লিভার সিরোসিস চিকিৎসা

লিভার সিরোসিস

লিভার সিরোসিস

সিরোসিস (ইংরেজী ভাষায় Cirrhosis- (ইংরেজি উচ্চারণ: /sɪˈroʊsɪs/ (অসমর্থিত টেমপ্লেট)) বা লিভার সিরোসিস মানুষের যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগের ফল যা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে সৃষ্টি হতে পারে এবং মারাত্মক পর্যায়ের সিরোসিসে যকৃৎ এর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে মানুষের মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। সিরোসিসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে যকৃতের সুস্থ-সবল কলা (tissue) ক্ষয়যুক্ত কলা বা নডিউল (nodule) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে যায় ফলে যকৃত আর কাজ করতে পারে না। সিরোসিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগ এবং যকৃতে সংক্রমণ ছাড়াও দীর্ঘদিন যাবৎ অতিরিক্ত মদ্যপান, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ফ্যাটি লিভার রোগ ইত্যাদি। তবে সিরোসিসের প্রধান কারণ দেশ অনুযায়ী ভিন্ন হয়। যেমন ইউরোপ এবং আমেরিকায় সিরোসিস হয় প্রধানত মদ্যপানের ফলে আর হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের আক্রমেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে প্রধানত, হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আক্রমণ আর ফ্যাটি লিভার লিভার সিরোসিসের পেছনে দায়ী (প্রায় আড়াই হাজার রোগীর উপরে জরীপ চালিয়ে দেখা গেছে )। এছাড়াও অজানা কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে।

এপিডেমিওলজী

প্রতি ১,০০,০০০ জন অধিবাসীর কতজন লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত তার উপরে ভিত্তি করে পৃথিবীর দেশসমূহের অবস্থান। সিরোসিস এবং যকৃতের দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিবছর প্রায় ২৭,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুরুষদের ক্ষেত্রে ১০তম এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ১২তম ছিল।

হেপাটাইটিসের পর লিভারের ক্ষতির অন্যতম কারণ মদ্যপান। দশ-বারো বছর ধরে অনিয়ন্ত্রিত পরিমাণে মদ্যপান করলে সিরোসিস অফ লিভার হতে পারে। সিরোসিস অফ লিভারের ক্ষেত্রে লিভারের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র এবং দেহের ভারসাম্যরও ক্ষতি হয়। চিকিৎসা চলাকালিন মদ্যপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

প্রাইমারি বিলিয়ারি সিরোসিসের ক্ষেত্রে রোগীর নিজের শরীরের ভিতরেই লিভার বিরোধী কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেগুলো ধীরে ধীরে লিভারকে নষ্ঠ করে দেয়। এইচ.আই.ভি আক্রান্ত রোগীদের শরীরে যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাই এদের সিরোসিস হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণ মানুষের তুলনায় এদের বেশি দেখা যায় হেপাটাইটিস-বি ও সি-তে আক্রান্ত হতে। সিরোসিস অফ লিভারের একদম শেষ ধাপে সফল চিকিৎসা হল লিভার প্রতিস্থাপন। লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সিরোসিস হওয়া লিভারকে বাদ দিয়ে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা যায়।

আরও পড়ুনঃ হেপাটাইটিস লক্ষন, ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা (পর্ব- ৩)

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*