
আম সম্পর্কে কিছু তথ্য ও পুষ্টিগুণ
আম আমাদের দেশের জনপ্রিয় ও অতি পরিচিত ফল। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস আমার সময়। আমাদের দেশে দু’বার আম পাওয়া যায়। ফাল্গুন মাসে যে আমের মুকুল আসে, জ্যৈষ্ঠ মাসে সে আম পাকে। আবার বৈশাখে যে বোল আসে আষাঢ় মাসে সে আম পাকে। একে আষাঢ়ে আম বলে। সম্প্রতি আশ্বিনে আম উৎপাদিত হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে কাঁচা আম ও জ্যৈষ্ঠে পাকা আম পাওয়া যায়। কাঁচা ও পাকা আমের উপকারিতা ও অপকারিতা উভয়ই আছে।
আয়ুর্বেদ মতে কাঁচা আম ত্রিদোষ নাশক। যথা- বায়ু, পিত্ত ও কফ। কাঁচা আম ডাল ও তরিতরকারিতে দিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়। সালাদ বানিয়েও খাওয়া চলে। তবে কাঁচা আম বেশি খেলে ক্ষুধা কমে যায়। রক্তের দোষ ঘটে এবং অনেক সময় জ্বর এসে যায়। কাঁচা আম খোসা ফেলে দিয়ে টুকরো করে রোদে শুকিয়ে আমসি করে রাখে। পরে টক মিষ্টি দিয়ে চাটনি করে খায়। আমচুর খেলে পেট পরিষ্কার থাকে। কফ ও কাশি নাশক।
কাঁচা ও পাকা আমের পুষ্টিগুণ:
পুষ্টি কাঁচা আম পাকা আম
আমিষ ২০০ গ্রামে .০৭ গ্রাম ১.০ গ্রাম
শ্বেতসার ১০.০১ গ্রাম ২০.০ গ্রাম
চর্বি ০.০১ গ্রাম ০.৭ গ্রাম
খনিজ লবণ ০.০৪ গ্রাম ০.৪ গ্রাম
ভিটামিন বি-২ ০.০১ গ্রাম ০.০৭ গ্রাম
ভিটামিন বি-১ ০.০৪ গ্রাম ০.১ মিলি গ্রাম
ক্যালসিয়াম ১০.০ গ্রাম ১৬.০ গ্রাম
লৌহ ৫.৪ মিলি গ্রাম ১.৩ গ্রাম
ক্যারোটিন ৯০.০ মাই গ্রাম ৮৩০০ মাই গ্রাম
খাদ্যশক্তি ৪৪.০ কি: ক্যালো ৯০.০ কি ক্যালো
ভিটামিন সি প্রচুর
কাঁচা আমের সাথে চাঁপাকলা ও গরুর দুধ মিশিয়ে খেলে মেয়েদের প্রদর ভালো হয়। আমের আঁটির শাঁস খেলে ডায়াবেটিস কমে। কাঁচা আমের মোরব্বা পাকস্থলীর ক্ষমতা বাড়ায়। তবে কাঁচা আমের আচার মুখরোচক হলেও অনেকের পেটে গ্যাস উৎপন্ন করে। কোষ্ঠবদ্ধতা হয়। বুক জ্বলে।
পাকা আম
পাকা আমের স্বাদ ও গন্ধের জন্য আমকে ফলের রাজা বলা হয়। বাংলাদেশের রাজশাহীতে সুন্দর সুন্দর নামে আম পাওয়া যায়। যেমন- হিমসাগর, গোপালভোগ, জামাইষষ্ঠী, আশ্বিনা, রসময় আরো কত নামে আম পাওয়া যায়। এগুলোর বৈশিষ্ট্যও আলাদা। কোনো আমে একদম আঁশ নেই একেবারে পেঁপের মতো। কোনো আমে রস বেশি।
ওপরের ছকের পুষ্টিগুণ দেখলে আমের গুণাগুণ সহজে বোঝা যায়। তবে কোনো কিছুই অধিক ভালো নয়। পাকা আমে ঘুম হয়। কিন্তু অধিক খেলে হজমে গোলযোগ হয়। তবে প্রসঙ্গত বলা যায়, আম পাতা, মুকুল, আমগাছের ছালের অনেক ভেষজগুণ আছে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
