
ডায়াবেটিসের কিছু ভুল ধারণা ও বাস্তবতা
প্রচলিত ভুল ধারণা: তিতা খেলে ডায়াবেটিস সারে!
বাস্তব সত্য: এটা প্রায়ই বলা হয়ে থাকে যে, ডায়াবেটিস হলে করলা বা তিতাজাতীয় খাবার বেশি করে খান, উপকার হবে। অনেকেই খুব আয়োজন করে নিমপাতা বড়ি, করলা রস কিংবা ভর্তা খান।
বিষয়টি আসলে কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ডায়াবেটিস নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা কেউই ডায়াবেটিসের সঙ্গে তিতা খাবারের কোন যোগসূত্র পাননি। কেউ কেউ মনে করেন, তিতা খাবারের তিক্ততা অগ্ন্যাশয়কে উদ্দীপ্ত করে। ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ ইনসুলিন নিঃসরণের সঙ্গে খাবারের স্বাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই বলে ডায়াবেটিস রোগীদের করলা খেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে না। পুষ্টিকর সবজি হিসেবে করলা তো খাওয়া যেতেই পারে।
প্রচলিত ভুল ধারণা: চিনি বেশি খেলে ডায়াবেটিস হয়।
বাস্তব সত্য: না, এটি সত্য নয়। জিনগত এবং কিছু অজানা প্রভাবক টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কারণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণ জিনগত এবং জীবনযাত্রার ধরণ। ওজন বেশি হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার, তা চিনি বাড চর্বি যেখান থেকেই আসুক না কেন, ওজন বাড়ায়। কারও যদি ডায়াবেটিসের পারিবারিক ইতিহাস থাকে, তবে তার উচিত হবে স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন ঠিক রাখা।
প্রচলিত ভুল ধারণা: শুধু বেশি ওজনের বা মোটা মানুষই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়।
বাস্তব সত্য: মাত্রাতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার একটি ঝুঁকি মাত্র, এক্ষেত্রে অন্যান্য ঝুঁকি যেমন পারিবারিক ইতিহাস, জাতিসত্তা, বয়স ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার জন্য নিরামক হিসেবেব কাজ করে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই এই ধারণা পোষণ করেন যে, বেশি ওজনই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র ঝুঁকি। অনেক মোটা মানুষেরই ডায়াবেটিস নেই। আবার অনেক ডায়াবেটিস রোগীর ওজনই স্বাভাবিক, এমনকি স্বাভাবিকের চেয়েও কম।
প্রচলিত ভুল ধারণা: ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ ডায়াবেটিক খাবার খেতে হয়।
বাস্তব সত্য: ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য একটি খাবার তালিকা সুস্থ মানুষের সাস্থ্যকার খাবার তালিকা থেকে ভিন্নতর কিছু নয়। কম চর্বি, পরিমিত লবণ আর চিনি, এর সঙ্গে পূর্ণঙ্গাদানাযুক্ত খাদ্য, শাকসবজি ও ফলমূল এগুলোর মিশ্রণই হতে পারে আদর্শ খাবার। তথাকথিত ডায়াবেটিক খাবারে অতিরিক্ত কোনো উপকার পাওয়া যায় না।
প্রচলিত ভুল ধারণা: ডায়াবেটিক রোগীদের কেবল অল্প পরিমাণ শর্করাসমৃদ্ধ খাবার যেমন- রুটি, আলু ও পেস্তা খেতে হবে।
বাস্তব সত্য: শর্করাসমৃদ্ধ খাবার এটি একটি সাস্থ্যসম্মত খাদ্য তালিকার অংশ। এখানে পরিমাণটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। লাল আটার রুটি, ভাত, সিরিয়াল, পেস্তা এবং শর্করাসমৃদ্ধ সবজি, যেমন: আলু, মটরদানা, ভুট্টা খাবার তালিকায় থাকতে পারে। অন্যান্য ধরণের খাবারের সঙ্গে শর্করার অনুপাত ঠিক রাখতে হবে। ডায়াবেটিক রোগীদের দিনে তিন থেকে চারবার শর্করাসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যুক্তিযুক্ত।
প্রচলিত ভুল ধারণা: ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্য, তাই যত ইচ্ছা ফল খাওয়া যেতে পারে।
বাস্তব সত্য: অবশ্যই ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্য। এতে আঁশ ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে; কিন্তু ফলে শর্করাও থাকে, যাকে অবশ্যই খাদ্য তালিকার সঙ্গে সম্বন্বয় করতে হবে। প্রয়োজনে ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে আলাপ করে ঠিক করুন কোন ফল কত বার, কী পরিমাণে খাবেন।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
