
ছবি ঃ আমলকী
আমলকী সম্পর্কে অনেক অজানা কথাঃ
আমলকী একটি পরিচিত ভেষজ ফল। বহু আগে গ্রামাঞ্চলে আমলকীর গাছ রোপণ করত না। এর কবিরাজি নাম ধাত্রী ফল। ভারতের উত্তর প্রদেশে এই গাছ বেশি দেখা যায়। আমলকীর গাছের পাতা তেঁতুলপতার মতো দেখতে। দুই জাতের আমলকী দেখা যায়-বড় আকারের এবং ছোট। বড় আকারের আমলকীর গাছ অনেকে রোপণ করে। ছোট-বড় যেমন হোক এর গুণ একই। এর বোটানিকব্যাল নাম (Emblica Officinalis Gaertn).
বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে আমলকী ব্যবহৃত হয়ে আসছে আনাদিকাল ধরে। এ ফলটির নাম নিলেই এর সাথে আরো দু’টি ফলের নাম এসে যায়- হরীতকী আর বহেড়া। ত্রিফলা বলা হয়। আমলকী এই ত্রিফলা ত্রিদোষনাশক-যক্ষা, বায়ুপিত্ত ও কফ। কবিরাজি মতে, এই ত্রিদোষই সব রোগের উৎস।
আমাদের আলোচ্য আমলকী। আমলকী অম্লপ্রধান হলেও মধুর, তিক্ত, কষায়, কটু ও লবণ রসকেও ধারণ করে। এ জন্য কেউ কেউ এ ফলকে বলে ‘অমৃত ফল’।
আমলকী বায়ুনাশক। প্রস্রাব পরিষ্কারক। যাদের পেটে বায়ু উৎপন্ন হয় তারা কাঁচা আমলকী কামড়ে চিবিয়ে খান, উপকার পাবেন। আবার যাদের দাঁত নেই, তারা আমলকী বেটে তলপেটে লাগান। পেটে বায়ু বা গ্যাস হবে না। যারা চিবিয়ে খাবেন, তাদের প্রস্রাব সম্পূর্ণ বেরিয়ে যাবে। পেট বর্জ্যমুক্ত হবে। যেসব মহিলার শ্বেতপ্রদর আছে। তারা দেড় গ্লাস আমলকীর চুর্ণ তিন-চার ফোঁটা মিশিয়ে দুই বেলা খান, উপকার পাবেন। যারা অনিদ্রায় ভুগছেন, তারা দু-তিনটি আমলকীর বিচি ফেলে দিয়ে বেটে কাঁচা দুধের সাথে খান, সুনিন্দ্রা হবে।
ডায়াবেটিস রোগীরা রোজ দু-তিনটি আমলকী চিবিয়ে বা রস করে খান, ডায়াবেটিস কমে যাবে। প্রস্রাবে জ্বালা-যন্ত্রণা হলে চার তোলা আমলকীর রস, আধা পোয়া খাঁটি কাঁচা দুধ ও অল্প মিসরি চূর্ণ মিশিয়ে শরবত বানিয়ে প্রতিদিন সকালে খান সাত দিন। জ্বালা-যন্ত্রনা চলে যাবে। প্রস্রাব খোলাসা হবে।
আমলকী কাঁচা ও শুকনো-দুইভাবে ব্যবহার করা যায়। সারা বছর কাঁচা ও শুকনো-দুইভাগে ব্যবহার করা যায়। সারা বছর কাঁচা আমলকী পাওয়া যায় না বিধায় যখন পাওয়া যায় তখন কেটে চুর্ণ করে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এই শুকনো আমলকীও সমান উপকারী। কবিরাজের পরামর্শ মোতাবেক ব্যবহার করে আমরা আমলকীর দ্বারা যথেষ্ট উপকৃত হতে পারি।
আরও পড়ুনঃ নারকেল তেল খাওয়া কি সত্যিই ভালো ?
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
