ইন্টারনেট এবং মোবাইল গেমিং অ্যাডিকশন
মোবাইল ও ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অংশ। প্রতিটি মুহূর্তে আমরা কিছু না কিছু করি যা মোবাইল এবং ইন্টারনেট-এর সাথে জড়িত। মোবাইল ও ইন্টারনেটের যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। এমনই একটি খারাপ দিক হলো ইন্টারনেট ও মোবাইল গেমিং অ্যাডিকশন। বর্তমানে প্রায় প্রতটি কিশোর-কিশোরী কোনো না কোনো ভাবে ইন্টারনেট ও মোবাইল গেমিং-এর সাথে জড়িত। যার ফলে বাড়ছে ইন্টারনেট গেমিং অ্যাডিকশন। এই অ্যাডিকশন কোনো শারীরিক ক্ষতি না করলেও মানুষকে ভার্চুায়াল জীবনকে প্রাধান্য দিতে শুরু করে।এই (Internet Gaming) কীভাবে আসক্ত করে তা নিয়ে আলোচনা করব। এটি তিন ধাপে বিভক্ত-
প্রথম ধাপঃ
গেমিংয়ের প্রথশ ধাপ খুব সহজ হয়। এই পর্যায় পর্যন্ত গেমাররা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ কররে এবং খেলায় দ্রুত অগ্রসর হয়। গেমাররা অংশগ্রহণ করে দৈনিক প্রতিযোদিতায়; যা তাকে আরও মানোযোগ দিয়ে খেলতে হয়। এই পর্যায়ের নিয়ম হলো যত নিয়মিত খেলবে ততো সুবিধা পাবে। এখান থেকেই শুরু হয় অ্যাডিকশন। দিনের পর দিন খেলোয়াড়রা যখন প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে চাইবে আস্তে আস্তে অ্যাডিকশনও ততো বাড়তে থাকবে এবং এই পর্যায়েল পর শুরু হয় ফাইটিং। না চিন্তা করবেন না বাস্তব জীবনে নয় গেমিংয়ের ভেতরে ফাইটিং।
দ্বিতীয় পর্যায়ঃ
গেম ডেভলপারদের একটি গ্রুপ থাকে যারা সবাইকে আক্রমণ করতে থাকে। এই গ্রুপের বৈশিষ্ট্য হলো তারা অন্যান্য খেলোয়ার থেকে ১-২ লেভেল এগিয়ে থাকে এবং সাবইকে আক্রমণ করে। এতে করে খেলোয়ারের মনে হয় একটু পরিশ্রম বা টাকা খরচ করলেই তাদের সমসাময়িক হওয়া যাবে এবং সেও প্রতিশোধ নিতে পারবে। এতে করে খোলোয়ড়ারা একটা রুটিন করে খেলা শুরু করে এবং আসল জীবনকে নগণ্য মনে করতে থাকে।
এই রুটিনে মারফল খেলোয়াড়রা ডেভলপাদের সাথে প্রতিযোগীতা করতে থাকে। এই কম্পিটিশন ততোক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী হয় যতক্ষণ না খেলোয়াড়রা ১-২ লেভেল উপরে উঠে। পরবর্তীতে আসে তৃতীয় পর্যায়।
তৃতীয় পর্যায়ঃ
এই পর্যায়ের প্রতিটি লেভেল অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয় ফলে তৃতীয় পর্যায়ের পরিশ্রমী খেলোয়াড়রা প্রতি মুহুর্তে বিপদের মধ্যে তার লেভেল উন্নয়নের চেষ্টা করে। এই সময়ে দেখা যায় গেম ডেভলপাররা বিভিন্ন প্যাকেজ কিক্রি করার চেষ্টা করে। এই প্যাকেজগুলো মনে এতটাই চাপ সৃষ্টি করে যে মনে হয় সামান্য কিছু খরচ করলেই লেভেল-এ আরও এগোনো যাবে। যারা কিনতে পারে তারা কিনতেই থাকে আর যারা কিনতে পারে না তারা চেষ্টা করে আরেকটু পরিশ্রম এবং অন্যকে আক্রমণ করে এগিয়ে থাকতে এবং এই পর্যায়ে এসেই খেলোয়াড় পুরো আসক্ত হয়ে যায়। সে যত উন্নতি করতে চেষ্টা করে তাকে তার নিকটবর্তী খোলোয়াড় ততো উৎসাহ দিতে থাকে এবং খেলোয়ার তার বন্ধুদের সাহায্য করতে থাকে। এসময়ে তার মধ্যে মনোভাব এমন হয় যে তার ওপর তার বন্ধুরা নির্ভর করছে। নিয়মিত খেললে সবাই আক্রান্ত হবে। এর ফলে তৈরি হয় একটি দায়িত্ববোধ যা তার আসল জীবনের দায়িত্ববোধ থেকে বেশি প্রাধান্য পায়। প্রতিটি ইম্প্রুভমেন্ট, অ্যাচিভমেন্ট, বিজয় তাকে সেই আনন্দ দেয় যা অনেক পরিশ্রমের পর ভালো রেজাল্ট করলে পাওয়া যায়। এতে করে আসল জীবনে উন্নয়নের আনন্দ উপভোগ থেকে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়।
এভাবেই গেমিং অ্যাডিকশন আমাদেরকে জড়িয়ে ফেলে। এই অ্যাডিকশন অন্যান্য অ্যাডিকশনের মতোই ভয়াবহ। এতে করে বাচ্চারা হারতে থেখে না ফলে খুব সহজে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয় এবং অন্যঅন্য নেশায় জড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ কীভাবে বুঝবেন ইন্টারনেট গেমে আসক্ত?
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

