আসুন খাদ্য হিসেবে চালতার গুনাগুন ও চালতার পুষ্টিগুণ জেনে নেই।

খাদ্য হিসেবে চালতার গুনাগুন ও চালতার পুষ্টিগুণ

চালতা বাংলাদেশের একটি গ্রাম্য ফল। আগে গ্রামের সকল জায়গায় চালতা ফলের গাছ দেখা যেত। এটা কেউ চাষ করে না। আপনা আপনিই এই গাছ হতো, গাছটি বেশ লম্বা। চালতা ফলের আকৃতি এবড়ো থেবড়ো বা উঁচু-নিচু। গ্রামে এখনো খুব কম দেখা যায়। ছোট মাছ দিয়ে কাঁচা চালতা কেটে রান্না করে খাওয়া যায়। এটির স্বাদ টক হয়। হিন্দুরা বিশেষ করে এই ফলের অম্ল রান্না করে খায়। পাকা চালতা হালকা কমলা রঙের হয়। কবিরাজরা বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে চালতা ব্যবহার করে থাকেন। মূর্ছা যাওয়া, পেটে বায়ু জমা, শুক্রাল্পতা, প্রসূতির বুকের দুধের স্বল্পতা, মাথার চুলের অল্পতা, সাধঅরণ শারীরিক দুর্বলতা এবং খাদ্যে বিষক্রিয়া ইত্যাদি রোগে চালতা ব্যবহার করেন কবিরাজরা।

প্রতি ১০০ গ্রাম চালতার পুষ্টিমান উপাদানসমূহ

পুষ্টিমানক্যালরি ৫৯ কি,  প্রোটিন ৮%, ফাইবার ২.১-২.৫%, ফ্যাট ২-২.৫%, অ্যাশ ৩.৫৪%, পসফরাস ২৬ মি.গ্রা., ক্যালসিয়াম ১৬ মি.গ্রা. অ্যাসকরবিক এসিড ৪ মি.গ্রা.

বায়ু উৎপন্ন হলে 

বেশির ভাগ সময় দেখা যায় পেট পরিষ্কার না হলে পেটে বায়ু উৎপন্ন হয়। এরকম হলে চালতার রস দুপুরে ও রাতে দুই চামচ করে খেলে পেটে বায়ু উৎপন্ন হয় না। পেট পরিষ্কার থাকে।

শুক্রাল্পতায় 

অনেকের শুক্র খুব অল্প তৈরি হয়। এর কারণে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা থাকে না। এ অবস্থায় পাকা চালতার আঠালো রস সকালে খালি পেটে ও রাতে দুই চামচ দুই সপ্তাহ খেলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

প্রসূতির বুকের দুধ কম হলে

চালতা ভাল করে বেটে সকালে খালি পেটে এক চামচ রস ও বিকেলে এক চামচ রস খেলে বুকে দুধ আসে। তবে যাদের রোগ বা পেটের সমস্যা আছে তারা খেতে পারবে না। কবিরাজদের কথামত চালতা প্রয়োগ করলে এর উপকার পাওয়া যায়। তবে নিজেনিজে কবিরাজি করলে উপকারের পরিবর্তে খারাপ ফল ফলতে পারে।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*