোটেও খাওয়া যাবে না। তাদেরকে গরম পানি মিশিয়ে খাওয়ানো ভালো।

৩. স্পঞ্জিং করার সময় হালকা করে ফ্যান ছেড়ে রাখতে পারেন। আবার খেয়াল রাখতে হবে যাতে বাতাস রোগীর শরীরে যেন সরাসরি না লাগে।

৪. সাধারণত ঠাণ্ডা জ্বর হলে প্যারাসিটামল কিংবা স্পঞ্জিং করে জ্বর চলে যেতে পারে। তবে ১০০ ডিগ্রীর বেশি হলে তবেই প্যারাসিটামল খাওয়ানো যাবে।

যদি ৩ দিন বা তার অধিক দিন জ্বর থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ জিহ্বায় জ্বালাপোড়া বা গ্লসোডাইনিয়া হলে কি করবেন?

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*