চিকিৎসক সাহাবী হযরত হারিস বিন কালদা ( রা.)

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

চিকিৎসক সাহাবী হযরত হারিস বিন কালদা

হেদায়েতের পূর্ণ শশী,নবীকুল শিরোমণি সাইয়্যেদুল মুরছালিন খাতামুন্নাবিয়ীন রাসূলে আকরাম (স.) এর মহামূল্যবান পরশপাথর সদৃশ্য বিরল স্পর্শ পেয়ে ধন্য হয়েছেন যে সব মহামানব, তাঁদের মধ্যে হযরত হারিস বিন কালদা (রা.) অন্যতম। তিনিও হযরতের সাহাবায়ে কেরামের (রা.) মতো রাসুল পাক (স.) এর পবিত্র সাহচার্য পেয়ে সময়-কাল-জাতি অতিক্রম ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিলেন। হযরত সাহাব (রা.) গণের অন্তর ছিলো পুত ও পবিত্র, চাল চলন ও আচরণ ছিল সুমধুর ও হৃদয় ছোঁয়ানো। সূক্ষ্ম-বিচার-বিশ্লেষণী মেধা এবং সুদূরপ্রসারণী দৃষ্টি মেলে দুনিয়ার সকল রহস্যাবৃত অজানাভেদকে বিশ্ববাসীর সামনে উদ্ভাসিত করে দিয়েছেন। সে সূত্র ধরেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তাঁদের সুদূরপ্রসারনী দৃষ্টিশক্তি ছিলো অনন্য। বিশেষ করে হযরত হারিস বিন কালদা (রা.) ঐ সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অভূতপূর্ব অবদান রেখে গেছেন, যা আজ সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে ইতিহাসের পাতায় অবলুপ্তির দ্বার প্রান্তে পৌঁছে গেছে। হারিস বিন কালদা (রা.) হেজাজের তায়েফ নামক অঞ্চলে বণি শাকীক গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা জীবন তায়েফেই অতিবাহিত হয়। পরবর্তীতে উচ্চতর জ্ঞানঅর্জনের জন্যে তৎকালীন বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষানগরী পারস্যের (বর্তমান ইরান) নিশাপুরে গমন করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উপর উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করত নিশাপুরে চিকিৎসা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে থাকেন। রাসূলে পাক (স.) এর নবুয়ত প্রাপ্তির পর তিনি পুনরায় নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন এবং ইসলাম গ্রহন করেন। সেই সাথে রাসূলে পাক (স.) এর পবিত্র সংস্পর্শে এসে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বিস্ময়কর অবদান রাখেন। তিনি রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ক্ষেত্রেই বেশি জোরালো ভূমিকা রেখে গেছেন। হযরত হারিস বিন কালদা (রা.) সম্পর্কিত বেশ কিছু হাদীস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হাদীস রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হাদিস পেশ করা গেল।

হযরত সায়ীদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলে পাক (স.) আমাকে দেখতে তশরীফ নিয়ে এলেন। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র হস্ত মোবারক আমার সিনার (বুকের) উপর স্থাপন করলেন। রাসূলে পাক (স.) এর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে গেল। অতঃপর রাসূলে পাক (স.) এরশাদ করলেন, ‘তুমি হৃদরোগে কষ্ঠ অনুভব করছ। তুমি হযরত হারিস বিন কালদা সাক্কিফীর নিকটে যাও। কারণ সে একজন চিকিৎসক । সে যেন মদীনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীচি (বীজ) স পিশে তোমারমুখে ঢেলে দেয়।” আবু দাউদ, মিশকাত।

