কানের পর্দা ফেটে গেলে

কানের পর্দা ফেটে গেলে

কটন বাড়ের মতো কিছু দিয়ে কান খোঁচানোর অভ্যাস বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কানের ভিতরের দিকে একটি পর্দার মতো থাকে, যা টিমপ্যানিক মেমব্রেন নামে পরিচিত। মধ্যকর্ণ থেকে অন্তঃকর্ণের মাঝখানে এটি পর্দার হিসেবে থাকে।

এটি খুবই স্পর্শকাতর, শব্দতরঙ্গ কানের পর্দায় কম্পন তৈরি করে। এই কম্পন মধ্যকর্ণের ছোট ছোট হাড়ের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণে পৌঁছায়। অতঃপর অন্তঃকর্ণ থেকে মস্তিষ্কে পৌছায়। এভাবে আমরা শুনতে পাই। কিন্তু বহু কারণে এই পর্দা ফেটে যেতে পারে, ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, ছিড়ে যেতে পারে। এতে শুনতে অসুবিধা হয়, কখনো কখনো শ্রবণশক্তি পুরোপুরি লোপ পায়। কানের পর্দা ফেটে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে মধ্যকর্ণে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

পর্দার ফাটার কারণ

কানের পর্দা বিভিন্ন কারণে ফাটতে পারে বা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যেমন:

১. কানের কোনো অসুখ যেমন- মধ্যকর্ণে ক্রনিক সাপোরেটিভ অটাইটিস মিডিয়া হলে।
২. কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচালে। যেমন: কটন বাড
৩. কানে কোনো কিছু প্রবেশ করলে এবং অদক্ষ হাতে তা বের করার চেষ্টা করলে।
৪. দুর্ঘটনা বা আঘাতে কান ক্ষতিগ্রস্থ হলে।
৫. হঠাৎ কানে বাতাসের চাপ বেড়ে গেলে। যেমন: থাপ্পর মারা, বোমা বিস্ফোরণ, অতি উচ্চ শব্দের শব্দ ইত্যাদি কারণে
৬. পানিতে ডাইভিং বা সাঁতার কাটার সময় হঠাৎ পানির বাড়তি চাপের কারণে পর্দায় চাপ পড়লে।
৭. কানের অন্য অপারেশনের সময়ও কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
৮. যাদের কানের পর্দা আগে থেকেই দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্থ, তাদের ক্ষেত্রে নাক চেপে কানে বাতাস দিয়ে চাপ দিলে।

উপসর্গ

১. প্রথমে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, যা পরবর্তী সময়ে কমে আসে
২. কান দিয়ে রক্ত পড়া। বিশেষ করে আঘাতজনিত কারণে কানের পর্দা ফেটে গেলে কান দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।
৩. কানে কম শোনা
৪. মাথা ঘোরানো বা ভার্টিগো
৫. কানে শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) হওয়া।

পরীক্ষা- নিরীক্ষা

অটোস্কোপের মাধ্যমে খালি চোখেই ডাক্তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কানের পর্দা ফেটে গেছে কিনা তা নির্ণয় করতে পারেন। এ ছাড়া কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে আছে কানের ভেতর থেকে বের হওয়া তরলের কালচার পরীক্ষা, টিউনিং ফর্ক এবালুয়েশন, টিমপ্যানোমেট্রি। এগুলো থেকেও যথাযথ রোগ নির্ণয় না করা গেলে অডিওলজি টেস্ট করা হয়।

চিকিৎসা

অনেকেই কানে কোনো সমস্যা হলে নিজেরাই কানের ড্রপ ব্যবহার করে, যা উচিত নয়। কানের পর্দা ফেটে গেলে অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা রোগ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ নেওয়া উচিত। যাদের কানে আগে থেকেই কোনো সমস্যা আছে বা কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার ইতিহাস আছে, তাদের নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলা উচিত

১. কানে কোনোভাবেই যেন পানি প্রবেশ না করে এ জন্য গোসলের সময় কানে তুলা বা ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করা
২. সাঁতার না কাটা
৩. উড়োজাহাজে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা
৪. উচ্চ শব্দে গান না শোনা, হেড ফোন ব্যবহার না করা
৫. কানে যাতে কোনো ইনফেকশন না হয়, এ জন্য কানে কোনো অসুবিধা হওয়ামাত্র ডাক্তার দেখিয়ে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা।
৬. কান না খোঁচানো
৭. নিজে নিজে কোনো ওষুধ দেওয়া থেকে বিরত থাকা
৮. কানে কোনো কিছু গেলে বা আটকে থাকলে নিজে তা বের করার চেষ্ঠা না করা।

জটিলতা:

যথাসময়ে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার চিকিৎসা না হলে শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। এ ছাড়া মধ্যকর্ণে ঘন ঘন ইনফেকশন হয়ে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি বিলোপ হতে পারে। এ ছাড়া মধ্যকর্ণে সিস্ট (কোলেস্টিটোমা) হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ কণ্ঠনালীর সমস্যার কারণ।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*