এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস কি এবং প্রতিকার

এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস

বর্ণনা

এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস (Ankylosing spondylitis) অক্ষীয় কঙ্কালতন্ত্রের দীর্ঘ মেয়াদী যন্ত্রণাদায়ক বাত ব্যাধি, মেরুদণ্ডের সন্ধি বা গাঁটের ব্যথা ও আড়ষ্টতা যার প্রধান উপসর্গ। সেরোনেগেটিভ স্পন্ডাইলো-আর্থ্রোপ্যাথী (Seronegative spondyloarthropathy) বাত রোগসমূহের এক শ্রেণীর নাম। ৮ থেকে ১০টি বাত রোগ এই শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। এই রোগগুলোতে মেরুদণ্ডের সাথে গিঠ/অস্থিসন্ধি এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত একটি ব্যাধি।

অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস হলো মেরুদণ্ডের ইনফ্লামেটরি ডিজিজ। ৩৩ টি অস্থিখণ্ড নিয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। প্রত্যেকটি অস্থিখণ্ডকে কশেরুকা বা ভার্টিব্রা (Vertebrae) বলে। আন্তঃকশেরুকীয় (Intervertrebal) চাকতির সাহায্যে প্রত্যেকটি কশেরুকা একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে। কিন্তু মেরুদণ্ডে প্রদাহ (Inflammation) কারণে প্রত্যেকটি কশেরুকা একে অপরের সাথে লেগে বা আটকে যায়, যা পাঁজরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই অবস্থায়ে একজন ব্যক্তি সামনে, পিছনে, ডানে, বায়ে নড়াচড়া করতে পারে না। এর সাথে শ্বাসকষ্টও হয়ে থাকে। এই রোগের লক্ষণগুলো সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে দেখা দিতে শুরু করে। এই রোগের প্রতিকার এখনো আবিষ্কৃত হয়নি, তবে রিহেব-ফিজিও (Rihab-physio) চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগের লক্ষণ ও ব্যথা কমানো সম্ভব।

কারণ

এই রোগের সঠিক কারণ এখনও জানা যায় নি, তবে মনে করা হয় বংশ বা জীনগত (Gene)কারণেই এই রোগটি হয়ে থাকে। আবার ইনফেকশনের কারণেও এটি হতে পারে। ইনফেকশনকে প্রতিরোধ করার জন্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কিছু রাসায়নিক পদার্থ উৎপন্ন করে যার প্রভাবে মেরুদণ্ডে প্রদাহের সৃষ্টি হয়। যে সকল ব্যক্তির কোষে HLA B27 নামক পদার্থ থাকে, তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই মলিকিউল (Molecule) বংশ পরম্পরায় মা-বাবা থেকে সন্তানের মধ্যে আসে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

পিঠের ব্যথা (Back pain)পিঠের নিম্নাংশে ব্যথা (Low back pain)
নিতম্বে ব্যথা (Hip pain)পায়ে ব্যথা (Leg pain)
হাঁটুতে ব্যথা (Knee pain)সারা শরীরে ব্যথা (Ache all over)
কনুই ব্যথা (Elbow pain)শরীরের নিম্নাংশে ব্যথা (Lower body pain)

 

অস্থিসন্ধিতে ব্যথা (Joint pain)ত্বকে অস্বাভাবিক অনুভূতি হওয়া (Paresthesia)
পাঁজরের হাড়ে ব্যথা (Rib pain)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সব বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়:

✔মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। (M>F)

✔বয়ঃসন্ধিকালের শেষদিকে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

✔যে সকল ব্যক্তির কোষে HLA B27 নামক মলিকিউল (Molecule) থাকে, তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

(ক) এই রোগে আক্রান্ত হলে কি কোনো বিশেষজ্ঞের মতামতের প্রয়োজন আছে কি ?

(খ) এই রোগের প্রতিকার কি ?

উত্তরঃ এই রোগ বা এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য রোগ যেমন বাতরোগ, নির্দিষ্ট কিছু অটোইমিউন ডিজিজ, মাস্কুলোস্কেলেটাল পেইন ডিজঅর্ডার এবং অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হলে রিউম্যাটোলজিস্ট, ফিজিকাল থেরাপিস্ট, রিহেবিলিটেশন থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডা. মো: সফিউল্যাহ্ প্রধান

পেইন প্যারালাইসিস ও রিহেব-ফিজিও বিশেষজ্ঞ
যোগাযোগ:- ডিপিআরসি হাসপাতাল লি: (১২/১ রিং-রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭)
শ্যামলী ক্লাব মাঠ সমবায় বাজারের উল্টো দিকে
সিরিয়ালের জন্য ফোন: ০১৯৯-৭৭০২০০১-২ অথবা ০৯ ৬৬৬ ৭৭ ৪৪ ১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*