হতাশা এবং মানসিক স্বাস্থ্য

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    24
    Shares

হতাশা এবং মানসিক স্বাস্থ্য

হতাশার অসাধরণতা

প্রত্যেক শিশুই যেকোনো সময় (সময়ের আবর্তে) দুঃখ অনুভব করতে পারে এবং অনেক কিছুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে থাকে। সাধারণত এই অনুভূতিগুলো কার্যত স্বাভাবিক। তারপরেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রচন্ড ধাক্কা লেগে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ব্যর্থ হয়ে যায় তাদের এই অনুভূতিগুলো।

কিছু কিছু বালক আছে যারা চিরস্থায়ী দুঃখ এবং নৈরাগ্য অনুভব করে থাকে। গুরুতরভাবে হতাশাগ্রস্থ বালকরা বড় ধরণের দুঃখের মধ্যে থাকে। তাদের অসুবিধাগুলো আবেগের পরিপূর্ণতা, শিশুকালের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং স্কুলে যাওয়ার সামাজিক কাজকর্মের বাঁধা দেয়। ফলে তারা তাদের অনুভূতি বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে যেমন- আত্নহত্যা অঙ্গভঙ্গি, নেশাজাতীয় দ্রব্যের অপব্যবহার, বৃদ্ধ জীবন- যাপন পদ্ধতি অবলম্বনে ইত্যাদি করার মাধ্যম।

অন্যদিকে আরও কিছু আছে যারা গুরুত্বর হতাশায় ভোগে এবং তাদের হাতাশার মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর স্থায়ী থাকে এবং তাদের বাস্তব জীবনের সাথে সময়ের সম্পর্ক খুব সামান্যই থাকে। আবার কিছু অল্প বয়সী বালক আছে যাদের সাধারণ মেজাজকে বলা হয় ‘ডিসমিসিক’। তাদের এই সাধারণ মেজাজ কমে যায় এবং হতাশায় পরিণত হয়। ‘ডিসমিসিয়ার’ ক্ষেত্রে একবছরের মধ্যে অসুবিধাগুলো কিছুটা হালকা হয়ে থাকে।

হাতাশাজনক চিহ্ন এবং অসুবিধা হলো দুঃখজনক অবস্থা। সবসময় অস্বস্তিকর অবস্থা, পরিবর্তনশীল মেজাজ, স্মরণশক্তি লোপ পাওয়া, আত্নসমর্পণে অনীহা, আশাহীন অনুভূতি, চিন্তাধারা এবং মনোযোগের ক্ষমতা কমে যাওয়া। এই উপসর্গগুলো শিশুর অভিজ্ঞতা, ধারণা এবং প্রতিক্রিয়ার অনিশ্চিত রূপ। ফলে শিশুরা তাদের জীবন এবং ভবিষ্যতকে ভয়ানকরূপে দেখে থাকে।

একটি বালকের আবেগের অসাধরণতা মাঝে মাঝে হাতাশাজনক ও উৎফুল্ল মেজাজের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে। একেই বলে ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’ বা ম্যানিক ডিপ্রেসিভ সিঅর্ডার। বাইপোলার ডিসঅর্ডারের বৈশিষ্ট্য হলো উৎসাহমূলক উচ্চশিক্ষা যা হতাশার অনেক শ্রেণীগত ঘটনায় পরিণত হয়। কিছু কিছু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই মেজাজ অন্যদের তুলনায় পরিবর্তনশীল। অপর শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের উচ্চ চিন্তাধারা এবং নিচু চিন্ত ধারার সংমিশ্রণ একই সাথে ঘটে থাকে। ম্যানিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্রোধপ্রবণ মেজাজ থাকে।

‘ম্যানিক’ অবস্থায় একটি বালকের মাধ্য আত্নসম্মানবোধ থাকে। তার বক্তব্য স্থায়ী হয় এবং একই সময়ে একটি ধারণা বা একটি বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত জ্ঞানের পার্থক্য হয়ে থাকে। একটি ম্যানিক শিশু হতবুদ্ধিসম্পন্ন, বিশ্রামহীন এবং খুব কম ঘুমায়। খুবই আশঙ্কাজনক ব্যাপার হলো সে আবেগ প্রণোদিত খারা কাজে লিপ্ত হতে পারে যা স্কুল এবং সমাজ জীবনের জন্য ক্ষতিকর।

