কেন হয় এই পরীক্ষাভীতি
স্ট্রেস হল এমন একটা অবস্থা যা বিশেষ পরিস্থিতে দেহ ও মনে উৎকন্ঠা সহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। পরীক্ষাভীতি হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের স্ট্রেস, টেনশন বা উৎকন্টা যা শুধুমাত্র পরীক্ষার সময়েই হয়।
স্ট্রেস অবস্থায় অর্থাৎ কোনো মানুষ যখন একটা বিশেষ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তখন আমাদের দেহের স্নায়ুতন্তের দেহের বিভিন্ন অংশের কাজসমূহ নিয়ন্ত্রণ করে। আর নিয়ন্ত্রণের মূল কাজটি করে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস ও তার নিয়ন্ত্রণাধীন স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র। স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের দুটি ভাগ আছে-সমবেদী ও বি-সমবেদী। এদের কাজগুলোকে এভাবে দেখানো যায়।
সমবেদী: দুরূহ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরণ করে স্ট্রেসের সৃষ্টি করে এবং শরীরকে সেই পরিস্থিতিতে লড়ার অথবা সেই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে। যার ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, পেশির টেনশন বাড়ে, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়ে, ঘাম হয়, লালা নিঃসরণ কমে অর্থাৎ মুখ শুকিয়ে যায়, হৃৎপিন্ডের গতি বাড়ে।
বিসমবেদী: শিথিলকারী বা শান্তিকামী যা দুরূহ বা বিপজ্জনক পরিস্থিতির অবসান হলে শরীরকে বিশ্রাম নিতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমে পেশির টেনশন কমে, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমে, ঘাম কমে যায় , লালার নিঃসরণ বাড়ে, হৃৎগতি কমে।
একটা অতি পরিচিত উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ সামনে দেখলেন একটা বিষধর সাপ। দেকেই আঁতকে উঠলেন, বিপদের সম্ভাবনা মনে জাগ্রত হল, এটাই হল স্ট্রেস। এই অবস্থায় আপনি কী করবেন ? হয় একটি লাঠি দিয়ে সাপটাকে মারবার চেষ্টা করবেন। এটাই হল লড়াই। যদি সেই মনোবল না থাকে তবে বিদ্যুৎ বেগে সেখান থেকে পলায়ন করবেন।
এরপর আপনি যখন সাপটাকে মেরে বা পলায়ন করে বিপজ্জনক পরিস্থিতিটাকে অতিক্রম করলেন, তখন বি-সমবেদী শিথিলকারী স্নায়ুতন্ত শরীরকে সেই স্ট্রেসফুল অবস্থা থেকে উদ্ধার করে বিশ্রামের উপযোগী করে তোলে।
কিন্তু সমস্যা হল যখন এই দুটি সমাধানের কোনোটিই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয় না। যেমন-সামনে পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী না পারছে তক্ষুণি পরীক্ষা দিয়ে শান্ত হতে, আবার না পারছে পরীক্ষা না দিয়ে কোথাও চলে যেতে। সেই অবস্থায় শরীরে স্ট্রেস মোকাবিলায় প্রস্ততি পর্ব থেমে আছে। ফলে একটি অস্বস্তিকর অনুভুতি জাগ্রত হয়। শুরু হয় মাথার যন্ত্রণা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় সহ যাবতীয় উপসর্গ। এই অবস্থা দিনের পর দিন চলতে থাকলে আসে নানা জটিল শারীরিক ব্যাধি ।
পরীক্ষাভীতি কাটানোর কিছু টিপস
তাহলে এই যে পরীক্ষাভীতি, এটা থেকে পরিত্রাণের উপায় কী ?আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থাকে তো আমরা পাল্টে দিতে পারি না, আমরা একে এড়িয়েও যেতে পারব না। তাহলে লাড়াইয়ের প্রস্ততি নিতে হবে। এক্ষেত্রে যারা টেনশনে ভোগেন, তাদের যেমন ভূমিকা আছে, তার থেকেও বড় ভূমিকা থাকে বাবা-মায়ের। যেসব বাবা-মায়েরা চাকরি করেন, তাদের অনেকে বাকি সময়টুকু সন্তানকে মানুষ করার জন্য যেমন, নেট-ওয়ার্কিং ইত্যাদি বাড়তি রোজগারের আশায় ব্যয় করেন। এটা ছেড়ে রোজ দিনের শেষে অন্তত এক ঘন্টা সন্তানের হোমওয়ার্ক নিয়ে বসুন না। সকাল সকাল জাগা, অল্পবিস্তর শরীরচর্চা, এইসব অভ্যাস তৈরিতে বাবা-মায়ের বিরটা ভূমিকা আছে।
সমবেদী স্নায়ুকে যদি বি-সমবেদী শিথিলকারী, শান্তিকামী স্নায়ু দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা যায় তাহলে শরীরকেও স্ট্রেসের কুফল থেকে মুক্ত করা যায়। এবং তা নিয়মিত ধ্যানের মাধ্যমে, পেশি শিথিল করার অভ্যাসের মধ্যে দিয়ে গড়ে ওঠে। সেই সঙ্গে আমাদের কম্পিটিশনমুখী জীবনযাত্রার পন্থাটাকেও বদলাতে হবে। আর ভালোলাগার বিষয়গুলি অযথা কম্পিটিশনের মধ্যে টেনে আনবেন না। এক্সট্রাকারিকুলার অ্যাক্টিভিটি স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। দয়া করে এগুলোকে স্ট্রেসের কারণ করে তুলবেন না, তাতে সন্তান যাই ফল করুক না কনে, উৎসাহিত করুন আরও ভালো ফল করার জন্য।
তবে ইন্টারভিউ ফোবিয়া কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজের প্রচেষ্টা বেশি জরুরি। চাকরিদাতার সবাই ভালো মেধার পাশাপাশি স্মার্টনেস, আত্মবিশ্বাস, বিভিন্ন ভাষা ও সফ্ট স্কিলের দক্ষতা, বডি ল্যাঙ্গেুয়েজের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাই ভালো কথা বলা, সুন্দর উচ্চারণ, ম্যানার্স বসা, দাঁড়ানো, তাকানো, কন্ঠস্বর ক্ষেপণ, পোশাক নির্বাচনের ব্যাপারগুলো বিশেষভাবে শিখতে হবে এবং বারবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাক্টিস করতে হবে। প্রয়োজনে একজন সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বের সবল ও দুর্বল দিকগুলোকে চিহ্নিত করে সেইমতো নিজেকে পরিমার্জিত করে নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে সাইকোলজিস্টরা কিচু সাইকোমেট্রিক টেস্ট করেন। যেমন ১৬ পি.এফ, এফ.পি.কিউ অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট ইত্যাদি।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

