নারকেল এমনই এক সুস্বাদু ও উপকারী ফল, যার কোনো অংশই ফেলা যায় নরা। নারকেল বাংলাদেশের অন্যতম অর্থকরী ফসলও। কাঁচা অবস্থায় এর নাম ডাব, যার পানি অথ্যন্ত সুস্বাদু ও পষ্ঠিগুণে ভরপু। পাকার পর এটাকে বলা যায় ঝুনা নারকেল।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পলিনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় যেখানে প্রধান খাবার হলো নারকেল সেখানকার মানুষের কোলেস্টেরল বা হার্টের সমস্যা অনেক কম। এর কারণ হিসেবে ব্যাখ্যঅ করা হয়েছে নারকেলে যে ফ্যাটি এসিডের চেইনগুলো আছে সেগুলো কোলেস্টেরল বাড়ায় না বরং অ্যাথেরোসক্লেরোসিসের ঝুঁকি কমিয়ে হার্ট ভালো রাখতে সহায়তা করে। এমনকি কিছু কিছু নারকেলে লরিক এসিড পাওয়া গেছে যা মায়ের দুধে থাকে। এবার নারকেলের স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো জেনে নেয়া যাক।
ত্বক
কোমল করে নিয়মতি নারকেল খেলে ত্বক কোমল ও সুন্দরহ য়। এছাড়াও নিয়মিত নারকেল খেলে ত্বকে সহজে বয়সজনিত বলিরেখা পড়ে না। ওজন কমায় নারকেল। নারকেল অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে। নারকেল খুব অল্প ক্যালরিতেই মেটাবলিজম বদ্ধি করে অল্পক্ষণের মধ্যেই শরীরে শক্তি জোগায়। নারকেল খেলে সহসা ক্ষুধাও লাগে না। তাই গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা নিয়মিত নারকেল খাওয়া শুরু করে তাদের বেশ খানিকটা ওজন হ্রাস পায়। নারকেল বিশেষ কিছু ভাইরাস ধ্বংস করে। যেসব ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, মামস ইত্যাদি রোগ জন্ম দেয, নারকেল সেসব ভাইরাসগুলোকে নষ্ঠ করে দেয়, ফলে এ ধরনের অসুখ-বিসুখ থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যায়।
কর্মউদ্দীপনা জাগাতে
নারকেল তাৎক্ষনিকভাবে শরীরে শক্তি জোগায়। তাই কাজের মাঝে বা হালকা খিদে পেলে নারকেল সাথে সাথে কর্মউদ্দীপনা জাগাতে সহায়তা করে। হজম সহায়ক হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল ও এমেিনা এসিড শোষণ করে নিতে সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
ইনসলিন নিয়ন্ত্রণ করে নারকেল রক্তের ইনসলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ডায়াবেটিসজনিত কারণে শরীরের ক্ষতিরোধ করে। দাঁত ও হাড় ভঅলো রাখে নারকেল শরীরে ক্যঅলশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে এবং দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে।
কিডনির ও ক্যান্সরারের জন্য উপকারী
ক্যান্সরারের ঝুঁকি কমে নিয়মিত নারকেল খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও অন্যান্য আরও কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় অনেকখানি। কিডনি ভালো রাখে নারকেল কিডনির জন্য উপকারী খাবার। কিডনিতে পাথর আছে যাদের তারা নিয়মিত খাবার তালিকায় নারকেল রাখলে ধীরে ধীরে পাথর মিলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে আলসার, গলার ইনফেকশন, ইউরিন ইনফেকশন, মাড়ির রোগ, গনোরিয়া ইত্যাদি রোগ সৃষ্ঠিকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করতেও নারকেলের ভূমিকা অপরিসীম।
আরও ওষুধিগুণ
ওষুধিগুণ বিভিন্ন রকম পেটের গোলযোগে গ্লকোজ স্যাল্যাইনের বিকল্প হিসেবে কচি নারকেলের পানি খুবই উপযোগী। ঘনঘন পাতলা পায়খানা ও বমির ফলে দেহে যে পানির অভাব ঘটে তা পূরণে ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকরী। এটি পিত্তনাশক ও কৃমিনাশক। অন্যান্য ব্যবহার চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করতে একটি ছোট কন্টেইনারে নারকেল তেল নিয়ে তাতে ৩টি ভিটামিন ই-ক্যাপসুল মিশিয়ে নিজে ফ্রিজে রেখে দিয়ে জমিয়ে প্রতিদিন রাতে শোবার আগে চোখের নিচে লাগালে দাগ দূর হয়ে যায়।
১০০ গ্রাম নারকেলে রয়েছে
প্রতি ১০০ গ্রাম নারকেলে আছে ৩৫৪ ক্যালরি, ৩৩ গ্রাম ফ্যাট, ২০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩৫৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৩.৩ গ্রাম প্রোটিন আছে।
এছাড়াও ভিটামিন সি, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম , ভিটামিন বি-৬ ও বি-১২ আছে।
আরও পড়ুনঃ খালি পেটে যে খাবার খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

