উৎকণ্ঠা কী এবং কেন
পরিবারের প্রিয় মানুষটি যদি হঠাৎ নিয়মের ব্যতিক্রম করে নির্ধারিত সময়ের পরে বাসায় ফিরে না আসে, কোনো যোগাযোগও না করে তবে তার জন্য স্বজনরা স্বভাবতই চিন্তিত হন ও উৎকণ্ঠিত হন। আবার আগামীকাল আপনার নিজের শরীরে একটা অপারেশন হবে-সেটা নিয়েও আপনি ভয় পাবেন এটাই স্বাভাবিক। কোনো ধরনের শারীরিক-মানসিক, সামাজিক হুমকি, বিপদ বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আবাষ পেলে আমরা সতর্কিত হই সেটিকে মোকাবেলার জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্ততি নিই এবং আসন্ন বিপদ নিয়ে চিন্তিত হই-উৎকণ্ঠিত হই। এটাই সুস্থ হন ও শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। দৈনন্দিন জীবনে এ ধরনের নানা পরিস্থিতির সাথে মোকাবেলা করার জন্য দেহ ও মনের এ প্রতিক্রিয়া ।
দৈনন্দিন জীবনে এ ধরনের নানা পরিস্থিতির সাথে মোকাবেলা করার জন্য দেহ ও মনের এই প্রতিক্রিয়া বা আবেগকে বলা হয় ভীতি। প্রকৃত আসন্ন-বিপদ বা হুমকিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভীতি কোনো রোগ নয় কিন্তু কারণ ছাড়া তৈরি হওয়া ভীতি বা উদ্বিগ্ন হওয়াটাই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় উৎকণ্ঠা বা অ্যাংজাইটি। পৃকৃত কারণে উৎকণ্ঠিত হওয়াটা কোনো অস্বাভাবিকতা নয়।
উৎকণ্ঠার অস্বাভাবিক প্রকাশ দুইরকমভাবে হতে পারে- প্রথমত উৎকণ্ঠিত হওয়ার মতো যথার্থ কোনো কারণ (কোনা আসন্ন বিপদ বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা) না থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ মনগড়া কারণে অযথা ভীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন; যেমন স্কুল থেকে তার সন্তান হারিয়ে যাবে শুধু এ কারণে কেউ যদি স্কুলে গেটে র কাছে বসে বসে ঘামেন বা স্কুলে তার সন্তান ছাদ থেকে পড়ে যাবে ভেবে স্কুলে পাঠনোই বন্ধ করে দেন অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকয় সাপ পাওয়া গেছে খবর পড়ে কলাবাগানের অ্যাপার্টমেন্টে বসে সাপের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন ইত্যাদি। দ্বতীয় ভয় পাবার পাওয়ার যথার্থ কারণ রয়েছে ঠিকই কিন্তু ভয় পাওয়ার প্রকাশ ভঙ্গির মাত্রা অর্থাৎ উৎকন্ঠার পরিমাণ অস্বাভাবিক রকম বেশি, ভয়ের কারণের অনুপাতে অনেক কেম বশি; যেমন সান্তানের স্কুল থেকে বাসায় ফিরতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে একঘন্টা পিছিয়ে গেলে অস্বাভাবিক উৎকন্ঠায় না নিজেই হয়তো অজ্ঞান হয়ে গেলেন; খবরে দেখলেন মতিঝিলে গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে, বোমা ফুটছে আর সেসময় আপনার কোনো প্রিয়জন বাসার বাইরে আছেন তিনি মতিঝিলে আছেন না কোথায় আছেন না জেনেই অযথা উৎকণ্ঠিত হয়ে, ঘেমে- নেয়ে চিৎকার করে পাড়া মাথায় করে ফেললেন।
উৎভেদে উৎকণ্ঠা আবার দু’রকম-এক বস্তগত/স্থানগত-টিকটিকি বা আরশোলা দেখে ভয় পাওয়া বা নৌকায় চড়দে ভয় পাওয়া, একা একা কোথাও যেতে সাহস না পাওয়া। দুই পরিবর্তনশীল উৎকন্ঠা, কেউ কেউ সব কিছু নিয়ে সবসময় উৎকন্ঠিত হন, কারও হার্টঅ্যাটাক হয়েছে শুনলে ভাবতে থাকেন আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমারও হাটঅ্যাটাক হচ্ছে, সেই তিনিই সন্তান স্কুলে গেলে ভয়ে উৎকন্ঠায় আধমরা হয়ে যান আবার চোরের ভয়ে বাড়িতে চারটি কলাপসিবল গেটে আটটি তালা ঝুলিয়েও তার রাতে ঘুম আসে না।
বাকি অংশ পর্ব – ২
গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