উপরোক্ত হাদীসে পাক থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়, রাসূলে পাক (স.) এর সাহাবী হারিস বিন কালদা (রা.) একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন। ঐতিহাসিকগণের মতে তৎকালীন আরব বিশ্বের মধ্যে হযরত হারিস বিন কালদাহ (রা.) চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিস্ময়কর অবদান রেখে গেছেন। রাসূলে পাক (স.) এর জীবনীতে যুদ্ধহত সাহাবীদেরকে যাঁদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো তাঁদের মধ্যে হযরত হারেস বিন কালদা (রা.) এর নাম অন্যতম। এছাড়া হযরত আলী (রা.) এর নামও উল্লেখ আছে। তবে হারিস বিন কালদা (রা.) চিকিৎসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। রাসূলে পাক (স.) এর ওফাতেও পরেও কয়েকজন খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে হারিস বিন কালদা (রা.) চিকিৎসা সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তাঁর বহু উপদেশ রয়েছে যা এখনও চিকিৎসা সেবায় বিশ্ববাসীর রোগ প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য আনয়নে বিস্ময়কর অবদান রেখে এসেছে। তাঁর উপদেশাবলীর সামান্য কিছু অংশ নিম্নে পেশ করা গেল :

হারিস বিন কালদা (রা.) বলেন, যার মর্মকথা হল-

⇒১. কেহ যদি দীর্ঘ মেয়াদী রোগমুক্ত জীবন যাপন করতে চায় যদিও চিরস্থায়ী বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, তাদেরকে দুপুরের পূর্বেই আহার এবং সন্ধ্যাতেই রাত্রিকালীন আহার শেষ করা উচিত।
⇒২. অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস থেকে বেঁচে থাকা উচিত।

তিনি আরো বলেন, চারটি জিনিস শারীরকে দুর্বল করে দেয়-

১. ক্ষুধার্ত অবস্থায় সহবাস করা।
২. পেট ভর্তি আহার করেই গোসল করা।
৩. মৃত প্রানীর গোশত ভক্ষণ করা।
৪. বৃদ্ধা মহিলার সাথে সহবাস করা।
হারিছ বিন কালদা (রা.) এর মৃত্যুর সময় নিকটবর্তীকালে, কিছু সংখ্যক লোক তাঁকে আরজ করলেন, আমাদেরকে কিছু নছিহত করুন, যাতে আপনার অবর্তমানে আমরা উপকৃত হতে পারি। তিনি বললেন,
১. যুবতী মেয়ে লোককে বিয়ে করবে।
২. ফল পরিপূর্ণ থাকলে তবেই তা ভক্ষণ করবে।
৩. যে মৌসুমে যে ফল পাওয়া যায়, সেটাই খাবে।
৪. শুধুমাত্র রোগে আক্রান্ত হলেই ঔষধ খাবে।
৫. গরমের মৌসুমে প্রতি মাসে একবার করে তোমার পেট পরিষ্কার করবে।
৬. দূষিত বলগম (কফ) এবং ছফরা (পত্ত) দূর কর তবেই তুমি সজীব নির্মল নীরোগ থাকতে পারবে।
৭. মধ্যাহ্ন আহার শেষে কমপক্ষে চল্লিশ কদম হাঁটাহাটি করবে।

বিশ্ববিখ্যাত অ্যারাবিয়ান চিকিৎসক হারিস বিন কালদা (রা.) আরো বলেন-

  • যদি স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে চাও, তবে টাটকা ও সতেজ পুষ্ঠিকর খাদ্যদ্রব্য , ফলমূল এবং পরিষ্কার নির্মল জীবাণুমুক্ত পানি পান করো।
  • যখন পানি পিপাসা লাগে শুধু তখনই পরিমিত পানি পান করবে।
  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান হতে বিরত থাকতে হবে।
  • দুপুরের আহারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম করতে হবে।
  • ঘুমানোর আগে অবশ্যই প্রাকৃতিক জরুরত অর্থাৎ মলমূত্র পরিত্যাগ করতে হবে।
  • ভারী খাদ্য গ্রহণ অথবা পেট ভর্তি খাদ্য গ্রহণের পর গোসল করা যাবে না।
  • শীতের দিনে ১০ (দশ) বার গোসল করা অপেক্ষা গরমের দিনে একবার গোসল করা উত্তম।
  • রাত্রে মৃত প্রাণীর গোস্ত ভক্ষণষ করা মৃত্যুর নিকটবর্তী পৌছে দেয়।
  • পেটই সকল রোগের উৎস।

আরও পড়ুনঃ ঘাতকব্যাধি এইডস প্রয়োজন প্রতিরোধ

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − nine =