শিশুদের একজিমা হলে যা করণীয়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 669
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    669
    Shares
শিশুদের একজিমা

শিশুদের একজিমা

শিশুদের অতি সাধারন একটি চর্মরোগ একজিমা বা এটোপিক ডার্মাটাইটিস। যেসব শিশুদের এ ধরণের চর্মরোগ দেখা দেয় তাদের পিতা মাতারা বছরের পর বছর ধরে ডাক্তারের কাছে ছুটুছুটি করেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কোন সুফল পাননা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের চর্মরোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভূল চিকিৎসার ঘটানাও কম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের যেকোন ধরণের চর্মরোগ হলে হলে প্রথমে পিতা-মাতাগণ শরাণাপন্ন হন শিশু বিশেষজ্ঞগণের কাছে। প্রাথমিক চিকিৎসটা পায় শিশুরা সেখানে। কিন্তু শিশুদের চর্মরোগ চিকিৎসা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে শিশু বিশেষজ্ঞগণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করছেন অথবা অপ্রোয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভূল চিকিৎসার ঘটনাও ঘটছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই শিশুদের চর্মরোগের চিকিৎসা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞগণই করে থাকেন। পেডিয়াট্রিক ডার্মাটোলজি বিভাগ নামে শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা বিভাগ।

বাংলাদেশেও শিশু ডার্মাটোলজির ক্ষেত্রে পৃথক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ গ্রুপ গড়ে উঠতে পারে। এতে বাণিজ্যিক সুবিধার পাশাপাশি স্পেশালিটি গড়ে উঠতে পারে।শিশুদের একজিমার প্রধান উপসর্গ হলো শরীরের বিভিন্ন স্থানে র্যাশ উঠে এবং চুলকায়। অনেক সময় চুলকানোর স্থান লাল হয়ে যায় এবং কিছুটা খসখসে হয়ে যায়। এমনকি আক্রান্তস্থান থেকে তরল জাতীয় ফ্লাইড নি:সরিত হতে পারে। শিশুদের এটোপিক ডার্মাটাইটিস ৫ ধরণের একজিমা অত্যন্তভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আমি শিশুদের একজিমার চিকিৎার চাইতে শিশুর পিতা-মাতাদের গাইড করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি বেশি। এতে বাবা-মারা শিশুকে বারবার ডাক্তারের কাছে নেয়ার পরিবর্তে ঘরে বসেই যথাযথ চিকিৎসা দিতে পারেন। তবে একজিমা কিনা তা জানার জন্য প্রথমে প্রয়োজন যথাযথ ডায়াগনসিস।

অনেক ক্ষেত্রে গরম র‌্যাশ, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও সেরারিয়াসিস এর সঙ্গে প্রায় একই রকম দেখা যায়। তবে শরীরের অন্যান্য স্থানেও হতে পারে। এটোপিক একজিমা চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমে কতগুলো অতিসাধারণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হবে। যেমন: আক্রান্তের ধরন দেখে ও বুঝে উপযুক্ত এন্টিবায়োটিক, উপযুক্ত কোন সেটরয়েড ব্যবহার, চুলকানোর জন্য কোন ভালো ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ঠিক করবেন কোন ধরণের ওষুধ শিশুর জন্য প্রয়োজন । এছাড়া নন ষ্টেরয়ডাল ক্রিমও দেয়া যায়। মনে রাখতে হবে ক্ষারযুক্ত সাবান, গরমপানিতে গোসল, সিনথেটিক কাপড়, এলার্জিক ফুড, গরম আবহাওয়া আক্রান্ত শিশুর রোগের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

তাই শিশুদের একজিমা প্রতিরোধে পিতামাতার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী। শিশুর ত্বকে যে কোন ধরণের র্যাশ হলে প্রাথমিক অবস্থায় কোন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে যে কোন ধরনের ময়েশ্চারাইজার লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। শিশুকে এলার্জিক ফুড যেমন: বেগুন, চিংড়ি মাছ, ইলিশমাছ খেতে না দেয়াই উত্তম। বিরত রাখতে হবে উলেন বা সিনথেটিক কাপড় পরানো থেকে। রাতে যে কোন ধরণের এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিতে পারেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় যদি ভালো না হয় তবে অবশ্যই কোন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ শিশুর জন্য মায়ের দুধই শ্রেষ্ট খাবার।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × two =