রঞ্জন রশ্মি X-ray সম্পর্কে জানা-অজানা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  • 63
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
    63
    Shares

রঞ্জন রশ্মি X-ray সম্পর্কে জানা-অজানা

রঞ্জন রশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। এর অপর নাম এক্স-রে (X-ray)। রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (সাধারণত ১০-০.০১ ন্যানোমিটার) সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে আমরা একে চোখে দেখি না। ১৮৯৫ সালে উইলহেম রনজেন এই রশ্মি আবিস্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগনির্ণয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে রঞ্জনরশ্মি।

বৈশিষ্ট্য

এক্সরে আর সাধারণ আলোর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে। সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 7×10-7m থেকে 4×10-7m এর কাছাকাছি। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-8m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি। সাধারণ আলো দৃশ্যমান এবং বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়। কিন্তু এক্সরে দৃশ্যমান নয়। এক্সরে উচ্চ ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। এক্সরে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাবার সময় গ্যাসকে আয়নিত করে, কিন্তু সাধারণ আলো তা করে না।

ধর্ম

  • এ রশ্মি সরলরেখায় গমন করে।
  • এটি অত্যধিক ভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।
  • এক্সরে তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গ, তড়িৎক্ষেত্র বা চৌম্বকক্ষেত্র দ্বারা এটি বিচ্যুত হয় না।
  • এটির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব ছোট, কম্পাঙ্ক খুব উচ্চ।
  • সাধারণ আলোর ন্যায় এক্সরের প্রতিফলন, প্রতিসরণ, ব্যতিচার, অপবর্তন ও সমাবর্তন হয়ে থাকে।
  • ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর এর প্রতিক্রিয়া আছে।
  • এ রশ্মির আলোক তড়িৎ ক্রিয়া আছে।
  • জিঙ্ক সালফাইড, বেরিয়াম প্লাটিনোসায়ানাইড প্রভৃতি পদার্থে এ রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
  • এটা আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরন।
  • এটি আধান নিরপেক্ষ।
  • এক্সরে অদৃশ্য। সাধারণ আলোক রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভুতি জন্মায় কিন্তু এদের ক্ষেত্রে এমন হয় না।
  • এক্সরে রশ্মি তীব্রতা ব্যস্তানুপাতিক সূত্র মেনে চলে।
  • এটি জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে।
  • এটি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
  • এটি আলোর বেগে অর্থাৎ প্রায় 3×108 ms-1 বেগে গমন করে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহার:

  • স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড়, শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুস্ফুসের কোন ক্ষত, দাঁতের ক্যারিস ইত্যাদির অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
  • সিটি স্ক্যান হল কম্পিউটারের সাহায্যে রঞ্জন রশ্মি দ্বারা গৃহিত চিত্র সমন্বয় করে ত্রিমাত্রিক বা প্রস্থছেদ চিত্র বানাবার ব্যাবস্থা।
  • ক্যান্সারের চিকিৎসায় রঞ্জন রশ্মি বিকিরণ ব্যবহৃত হয়।
  • পরিপাক(Digestive) নালী দিয়ে খাদ্যবস্তুর গমন পথ অনুসরণ, আলসার নির্ণয় ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা হয়।

প্রস্তুতি

  • শরীরের কোন অংশের এক্স-রে করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রোগীকে এক্স-রে  টেবিলে রাখা হয়। পেটের এক্স-রে  করা হলে খালি পেটে করার প্রয়োজন হতে পারে।
  • অলংকার, তাবিজ বা এ জাতীয় ধাতক পদার্থ এক্স-রে ইমেজ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। কাজেই এক্স-রে  করার সময় এগুলো পরা যায় না।
  • সূতি কাপড় পরে এক্স-রে করতে হয়।
  • এক্স-রে চিত্র নেবার সময় শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ রাখতে বলা হতে পারে। এছাড়া এ সময় নড়াচড়া করা যায় না।
  • গর্ভাবস্থায় এক্স-রে ক্ষতিকর হতে পারে। আগে থেকে বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো উচিত।

ঝুঁকি

এক্স-রে  পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত পরীক্ষা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীর নিজে থেকেই এক্স-রে  জনিত ক্ষতি পুষিয়ে নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় এক্স-রে -এর কারণে ত্বকে ক্যান্সার হতে পরে, গর্ভের ভ্রুণের ক্ষতি হতে পারে, ডিম্বাশয় বা শুক্রাশয়ের ক্ষতি হতে পারে। কাজেই চিকিৎকের পরামর্শ ছাড়া এক্স-রে  করা উচিত নয়।

রোগী এবং এক্স-রে  কর্মী ছাড়া অন্যদের এক্স-রে  কক্ষ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ এমআরআই (MRI) সম্পর্কে জানা-অজানা।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × one =