এলার্জি হচ্ছে শরীরের নিজস্ব এক ধরণের রোগ প্রতিরোধক প্রতিক্রিয়া । এতে কিছু কিছু বাহ্যিক পদার্থের প্রভাবে শরীরের বিশেষ বিশেষ অংশের কোষসমূহে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে নানা উপসর্গের সৃষ্টি হয়। এলার্জিতে সাধারণত ত্বক, চোখ, নাক ও শ্বাসতন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি (Sinuses) আক্রান্ত হয়ে থাকে, এসবের মধ্যে নাকের এলার্জি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।
সমস্যা বা রোগের কারণ
✪ বংশগত(Genetic): যাদের বাবা-মা কিংবা ভাই-বোন এ রোগে আক্রান্ত তাদের পরবর্তী বংশধরদের অনেকেরই এ রোগ হতে পারে
✪ পরিবেশগত(Environmental): বাতাসের আদ্রতার তারতম্যের ফলেও এ রোগের উৎপত্তি হতে পারে। কারণ যে বাতাস নাকের মধ্যে দিয়ে নেওয়া হয় সেটা নাকের সূক্ষ কোষকে আক্রান্ত করেপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
✪ প্রদাহজনিত কারণ(Secretory): ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া কিংবা ফাঙ্গাস নাক, ফুসফুসের কিংবা ত্বকের কোষের তারতম্যের সৃষ্টি করে এলার্জির জন্ম দিতে পারে।
এছাড়া রাস্তার ধূলোবালি, ফুলের রেণু, চামড়ার লোম, পাখির পালক কিংবা ফাঙ্গাসজাতীয় পদার্থ ইত্যাদিতে এলার্জি হতে পারে।
রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ
এ রোগ যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষের মধ্যে সমানভাবে দেখা যায়।ঋতুভিত্তিক নাকের এলার্জির উল্লেখযোগ্য উপসর্গ-
✔ নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। সাধারণত এক নাক খোলা অপর নাক বন্ধ কিংবা দুই নাকই বন্ধ থাকতে পারে। এ রোগের সঙ্গে নাকের পলিপ হয়েও নাক বন্ধ করতে পারে
✔ নাক থেকে পানি জাতীয় পদার্থ নির্গত হওয়া (Nasal Discharge)
✔ নাক চুলকানো (Nasal Irritation) বা নাকের মধ্যে কী যেন আছে বলে মনে হতে পারে
✔ নাকে গন্ধ না পাওয়া
✔ কান চুলকানো (Nasal Allergy)
✔ কাশি (Cough)
✔ শ্বাসকষ্ট (Asthma)
✔ চোখ চুলকানো, শরীরের অন্য কোথাও চুলকানি (Itching)
✔ মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা (Headache/Vertigo)
✔ জ্বরজ্বর ভাব (Fever)
নাকের এলার্জির বাহ্যিক লক্ষণ
✪ নাক: নাকের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি (Nasal Sinus) ফিকে, হালকা নীলাভ হয়ে স্ফীত থাকে। সঙ্গে নাকের মাংসপেশি (Nasal Polyp) বেড়ে যায়। নাকে সব সময় পানির মতো তরল বা গাঢ় নিঃসরণ জমে থাকে।
✪ চোখ: চোখের পাতা ফুলে যায়, চোখ লাল থাকে এবং পানি পড়ে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে চোখের নিচের পাতার নিচে নীলাভ দাগ পড়ে।
✪ কান: কান ও নাকের সংযোগস্থলের লসিকাগ্রন্থি (Lymph Node) ফুলে থাকে।
✪ স্বরযন্ত্র: স্বরযন্ত্রের বিভিন্ন অংশ স্ফীত থাকে, ফলে গলার কণ্ঠস্বর তারতম্য দেখা দেয়।
রোগ নির্ণয়
নাক, কান ও গলা ভালোভাবে পরীক্ষা করা। তাছাড়া-
এলার্জির জন্য রক্তের বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা, ত্বকের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষার মাধ্যমে এলার্জি উদ্দীপক পদার্থ শনাক্তকরণ
চিকিৎসা বা আরোগ্য লাভের উপায়
এলার্জি উদ্দীপক পদার্থ যতদূর সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে যেমন পোষা প্রাণী ঘর থেকে দূরে রাখা, বালিশ, কম্বল, মাদুর ইত্যাদিতে বর্ডার লাগানো, ঘরের দেয়াল, দরজা-জানালা, কার্পেট সর্বদা পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনে চাকরি পরিবর্তন করা, নাকের ফোঁটা জাতীয় ওষুধের অল্প ও অতিব্যবহার পরিহার করা ইত্যাদি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔসধ সেবন।
আরও পড়ুনঃ মাত্র ২০ সেকেন্ডে আপনার শ্রবণশক্তি পরীক্ষা!!
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।


