মাঝবয়সি মানুষের সিংহভাগই হাঁটুর ব্যথায় কষ্ট পান। হাঁটাচলায় হাঁটুর একটা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। বাতের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়লে হাঁটাচলায় মহা সমস্যা হয়।
কেন ব্যথা হয় ?
হাঁটুর মধ্যে এক ধরনের ফ্লুইড থাকে, যার ডাক্তারি নাম সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। এটি হাঁটুর অস্থিসন্ধির সজীবতা ও মসৃণতা রক্ষা করে। এর ফলে হাঁটাচলা, ওঠবোসের জন্য অস্থিসন্ধির যে ‘ওয়্যার অ্যান্ড টিয়ার’ হয়, তা প্রতিরোধ করে। কোনো কারণে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড নষ্ট হয়ে গেলে এই অস্থিসন্ধিতে নানান ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। অস্টিও আত্রাইটিস, রিউম্যাটয়েড আর্ত্রাইটিস, সিন্টেমিক লুপাস এরিথ্রোমেটোসাস, গাউট বা গেঁটে বাত, চোট আঘাত, অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁটুর ব্যবহার ব্যথা ডেকে আনে। অতিরিক্ত ওজন, টানা দাঁড়িয়ে থাকলে বা হাটু মূড়ে বেশিক্ষণ বসে থাকলেও হাঁটুর বাতের সম্ভাবনা থাকে।
হাঁটুতে ব্যথার সূত্রপাত হলে শুরু থেকেই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে বাড়াবাড়ি রকমের ব্যথার হাত থেকে রেহাই পাওয়া পাওয়া যেতে পারে। সঙ্গে নিয়মিত কোয়াড্রিসেপস এক্সারসাইজ করলে পেশি শক্তিশালী হয়ে অস্থিসন্ধির চাপ কমে।
কী কী করা অনুচিত
* অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করবেন না। যারা দাঁড়িয়ে রান্নাবান্না করেন তাদের হাঁটু ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
* হাঁটুতে টাইট নি-ক্যাপ লাগাবেন না। এর ফলে পেশির সমস্যা হতে পারে।
* হাঁটু মুড়ে মেঝেতে বসবেন না।এতে ব্যথা বাড়ে।
* অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি বা সিড়ি ওঠানামা করলেও হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
* যাদের হাঁটুতে অল্পসল্প ব্যথা শুরু হয়েছে তারা হাঁটার উপযোগী গ্রিপ দেওয়া ভালো জুতো পরবেন। হাই হিল পরলে সমস্যা বাড়বে।
* জোরে ম্যাসাজ করবেন না। উল্টোপাল্টা ম্যাসাজ ব্যথা বাড়িয়ে দেয়।
* মোটরসাইকেল বা বাইক স্টার্ট দেওয়ার সময় জোরে কিক করবেন না। হাঁটুতে জার্ক লাগলে সমস্যা বাড়ার পাশাপাশি ব্যথার তীব্রতাও বাড়বে।
* বাস বা ট্রেনে ওঠার সময় তাড়াহুড়ো করলে আচমকা হাঁটুতে লেগে গিয়ে ব্যথা ভয়ানক বেড়ে যায়।
* নিজের ইচ্ছেমতো ব্যথার ওষুধ খাবেন না, এতে সমস্যা বেড়ে যাবে।
কী করবেন
ব্যথার সূত্রপাত হলেই চিকিৎসকের পরামর্শে টেস্ট করানো দরকার। এক্স-রে, টিসি, ডিসি, ই.এস.আর, রিউম্যাটয়েড ফ্যাক্টর টেস্ট করে ব্যথার ধরন জেনে নিয়ে সেইমতো ট্রিটমেন্ট শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে মুড়ে বসবেন না। নিয়মিত হাঁটুর ব্যায়াম করবেন। পারলে সপ্তাহে তিন-চারদিন সাঁতার কাটবেন। ওজন ঠিক রাখতে সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার খাবেন। গাউটের সমস্যা থাকলে রেড মিট ও সমুদ্রের মাছ খাবেন না। ধূমপান, মদ্যপান একেবারেই বন্ধ। ফিজিওথেরাপি ও কিছু ওষুধের সাহায্য নিতে হবে। প্রয়োজনে ইঞ্জেকশন দরকার হতে পারে। তরুণ বয়স থেকেই ব্যায়াম ও সাঁতার কেটে বডি ফিট রাখলে হাঁটুর ব্যথা ব্যতা আপনার ত্রিসীমানায় আসবে না।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

