গোল মরিচের ঔষধি গুণ -বিভিন্ন রোগে গোলমরিচের ব্যবহার

Black pepper

গোল মরিচের ঔষধি গুণ

ভাষানুযায়ী নাম : বাংলা-গোলামরিচ, আরবি-ফিলফিল সিয়াহ, ফারসি-ফিলফিল-ই-সিয়া, উর্দু-ফিলফিল সিয়া, হিন্দি-কালিমরিচ, সংস্কৃত-মরিচ বা উষণ, ইংরেজী- English- Black pepper & White Black pepoer, Botanical-Piper nigrum Linn. Family-Piperaceae.

 

পরিচিতি
গোলমরিচ গাছ মোটা লতানো এবং প্রতিটি শাখার সংযোগস্থলে শিকড় হয়। পাতা পাঁপটি শিরাবিশিষ্ঠ ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি লম্বা ডিম্বাকৃতির। বৃন্তদেশ সরু ও গোলাকার। একই গাছে কদাচিত দুই প্রকার ফুল দেখা যায়। বাতাসের মাধ্যমে, এর পরাগায়ন ঘটে। ফল গোলাকার পেঁপের বীজের মতো।
পাকলে লাল হয় এবং শুকনো অবস্থায় কালো; বার্ণ ধারণ করে। ফলের শাঁস পাতলা ও খেঅলবিশিষ্ঠ হয়। গোলমরিচ কালো ও সাদা দুই ধরনের হয়ে থাকে।

প্রাপ্তিস্থান : বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোলমরিচ জন্মে থাকে।

বর্ণ: গোল মরিচগাছ, পাতা সবুজ ও ফল কালো ও সাদা বর্ণের।

স্বাদ: গোলমরিচ ঝাঁজালো স্বাদযুক্ত।

গোলমরিচে বিদ্যমান রাসায়নিক রেডিক্যাল : গোলমরিচে রয়েছে প্লানটাগো ওভেটা, ওলিওগাম রেসিন, এট্রোপিন, সোডিয়াম মিথাইল প্যারাবেন, মাইরিটিসিন।

বিভিন্ন রোগে গোলমরিচের ব্যবহার

প্রেসারের রোগীর ক্ষেত্রে

আনাজ কলা-তরকারি কলাগাছের মাছ থেকে কেটে ফেলে নিচের যে অংশটুকু দাঁিড়য়ে থাকবে তার মধ্যখানে ৪ ইঞ্চি পরিমাণে গর্ত করে একটি ছোট প্লেট দ্বারা ১২ ঘন্টা ঢেকে রাখতৈ হবে, যাতে করে ওখানে কোনো ধুলোবালু বা ময়লা প্রবেশ না করে, ১২ ঘন্টা পরে প্লেট ওঠানোর পরে দেখা যাবে যে কলাগাছের গর্তের মধ্যে পানি জমেছে। অত্যন্ত সাবধানে পানিটুকু একটি গ্লাসে সংরক্ষণ করে তাতে দু’টি গোলমরিচ পূর্ণ মিশিয়ে পরপর ১০ দিন সেবনে প্রেসার সব সময় স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে।

হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ঠ রোগে

৫০ গ্রাম গোলমরিচ, ৫০ গ্রাম কালোজিরা একসাথে চূর্ণ করে এক কাপ সহনীয় গরম পানিতে চা চামচের আধা চামচ পরিমাণ চূর্ণ মিশিয়ে চায়ের মতো করে প্রতিদিন এক থেকে দু’বার সেবনে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ঠ ভালো হয়।

দৈহিক স্থুলতা বা মেদ রোগে

২০০ গ্রাম সাদা গোলমরিচ, ২০০ গ্রাম মুসাব্বর, ১০০ গ্রাম শঅহী জিরা সবগুলো উপদান চূর্ণ করে ৫০ গ্রাম কাতিরা গামের সাথে মিশিয়ে ৫০০ মিলিগ্রাম আকারের বড়ি প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকালে ও রাতে আহারের ১ ঘন্টা পরে সহনীয় গরম পানিসহ দু’টি করে বড়ি সেবনে দেহের অতিরিক্ত মেদভুঁড়ি বা চর্বি মল ত্যাগের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।

মেয়েলি রোগে

২৫ গ্রাম গোলমরিচ, ৫০টি জবাফুল, ১০ গ্রাম জৈন একত্রে পাটায় পিষে গোলমরিচের থেকে একটু বড় আকারের বড়ি প্রস্তুত করে প্রতিদিন সকাল ও রাতে আহারের পর দু-একটি করে বড়ি সেবনে সাদা ¯্রাব, লিউকোরিয়া, অনিয়মিত ঋতু¯্রাব, ঋতুকালীন ব্যথা ও জরায়ুর প্রদাহ ভালো হয়।

যৌন রোগে

১৫০ গ্রাম গোলমরিচ, এক কেজি আলকুশির খোসা ছাড়ানো বীজ পাঁচ কেজি তাজা আমলকীর রসে ভিজিেিয় রোদে শুকাতে হবে। শুকানোর পর পূর্ণ করে ১০ কেজি গাভীর খাঁটি দুধ জ্বাল করে শুকিয়ে ফেলতে হবে এবং এতে দুই গ্রাম সোডিয়াম বেনজোয়েট যোগ করতে হবে।
এরপর ঠান্ডা হও য়ার পর একটি পাত্রে সাংরক্ষণ করে প্রতিদিন সকালে ও রাতে আহারের পর চা চামচের এক চামচ পরিমাণ সেবনে দ্রুত বীর্যপাত রোধক, কামোত্তেজক,বীর্যবর্ধক হিসেবে কার্যকরী।

দন্তরোগ

১০০ গ্রাম গোলমরিচ, ৫০ গ্রাম বচ, ২৫ গ্রাম কর্পূর, দুই গ্রাম পিপারমেন্ট, ৫০ গ্রাম ফিটকারি, ৫০ গ্রাম ক্যালসিয়াম পাউডার একত্রে চূর্ণ করে প্রতিদিন ব্রাশ করলে সর্বপ্রকার দন্তরোগ ভালো হয়।
উপরি উক্ত বিষয় ছাড়াও গোলমরিচ পাকস্থলী, যকৃত, হৃৎপিন্ডের শক্তিবর্ধক, হজমকারক ও পাইলস নাশক।

 

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*