যকৃতের (Liver) সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ব্যাধিলক্ষন জন্ডিস বা পান্ডুরোগ। রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন (Bilirubin) জমা হয়ে জন্ডিস রোগের সৃষ্টি হয়। মনে রাখবেন- রক্তে বিলিরুবিনের (Bilirubin) স্বাভাবিক মাত্রা ০.২-০.৮ মিলিগ্রাম। এই মাত্রা ২ মিলিগ্রামের উপরে উঠলে চোখের সাদা অংশ হলুদ, প্রস্রাবের রং হলুদ হয়। সর্বশেষে শরীরের চামড়া হলুদ বর্ণ ধারন করে।
জন্ডিস রোগকে কারন অনুসারে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:
০১। পিত্তকোষে পাথর হয়ে পিত্তনালীর পথ বন্ধ হয়ে গেলে, পিত্তনালীর গায়ে ক্ষত সৃষ্ট হলে, পিত্তনালীর বাহিরে চাপ সৃষ্টি হয়ে যেমনঃ টিউমার হয়ে পিত্তনালীর পথ সরু হয়ে রক্ত চলাচল বাধা সৃষ্টি হলে, জন্ডিস রোগ হয়।
০২। ম্যালেরিয়া(Malaria), ব্লাকওয়াটার ফিভার(Black Water Fever) প্রভৃতি রোগে লোহিত রক্ত কনিকা (RBC) নষ্ট হলে পিত্ত রস বেশী সৃষ্টি হয়ে অর্থাৎ বিলিরুবিন (Bilirubin) রুপে সাধিত হয় এবং জন্ডিসে আক্রান্ত হয়।
০৩। অনেক জীবানু বা ভাইরাস (Virus) দ্বারা কিংবা কতকগুলি ঔষধে লিভারের উপর (Reaction) বা বিষক্রিয়ার ফলে পিত্তনালীর পথ বন্ধ হয়ে গেলে জন্ডিস রোগের উৎপত্তি হয়।
ব্যাখ্যা
জন্ডিস একটা লক্ষন বা উপসর্গ মাত্র। যেমন: জ্বর কোন রোগ নয়, তেমনি জন্ডিস কোন রোগ নয়। লিভার বা যকৃতে পিত্তনালীর পথ যে কোন ভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তা জন্ডিস এর লক্ষন হিসাবে প্রকাশ পায়। অনেক সময় দেখা যায়, লোহিত রক্ত কণিকার (RBC) ভাঙ্গন জনিত জন্ডিস (সাধারন সমস্যার) ক্ষেত্রে একটি নিদিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই রোগ এমনিতেই সেরে যায়।
কারন
দেহে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বিলিরুবিন তৈরী হচ্ছে। রক্তকণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন। তাই অনেক ক্ষেত্রে ১২০ দিন বা ০৩ মাস পর দেখা যায় পূর্বের লোহিত রক্ত কণিকার (RBC) ভাঙ্গন জনিত সমস্যায় নতুন রক্ত কনিকা তৈরী হওয়ার কারনে, জন্ডিস ভাব দূর হয়ে এমনিতেই সেরে যায়।
করনীয়
পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। লিভার বা যকৃতের বিশ্রামের জন্য শরবত, প্রচুর আখের রস খাওয়াতে হবে। রুচি থাকিলে ভাত, চর্বি বিহীন মাছ, তরকারী, পাউরুটি, সর ছাড়া দুধ ইত্যাদি দেয়া যাবে। অরুচি বা জ্বর না থাকলে ভিটামিন- বি ও ভিটামিন- সি খাওয়া যাবে, অন্য কোন ঔষধের প্রয়োজন নেই। জন্ডিসের সাথে জ্বর থাকলে, বমি-বমি ভাব বা বমি থাকলে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