যখন এরকম অসাধরণতা ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন এই মেজাজ ব্যতিক্রমীকে বলা হয় ‘সাইক্লোথিমিক ডিসঅর্ডার’ বা অসাধারণতা। ম্যানিক এবং হতাশার প্রাসঙ্গিক বহু ঘটনা একটি শ্রেণী এবঙ একটি সময়ের মধ্যে ঘটে কোনোরূপ বাঁধাবিঘ্ন ছাড়া। যেসব শিশুর বয়স নায় বছরের নিচে তাদের দুঃখ, ম্যানিক এবং ছুটাছুটর সংমিশ্রণে ঘটে। এতে অতিরিক্ত মেজাজের পরিবর্তন হয় এবং ক্রোধপ্রবণ থাকে। বড় শিশুদের ক্ষেত্রে শ্রুতিমধুর কথাবার্তা এবং উলাসের বিভিন্নরকম পরিবর্তন হয়। ফলে তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয় এবং যখন বয়োসন্ধিকাল শুরু হয় তখন প্রচুর পরিমাণে হতাশা আসে এবং ম্যানিক উত্তেজনা বেড়ে যায়।

যেসব বাচ্চাদের দ্বিমুখী রোগ থাকে তাদের পক্ষে এই অসুবিধাগুলো সহ্য করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত কার্যক্ষম এবং অসঙ্গত যোগাযোগের কারণে তাদের মুখের ভাষা হয় বিক্ষিপ্ত, শ্রদ্ধাভক্তিহীন এবং উচ্চঙ্খৃল যৌন আচরণের দিকে ইঙ্গিতকারী।

বিভ্রান্তি এবং বিপদজ্জনক আচরণ একটি বড় অসুবিধা। যেমন- চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড় দেয়া। এরকম ম্যানিক শিশুর আরও অনেক পদক্ষেপ থাকে যেমন- সে খেতে চায় না, ঘুমায় না ফলে এক মুহূর্তেই শিশু হয় উপহাসের পাত্র। তখন সে অপরকে দোষারোপ করে থাকে তাকে ঠাট্টা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য।

এটা সম্ভব যে, হতাশা এবং ম্যানিক রোগের প্রারম্ভিক মুহুর্তে এই দুটির মধ্যে একটি জটিল সম্পর্ক থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শরীরের জৈবরসায়েনের পরিবর্তনের ফলে মেজাজের পরিবর্তন হয়। অনেক সময় মেজাজের পরিবর্তন পৈত্রিক জিন থেকেও আসে।

যখন পিতামাতার আবেগের অসাধারণতা ঘটে এবং চিকিৎসা করা না হয় তখন তাদের সামর্থ্য দায়িত্বশীলতা এবং সমাঝোতার সমন্বয়ে পরিণত হয়। দ্বিমুখী অসুস্থতার কারণে শ্রেণীভিত্তিক প্রাসঙ্গিক ঘটনা, একটি বয়স্কব্যক্তির সামর্থ্য পিতামাতার কাছে অনিশ্চিয়তার ধারনায় পরিণত হয়। যখন পিতামাতা হতাশায় ভোগে তখন শিশুরা তাকে কম দায়িত্বশীল মনে করে এবং পিতামাতার মধ্যে শিশুদের মতো হতাশার অসুবিধা দেখা যায়।

হতাশা অবিশেষিত দুঃখের উপাদানে প্রতিফলিত হতে পারে, বাস্তব বা কাল্পনিক আকারে। হতাশা আরও প্রমাণ করে যে, শিশুদের আশাহীন অনুভব করতে হবে। হতাশাজনক চিন্তা জীবনকে না বোধক আশাহীনতা ও আত্নপরাজিত অবস্থায় পরিণত করে এবং এগুলোই হচ্ছে হতাশার অনুভূতি।

শিশুকাল ও বয়োসন্ধিকালেই কিশোররা হতাশার কিছু কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে। হতাশ ছেলেমেয়েদের জীবন ব্যবস্থাটা আশাহীন, বিশৃঙ্খল, অবহেলা এবং নিন্দাপূর্ণ ইস্যুর সমন্বয়ে বেড়ে ওঠে।

