শ্বাসকষ্ট বলতে আমরা সাধারণত ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর অসুখের কথা ভাবি। যেমন ব্রাঙ্কিয়াল অ্যাজমা। সাধারণভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুস ফুলে-ফেঁপে ওঠে, অক্সিজেন ফুসফুসের মধ্যে টেনে নেয় এবং শ্বাস ছাড়ার সময় সংঙ্কুচিত হয়ে ফুসফুস কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেয়। জন্মের মূহুর্ত থেকে মৃত্যুর পূর্বমূহুর্ত পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে কিন্তু শ্বাস নেওয়া বা ছাড়ার সময় যদি বায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। যাকে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বলে। কিন্তু ফুসফুসের অসুস্থতার কারণ ছাড়াও শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যাকে কার্ডিয়াক অ্যাজমা বলা হয়।
হার্টের নানা অসুখ থেকে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেলিওর। এয়াড়াও কার্ডিওমায়োপ্যাথি, ইস্কিমিক হার্ট ডিজিজ, হার্ট ব্লক, হার্ট ব্লক বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।
হার্টের ভেতরে চারটে চেম্বার আছে। রাইট এট্রিয়াম, লেফট এট্রিয়াম, রাইট ভেন্ট্রিকল এবং লেফট ভেন্ট্রিকল। এই চারটে চেম্বারের মধ্যে লেফট ভেন্ট্রিকলই জোরে পাম্প করে চেম্বারে থাকা রক্ত সমস্ত শরীরে পাঠায়। কিন্তু ব্লাড প্রেসার যদি বেশি থাকে তবে লেফট ভেন্ট্রিকলকে অনেক বেশি জোরে দিয়ে পাম্প করতে হয় শরীরের সমস্ত প্রান্তে রক্ত পাঠাবার জন্য। বেশ কিছুদিন ধরে এভাবে বেশি চাপ দিয়ে রক্ত পাঠাবার ফলে লেফট ভেন্ট্রিকলের আকার বেড়ে যায়, যাকে লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপাট্রফি বলে। লেফট ভেন্ট্রিকলের এই আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে হার্ট মাসলের কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে রক্ত যখন ডায়াস্ট্রোলের সময় লেফট ভেন্ট্রিকল যতটা রিলাক্স হওয়ার কথা ততটা রিলাক্সড হতে পারে না। দীর্ঘদীন এই বেশি প্রেসার দিয়ে পাম্প করার ফলে লেফট ভেন্ট্রিকল ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করেও সম্পূর্ণ ব্লাড চেম্বার থেকে পাঠাতে পারে না। লেফট ভেন্ট্রিকুলার ফেলিওর বা হার্ট ফেলিওর।
আবার ডায়াস্টোলের সময় যখন রক্ত লেফট ভেন্ট্রিকলে প্রবেশ করতে থাকে তখন হাইপারট্রফির জন্য লেফট ভেন্ট্রিকল ভালোভাবে রিলাক্স না করায় রক্ত লেফট ভেন্ট্রিকলে ঠিকভাবে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সেই রক্ত কাছাকাছি কোনো নির্ভরযোগ্য অর্থ্যাৎ লাংসে জমা হতে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত রক্ত লাংসে জমা হওয়ার জন্য লাংসে সঙ্কোচন ও প্রাসরণে ব্যাঘাত ঘটে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। লাংসে যখন অতিরিক্ত পরিপূর্ণভাবে শ্বাস নিতে পারে না। ফলে শরীরে অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়। এবং অতিরিক্ত জলীয় পদার্থ জমা হওয়ার লাংস প্রশ্বাস ভালোভাবে ছাড়তেও পারে না। ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড জমার ফলে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী মৃত্যু মুখে ঢলে পড়ে।
উপসর্গ: লেফট ভেন্টিকুলার ফেলিওর হলে হঠাৎ প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। যার ফলে গলা শুকিয়ে যায়, বুক ধড়ফঢ় করতে থাকে। একটু হাঁটতে গেলেই বুক ধড়ফড় করে। প্রথমে কপাল এবং পরে সমস্ত শরীর ঘামতে শুরু করে। প্রথম অবস্থায় ই.সি.জি করলে লেফট ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি ধরা পড়ে। চিকিৎসা করালে সুস্থ হওয়া যায়।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

