শিশুদের নাভির হার্নিয়া বা কনজাইনেটাল হার্নিয়া

কনজাইনেটাল হার্নিয়া

মা-বাবার উদ্বেগ

দুই মাসের শিশু ফাহিমা। কান্নাকাটি করে পেট ফুলে থাকে। মা-বাব লক্ষ করেণে তার নাভিটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটি বড় । কান্না করলে আরো ফুলে যায়। বাব-মা চিন্তিত নাভির কিছু হলো না তো। ফাহিম সুস্থ থাকবে তো। ছুটে আসেন শিশুবিশেষজ্ঞের কাছে।
নাভি ফুলে যাওয়া বা ছোট আকারের বেলুনের মতো হওয়া। হাত দিয়ে চাপ দিলে ছোট হয়ে ভেতরে ঢুকে যাওয়া, আবার কান্না করলে ফুলে শক্ত হওয়া ইত্যাদি আমব্লিকাল হার্নিয়া বা নাভির হার্নিয়ার লক্ষণ।

হার্নিয়া কী:

পর্দায় আবৃত কোনো কিছুর মধ্যে অন্য কিছু প্রবেশ করা এবং বের হয়ে আসাকে হার্নিয়া বলে। জন্মের পর নাভি শুকোতে ৭-১০ দিন লাগে। নাভি শুকিয়ে গেলেও দেখা যায় ইনফেকশন হয়ে যায়, যদি এটা বন্ধ হতে দেরি বা অপরিপক্বভাবে বন্ধ হয় তাহলে ওই জায়গায়টা দুর্বল থাকে। পেটের থাকে। পেটের চাপে ওই দুর্বল স্থান দিয়ে পেটের পর্দা বা ঝিল্লি, ইনটেসটাইন বা ক্ষুদ্রায়তন্ত্র বের হতে চায়। ফলে নাভি ফুলে বেলুনের মতো হয়। ফলে নাভি ফুলে বেলুনের চলে যায় এবং হাতে বুদবুদের মতো অনুভুতি পাওয়া যায়।

কারণ কী:

আমব্লিকান হার্নিয়া সাধারণত কৃষ্ণবর্ণ গোত্রদের এবং কম ওজনের শিশুদের হয়ে থাকে। হার্নিয়াটি নরম হবে। শরীরের চামড়া দ্বারা ঋবৃত থাকবো। কান্না করলে, কাশি দিলে এবং পেটের চাপে বৃদ্ধি পাবে এবং ফুলে বড় হবে। আর এটা অতি সহজে হাত দিয়ে চাপ দিলে নাভির সাথে ফাইব্রাস যে রিং আছে তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাবে মনে হবে কিছুই নেই। আসলে তেমন কোনো কারণ পাওয়া যায়নি।

কী থাকে এর মধ্যে:

এই হার্নিয়ার মধ্যে অমেন্টাস বা পেটের ভেতরে যে পর্দা বা ঝিল্লি থাকে এবং স্মল ইনটেস্টাইন বা ক্ষুদায়তন্ত্রের অংশবিশেষ থাকে। এরা আকার এক সেন্টিমিটার থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার হতে পারে। এর চেযেও বড় হতে পারে, কিন্তু কম দেখা যায়। ফলে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। এমনকি বড় ধরনের হার্নিয়া হলেও (৫-৬ সেন্টিমিটার) চিকিৎসা ছাড়া পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। হার্নিয়া যদি বাধাপ্রাপ্ত হয় বা যাওয়া-আসা বন্ধ হয়ে যায়(স্ট্রাংগুলেশন), যা খুবই কম হওয়ার আশঙ্কা থাকে তখন অপারেশন করতে হয়। পাঁচ বছরের পরও যদি হার্নিযা থাকে তাহলে চিন্তা ভাবনা করে সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী পপারেশন করা যেতে পারে। যদিও এর প্রয়োজন হয় না।

সুতারাং আমব্লিকাল হার্নিয়া বা নাভি ফুলে যাওয়া দেখে অস্থির না হয়ে শিশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সেভাবে চলুন।

আরও পড়ুনঃ শিশুদের অন্যতম একটি সমস্যা ডাউন সিনড্রোম

 

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*