বার্জার’স ডিজিজ সবথেকে বড় কারণ ধূমপান

বার্জার’স ডিজিজ

বার্জার ১৯০৯ সারে প্রথম এই রোগের বিবরণ দেন। তাঁর নাম অনুসারে এই রোগের নামকরন হয় বার্জার’স ডিজিজ। এটা অল্পবয়সী পুরুষদের ধমনী বা আর্টারির রোগ। নিম্নাঙ্গের মাঝারি মোটা ধমনী সাধারণত আক্রান্ত হয়। যার জন্য পায়ে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এবং পায়ের আঙুলে ড্রাই গ্যাংগ্রিন হয়। রোগী যখন বিশ্রাম নেয় তখন যন্ত্রণা শরু হয়। শতকরা প্রায় তিরিশ ভাগ ক্ষেত্রে বাহুর পরবর্তী অংশ আক্রান্ত হয়। রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

তামাক জাতীয় পদার্থই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই রোগের কারণ হিসেবে দায়ী। প্রাথমিক অবস্থায় তামাকের নিকোটিন পদার্থ ধমনীর ভাসোস্প্যাজম ঘটায়। এটাকে অটো ইমিউন ডিজিজ বলে মনে হলেও কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেন চিহ্নিত করা যায়নি। অত্যাধিক মানসিক চাপ অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মেল সেক্স হরমোনও একটি বিশেষ কারণ হিসেব চিহ্নিত, কারণ রোগীদের শতকরা নিরানব্বই ভাগ পুরুষ।

ধমনীর মধ্যে থ্রম্বাস তৈরির ফলে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। কিছুক্ষেত্রে আংশিক আবার কিছুক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই রোগে সাধারণত পায়ের পপলিটিয়াল আর্টারি, অ্যান্টিরিয়ার ও পস্টিরিয়র টিবিউল আর্টারি আক্রান্ত হয়। উপর অঙ্গের রক্ত প্রবাহ বিঘিœত হলে ড্রাই গ্যাংগ্রিন হয় এবং হাতের আঙুলের অগ্রভাগ শুকিয়ে যায়।

রোগী প্রাথমিক অবস্থায় হাঁটাচলা করার সময় পায়ে কাফ মাসলে যন্ত্রণা এবং ক্র্যাম্প হয়। এটা হয় রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটার জন্য। রোগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যতটা দুরত্ব হাঁটলে পায়ের যন্ত্রণা শুরু হত সেই দুরত্ব আগের থেকে কমতে থাকে। অর্থাৎ আগের তুলনায় কম হাঁটলেও পায়ের যন্ত্রণা ও ক্র্যাম্প অনুভব করে। যে পায়ের আঙুল আক্রান্ত হয়, সেই পাটি তুলনামুলকভাবে ঠান্ডা হয়। রোগী যখন বিশ্রাম নেয় তখন পয়ে জ্বালা ও যন্ত্রণা অনুভব করে। তাপ দিলে যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়, পা ঝুলিয়ে রাখলে যন্ত্রণা কমে। এর পরবর্তী পর্যায়ে পায়ে আলসার ও গ্যাংগ্রিন হয়। পায়ের এক বা একাধিক আঙুলে গ্যাংগ্রিন হয়।

সমান্য আঘাত থেকে পায়ের আঙুলে ও পায়ের পাতায় সামনের দিক থেকে গ্যাংগ্রিন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই গ্যাংগ্রিন ড্রাই সারা দিনরাত পায়ের যন্ত্রণায় রোগী অস্থির হয়ে পড়ে, মোটেই ঘুমোতে পারে না। যন্ত্রণা উপশমের জন্য পা ঝুলিয়ে রাখতে চায়।
রোগ নির্ণয়

পেরিফেরাল আর্টারি অনুভূতি যদি কমে যায় অথবা সম্পূর্ণ চলে যায় এবং উভয় পায়ের পষ্টিরিয়ার টিবিউল আর্টারির অনুভূতি চলে যায় তাহলে বার্জারস ডিজিজ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি।

আর্টারিওগ্রাফি: প্রায় সব বার্জারস ডিজিজেই অ্যান্টিরিয়র ও পস্টিরিয়র টিবিউল ও ডরসালিস পেডিস আর্টারি সরু হয়ে যায়।

চিকিৎসা :
* ধুমপান সম্পূর্ন বন্ধ রাখতে হবে।
* পায়ে খুব ঠান্ডা বা গরম লাগানো চলবে না।
* পায়ের জুতো আলগা করে পরা উচিত।

আরও পড়ুনঃ ঔষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক হন।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*