হতাশা এবং দ্বিমুখী রোগ একটি শিশুর সামাজিক জীবন ও উন্নতির ক্ষেত্রে বাঁধা দেয়। হতাশা স্কুল জীবনের কাজকর্মের অবক্ষয় সৃষ্টি করে। স্কুলের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের কাজে সে আনন্দবোধ হারিয়ে ফেলে এবং মাথাব্যথা, পেটেব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক অসুবিধার সম্মুখীন হয়।

অসুবিধাসমূহ:

০১.   নিরাম হওয়া একটি প্রকাশভঙ্গি। দ্বিমুখী রোগের ক্ষেত্রে ‘সবিয়াম’ হতাশার প্রাসঙ্গিক ঘটনার একটি শ্রেনী।

০২.   স্থায়ীরূপে দুর্বল এবং শক্তিলোপ পায়

০৩.   ক্ষুধামন্দ্য বা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা জাগে।

০৪.   চিন্তাধারায় ব্যতিক্রম বা সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করে।

০৫.   নিজেকে দুষ্ট মনে করার অনুভূতি, নীরব ক্রোধ অথবা নিজেকে নীরবভাডবে দোষী মনে করা।

০৬.   আত্নহত্যার চিন্তা বা মৃত্য সম্বন্ধে গভীর চিন্তা করে।

০৭.   স্কুলে লেখাপড়ায় অধঃপতন হয় এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে বা অন্য কাজকর্মে অধঃপতন পরিলক্ষিত হয়।

০৮.  সামাজিক কাজকর্মের মধ্যে আনন্দ পায় না।

০৯.   মাথাব্যথা, মাংসপেশিব্যথা, বাহু এবং পা ভারি অনুভব করে।

১০.   হতাশা, রোগের সাথে যখন ম্যানিক অসুবিধা থাকে তখন রোগীর মধ্যে আত্নসম্মানবোধের একটি স্ফীত অনুভূতি থাকে। একই সাথে থাকে জোরে কথা বলার শক্তি, দ্রুত চিন্তাভাবনার শক্তি এবং আবেগপ্রণোদিত আচরণ।

ডাক্তার কী যত্ন নেবেন?

স্থায়ী তন্দ্রা এবং আনন্দাদয়ক ঘটনায় আনন্দ কম পাওয়া যেমন- বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের ব্যাপারে, বিভিন্ন বন্ধুদের সাথে মেলামেশায় এবং বিভিন্ন শখের ব্যাপারে হতাশা বা আত্নহত্যঅর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ইতিহাস। নিজে নিজের অঙ্গচ্ছেদ করা বা কান্না নিজেকে ধ্বংস করা এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করা। কান্না অবস্থা, নোশাজাতীয় দ্রব্য না পাওয়ার পর মনের অবস্থা, ইচ্ছাশক্তি লোপ পাওয়া, নির্বোধ বা ছুটাছুটি অবস্থা।

ঘুমের পরিবর্তন, বয়সের তুলনায় ওজন কম বা ওজন বেশি হওয়া। ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তণ, গলার স্বর ছোট হওয়া, না বোধকভানে নিজেকে তুলনা করে যেমন- ‘আমি নির্বোধ’, কেই আমাকে ভালোবাসে না, আমি খারাপ, মৃত্যুকে ভালো মনে করে মন্তব্য, ইত্যাদি। এ ব্যাপরগুলোর দিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক গুরুত্ব দেবেন এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসা চালাবেন।

আপনি কী করতে পারেন?

এটা সর্বদা অনুধাবন করা যায় না। তবে যখন একটি শিশুর আচরণ এবং মেজাজ কর্কশ মনে হয়, তখন আপনার কাজ হবে তাকে সাহায্য করা এবং তার সাথে কথা বলা। তার দুঃখকে স্বীকার করুন এবং তাকে বুঝতে সহায়তা করুন- সে নিঃঙ্গতা ও অপর্যাপ্তা সম্বন্ধে নীরব ক্রোধে আক্রান্ত নাকি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে শিশু যখন অনুভব করবে এগুলো অস্বাভাবিক তখন এই অনুভূতিগুলো দূর হয়ে যাবে।

ভদ্রভাবে তাকে কাজ-কর্মের মধ্যে নিয়োগ করুন। যে কাজে সে আনন্দ লাভ করবে এবং যে কাজে সে অধিকতর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারবে এমন কাজ। যখন আপনার সম্পাদনা এবং তার সামর্থ্য সম্বন্ধে উচ্চধারণা পোষণ করবে তখন তার মধ্যে আন্তসম্মানবোধ বৃদ্ধি পাবে এবং এটাই তার হতাশাকে দূর করবে।

