কেনো তরমুজ খাবেন, কখন খাবেন

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  

তরমুজ আমাদের প্রায় সকলের কাছেই প্রিয় ফল। তরমুজ খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি তরমুজের রয়েছে অনেক উপকারিতা । নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীরের শক্তি বৃদ্ধি পায়। গ্রীষ্মকালের স্বল্পসময়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল তরমুজ। শীতে বীজ বপন করা হলে গ্রীষ্মে ফল পাকে এবং খাওয়ার উপযোগী হয়। এর শাঁস দিয়ে আচার তেরি হয়। আবার পাকা তরমুজের কালো বিচি রোগে শুকিয়ে ভেষজ ওষুধ তৈরী করা হয়। তরমুজ বহু জাতের হয়। তবে বাংলাদেশে মাত্র দু-তিন জাতের তরমুজ উৎপাদন করা হয়।

কেনো তরমুজর খাবেন / উপকারীতা

ব্যথা নিরাময় শরীরের টিস্যু সুরক্ষায়: তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিনি সি যা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত,ব্যথা নিরাময়ে এবং ত্বক, দাঁত এবং মাংসপেশীর সুরক্ষায় প্রতিষেধক। ভিঠামিন সি আমাদের শরীরের জন্য খুব প্রয়োজন। এই ভিটামিন মানব দেহে জমা থাকেনা। তাই নিয়মিত তরমুজ খেয়ে ভিটামিনের চাহিদা পূরন করতে পারি।

স্নায়ু মাংসপেশী সুরক্ষায়: তরমুজে আছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম এটি প্রাকৃতিক ভাবে শরীরে ইলেকট্রো পাওয়ার তৈরি করে যা শরীরের মাংসপেশী ও স্নায়ু সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।

ক্লান্তি দূরীকরণে: গ্রীষ্মে মানুষ সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায় বলেই ক্লান্তি আসে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা এই ক্লান্তি দূরীকরণে তরমুজ দিয়েছেন। ক্লান্তির পর তরমুজের শাঁস বা শরবত খেলে ৫-৬ মিনিটের মধ্যেই ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তবে অন্তত এক বা দুই গ্লাস শরবত খেতে হবে।

শারীরিক শক্তি বাড়ায়: যারা শারীরিক শক্তির দিক থেকে দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। এই ফল শারীরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীরের শক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পায়। বয়স বাড়লে শরীরের শক্তি হ্রাস পায় তাই তরমুজের মৌসুমে বেশি করে এই ফলটি খেলে শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

হৃদরোগ পিপাসায়: পাকা তরমুজ যার ভেতর লাল টকটকে তার রসের সাথে অল্প জিরার গুঁরো মিশিয়ে তার সাথে অল্প চিনি দিয়ে খেলে হৃদরোগের জন্য উপকারী ও পিপাসা নিবারণ করে।

চোখ ভালো রাখে: তরমুজে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিনয়েড। আর তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যারোটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।যে সব লোক রাত কানা রোগে ভুগছেন তারা নিয়মিত তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনার মূল্যবান চোখ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

অপুষ্টিতে: কাঁচা তরমুজের শাঁস কুচি কুচি করে কেটে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে নিতে হবে। এরপর এক কাপ গরম দুধে দুই চামচ তরমেুজের গুড়ো মিশিয়ে সকাল ও বিকেলে খেলে অপুষ্টি দূর হয়। পুষ্টির বিকাশ হয়।

পানিশূন্যতা দূর করে: তরমুজে প্রচুর পরিমাণ পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর সুস্থ ও সতেজ থাকে।

টাইফয়েড জ্বরে: প্রবল পাইফয়েড জ্বরে পাকা তরমুজ বা তরমুজের রস খাওয়ালে জ্বর নেমে আসে।

প্রস্রাব কমে গেলে বা জ্বালাপোড়া হলে: পাঁচ-ছয় গ্রাম পাকা তরমুজের কালো বিচি রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে এক গ্লাস ঠান্ডাপানিতেহ গুলে একটু চিনি মিশিয়ে দু-তিনবার খেলে প্রস্রাব বেড়ে যাবে এবং প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া বন্ধ হবে। তরমুজের বীজ সংরক্ষণ করা যায়। আবার তরমুজ খাওয়ার সময় বিচি চিবিয়ে খেলেও উপকার হয়।

কিডনি সুস্থ্য রাখেন: তরমুজের রস আমাদের কিডনির বর্জ্য মুক্ত করে। তাই কিডনিতে পাথর হলে চিকিৎসকগণ ডাবের পানির পাশাপাশি তরমুজ খাওয়ার নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাছাড়া তরমুজে প্রচুর পরিমানে পানি থাকায় কিডনি সচল রাখতে তরমুজ ভালো ভূমিকা পালন করে। অনেকটা পানির চাহিদা মেটায় গরম কালে তরমুজ।

ত্বক সজীব রাখে: তরমুজে বিদ্যমান ভিটামিন সি ত্বককে সজীব রাখে। পাশাপাশি ত্বকের যে কোন সংক্রমণে প্রতিরোধি ব্যবস্থায় সহায্য করে। লাইকোপিনসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ তরমুজ খাওয়ার অভ্যাসে বাধ্যক্য দেরীতে আসে। মুখে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: তরমুজে থাকা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরন করে।

শরীরের চর্বি কমায়: তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এমাইনো এসিড যা শরীরের কোলেস্টরেল ও চর্বি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া তরমুজে রয়েছে এন্টি অক্সিডেন্ট যা শরীরের জমে থাকা কোলেস্টরেল কমাতে সহায়তা করে।

কখন খাবেন তরমুজ

গ্রীষ্মকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় ফল তরমুজ। গরমে যখন আপনার হাসফাঁস অবস্থা তখন একটি তরমুজের চিলতে বা জুস আপনাকে এনে দেবে শারীরিক প্রশান্তি। কিন্তু অবশ্যই দিনের বেলায় খাবেন তরমুজ। কারণ তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক শর্করা যা হজম হতে অনেক সময় লাগে। যেহেতু রাতের বেলায় হজম কম হয় তাই রাতে তরমুজ না খাওয়ায় ভালো। কারণ তাতে আপনার ওজন বাড়তে পারে। আবার হজমে সমস্যার কারণে তরমুজের মত মিষ্টি জিনিস রাতে খেলে পরের দিন পেট খারাপ হতে পারে। আর যেহেতু তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি তাই বহুবার প্রস্রাব করতে হতে পারে। যা ব্যাঘাত ঘটাতে পারে আপনার ঘুমের।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

বাত ব্যথা প্যারালাইসিস ডিসএবিলিটি ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ

ডিপিআরসি হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাব লি:

১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭, (শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে)

সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১ অথবা ০১৯৯-৭৭০২০০১

মেডিকেলবিডি/আরএম/ ২৩ মে, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × four =