যদি সম্ভব হয় তাকে তার বন্ধুবন্ধবীদের সাথে যোগাযোগ করতে সহায়তা করুন। তাকে ভ্রমণ এবং ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন এবং তার বন্ধু বান্ধবীদের সাথে কথা বলুন যেন তার অনুভূতি সকল বন্ধুদের অনুভূতির সাথে মিলে যায়। তার মনের অসংলগ্ন আচরণ যেন উদিত হতে না পারে এবং ধ্বংসাত্নক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে। এই সমস্ত নিয়ামাবলী যদি সাহার্য্যপূর্ণ না হয় তখন আপনার শিশুর জন্য প্রার্থনা করুন আল্লাহর দরবারে।

চিকিৎসা:

নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে একটি শিশুর মেজাজের বিকৃতির চিকিৎসা আরম্ভ করতে হবে। তবে কিছু বিষয় আগেই পরিহার করতে হবে- প্রিয়জন বিয়োগের বেদনা, নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করে এমন যে কোনো ইস্যু।

ডাক্তার রোগীর পরিবারের প্রতি যত্ন নেবেন এবং রোগীর রোগের বহিঃপ্রকাশের ইতিহাস জানাবেন।

যখন হতাশার পরিমাণ অল্প মনে হবে তখন একজন ভারো সাইকোথেরাপিস্টের মাধ্যমে রোগীকে সাইকোথেরাপি দিতে হেব যেটা রোগীর সব অসুবিধা দূর করতে সহায়তা করবে। যাইহোক, হতাশা যদি খুব গুরুতর হয় তখন ব্যাপক চিকিৎসা করতে হবে।

একটি গুরুতর হতাশাগ্রস্থ শিশু রোগীর ক্ষেত্রে ভালোবাভে অনুধাবন করতে হবে যে, তার আত্নহত্যার ঝুঁকি আছে কি না এবং আত্নহত্যার কোনো আচরণ সে করছে কি না এবং এই সম্বন্ধে কোনো পরিকল্পনা তার কিনা । যদি এমন কিছু করে থাকে তাহলে তাকে হাসপাতালে ভর্তির উপদেম দিতে হবে। মাঝে মাঝে ঘটনা নাটকীয়ভাবে মোড় নেয়। অনেক ক্ষেত্রেই তারা আত্নধ্বংসকারী হয়। এরূপ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার।

একটি গুরুত্বতর হতাশাগ্রস্থ রোগীর চিকিৎসা সাইকোথেরাপি এবং হতাশার বিপরীত ওষুধ দেয়ার সমন্বয়ে গঠিত, যা রোগ ভালো করার জন্য কাজ করে না। তখন মানসিক রোগের ওষুধ রোগ উপশম করতে সহায়তা করে এবং রোগের আচ্ছাদিত অংশের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় ফলে রোগী ও চিকিৎসার মাঝে একটি সেতু বন্ধন তৈরি হয় যা সামাজিক কাজকর্ম এবং ব্যবসার উন্নতির ক্ষেত্রে পূর্ণবন্ধন সৃষ্টি করে।

মানসিক রোগের ডাক্তার আপনার শিশুর হতাশা রোগ নিরূপণ করবেন। কারণ তারা শিশুদের সাথে বিভিন্নভাবে কাজ করে অভিজ্ঞ। তাই শিশুকে সুস্থ্য করার জন্য ডাক্তারের সাথে শিশুকে খাপ-খাওয়ানো দরকার।

যখন ম্যানিক রোগ হতাশাজনক অসুবিধা আকারে থাকে তখন সাইকোথেরাপি এবং ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়। লিথিয়াম মেজাজকে শক্ত করে অনেক গুরুতর অসুবিধা উপশম করে। এর পাশ্বপ্রতিক্রিয়া হলো পাকস্থলীর কাজে ব্যাঘাত, বমিবমি ভাব, ক্ষুধা বৃদ্দি পাওয়া, ওজন বেশি হওয়া, বিছানা ভেজানো এবং হাত-পায়ে কম্পন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ওষুধের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং ডাক্তারের সাথে রোগীর সবসময় যোগাযোগ রাখা খুবই দরকার যতক্ষণ পর্যন্ত না রোগের ফলাফল স্বাভাবিক হয়।

যখন শিশু স্থির এবং বিপজ্জনক পর্যায়ে থাকে তখন সাইকোথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। সাইকোথেরাপি শিশুর মনকে শক্তিশালী করে যখন অসুবিধাগুলো খোলাখুলি আলোচনা হয়।

বড় শিশু এবং সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে যারা তাদের অসুবিধাগুলো খোলাখুলি বলতে পারে তাদের জন্য খেলাধুলার উপদেশ হতাশাজনক অনুভূতি এবং সঠিক ধারণার মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ সৃষ্টি করে। খেলাধুলার মাধ্যমে একটি হতাশাগ্রস্থ শিশু বিভিন্ন অসুবিধা যেমন- শক্তিহীন, আক্রমণাত্নক মনোভাব খেলার সাথীদের সাথে মিশে এই অসুবিধাগুলো সহজে কাটিয়ে উঠতে পারে।

যেখানে একটি বিশেস অবস্থা বা ঘটনা হতাশার কারণ হয়। পরিত্যাগ অর্থাৎ থেরাপি তখন একটি শিশুকে তার হতাশার অনুভূতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেয় এবং কিছু গ্রহণ করারও সুযোগ দেয়।

প্রায়ই সাইকোথেরাপির বড় শিশুদের ক্ষেত্রে একটি ফোরাম বা কর্মপরিচলনার পদ্ধতি তৈরি করে যার মাধ্যমে তারা ভ্রান্ত চিন্তাধারা পরীক্ষা করতে পারে। ভ্রান্ত চিন্তাধারা তাদের নিজেদের মধ্যে এবং পরিবেশের মধ্যে মতামত তৈরি করে।

গ্রুপ থেরাপি শিশু এবং বয়োসন্ধিদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা তৈরিতে সহায়তা করে। একটি বিশেষ সহায়তার সম্মিলিত গ্রুপ সামাজিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে যা তাদের নৈপুণ্য জয়ের এবং আত্নসম্মানবোধের একটি বড় ধারণা তৈরি করে যেসব পরিবারের সদস্যরা হতাশা এবং ম্যানিক ডিসঅর্ডার  নিয়ে বসবাস করেন তারা অন্যদের সাহায্য পাওয়ার অধিকার রাখেন।

পারিবারিক থেরাপি অনেক সময় হতাশাগ্রস্থ রোগীরা তাদের কিছু আচরণের পরিবর্তন চায় যে আচরণগুলো সাধারণত তিক্ত। যেমন পরিবারিক প্রজন্মের সামাজিক সীমাবদ্ধতা, বৈবাহিক বিবাদ, শক্ত এবং বিশৃঙ্খল নিয়ম কানুন, শিশুর প্রক্ষেপণ বা অবহেলিতম, বেশি লোকের মধ্যে আত্নীয়তার সম্পর্ক- শিশুর আবেগের অসাধারণতা, আলোচনার পদ্ধতি। অতিরিক্তভাবে পরিবারের অন্য হাতাশাগ্রস্থ সদস্যদের সনাক্ত করা হয়।

কখন চিকিৎসা দরকার

যখন আপনি লক্ষ্য করবেন যে আপনার শিশু অর্থহীন চিন্তায় ব্যস্ত তখনই আপনি তাকে তাড়াতাড়ি পেশাগত সাহায্যের জন্য বিবেচনা করবেন।

হতাশার অসুবিধাগুলো যখন বিশেষভাবে স্থায়ীত্ব লাভ করে বা গুরুতরভাবে সামাজিক এবং উন্নতির কাজকর্মে বাঁধা দেয় তখন শিশু বা তার পরিবারের একার পক্ষে চিকিৎসা করা সম্ভব হয় না। যদি আপনার শিশুর হতাশা চলতেই থাকে তখন শিশু বিষেজ্ঞের নিকট মানসিক রোগের উপসর্গগুলোর নাম জানার জন্য প্রশ্ন করুন।

উন্নতি

শিশু চিকিৎসার সাথে পিতামাতা যত বেশি জড়িত হবেন এবং ডাক্তারকে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করবেন শিশুর চিকিৎসার ফলাফল ততো তাড়াতাড়ি পাবেন। যা শিশুকে পুণরায় ভালো কাজ করতে উদ্ধুদ্ধ করবে।

আরও পড়ুনঃ মানব ব্রেইন! মস্তিষ্কের ডান এবং বাম অংশ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × five =