
জি,এম মিঠন, নওগাঁ জেলাঃ নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও সাব-সেন্টার সহ ২৯ টি ডাক্তারের পদের স্থলে মাত্র ৩ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। ২০টি পদ শুন্য থাকায় খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে সিকিৎসা সেবা।
বদলগাছী উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার জনসাধারণের জন্য মাত্র ৩ জন ডাক্তার কর্মরত থাকায় চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে ইতিমধ্যে।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, সার্জারী, গাইনী, এ্যনেসথেসিয়া, পেডিয়াট্রিক্স, অর্থপেডিক্স, কার্ডিও, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম, যৌন এবং সহকারী সার্জন ইনডোর, ইমার্জেন্সেী, এ্যনেসথেসিয়া, প্যাথলজিষ্ট , ইউনানী ও ডেন্টাল সার্জন সহ ২১ টি পদ রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র স্বাস্থ্য ও প.প ডাঃ মোঃ মনজুর এ মোরশেদ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আ.হ.ম. আহসানুজ্জামান, ডাঃ বিজয় কুমার রায়, সহকারী সার্জন (ইমার্জেন্সী) ডাঃ রুহুল আমিন, সহকারী সার্জন (প্যাথলজিষ্ট) ডাঃ আরিফুজ্জামান সহ বর্তমান ৩ জন কর্মরত রয়েছেন।
কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডাক্তারদের কর্মরত তালিকা অনুযায়ী দেখা যায় আরও ৪ জন ডাক্তার এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পোষ্টিং ও যোগদান রয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (পেডিয়াট্রিক্স) ডাঃ রতন কুমার সিংহ ২০১৩ সালের অক্টোবরের ১০ তারিখে যোগদান করলেও তখন থেকে প্রেষনে নওগাঁ সদর হাসপাতালে কর্মরত আছেন। উপজেলায় পেডিয়াট্রিক্স সার্জন ডাক্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ, ওই পদে ডাক্তার থেকেও অত্র উপজেলার জনসাধারণ তাদের শিশুদের সিকিৎসার জন্য নওগাঁ ওই ডাক্তার সহ অন্যান্য শিশু ডাক্তারদের নিকট মোটা অংকের ফি দেয়া সহ চিকিৎসার জন্য ধর্না দিতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর একটি সুত্র সাংবাদিকদের জানান, বদলগাছীতে প্রাইভেট চিকিৎসায় তেমন অর্থ উপার্জন না হওয়ায় ওই ডাক্তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ কয়েক বৎসর যাবৎ নওগাঁতে প্রেষনে রয়েছেন। সরকারী বিধি অনুয়ায়ী ৩ বসৎসরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকা যাবে না। কিন্তু ডাঃ রতন কুমার সিংহ তার যোগদানের তারিখ হইতে ৪ বৎসর অতিক্রম করলেও উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারনে নিরব রয়েছে।
অপর একজন মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামিমা সুলতানা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যায়। ছুটিতে থাকা অবস্থায় তার নিয়ামতপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বদলি হয়েছে। ছুটি শেষে সে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে যোগদান করেন। ডেন্টাল সার্জন ডাঃ ফেরদৌস আমিন ২০১০ সালের ডিসেম্বরের ১ তারিখে অত্র স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে যোগদান করলেও কিছু দিন পর থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই নিরুদ্দেশ হয়ে রয়েছে। এ ভাবে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ২৯ টি পদের স্থলে মাত্র ৩ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন এবং ২ জন সাব- এ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে ২ জন কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গুলিতে ১ টি করে মোট ৮ টি মেডিকেল অফিসার ও ১ টি করে সাব-এ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদ রয়েছে। উক্ত স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গুলিতে ৮ টি মেডিকেল অফিসার পদের স্থলে ১ টিতেও মেডিকেল অফিসার নেই। তার মধ্যে মাত্র চাকরাইল স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে ১ জন সাব-এ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রয়েছে। ভান্ডারপুর স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে সাব-এ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে শাহিদা নামে একজনের যোগদান রয়েছে।
কিন্তু তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বলে নওগাঁ সদর হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। বাঁকি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র গুলিতে ফার্মাসিষ্ট দিয়ে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ চলছে। এ ছাড়া সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ডাক্তারদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে অবস্থান করার কোয়াটার স্থাপন করেছে নিয়ম থাকলেও এক মাত্র আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রহুল আমিন ছাড়া কেউই অবস্থান করেন না শুধু তিনি কোয়াটারে অবস্থান করে রাতে দিনে সব সময় জরুরী বিভাগ ও ভর্তিরত রুগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন । এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মনজুর মোরশেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডাক্তার সংকট এর কারনে এমন অবস্থা চলছে যে চিকিৎসা দেওয়ার ইচ্ছা থাকার পরও রোগীর সংখ্যা সময় সময় বৃদ্ধি পাওয়ায় সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া যাচ্ছে না।
প্রতি বছর যে পরিমান ডাক্তার অবসরে যান সে পরিমান ডাক্তার নিয়োগ হয়না। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ডাক্তারদের পোষ্টিং ও প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে চাকুরী করার মানষিকতা থাকতে হবে। বিসি এস পাশ করার পর ডাক্তারদের গ্রামে পোষ্টিং দেওয়া হলেও ওই ডাক্তাররা যোগদানের কিছূ দিন পর তদবিরের জোরে বদলী হয়ে মূল শহর মুখী হন।
তাছাড়া প্রেষনের ব্যবস্থা তো রয়েছে। এ কারনে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স গুলোতে সব সময় ডাক্তার শূন্যতা থেকেই যাচ্ছে। তবে যে কয়জন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কর্মরত আছেন তাদের দিয়েই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে কয়েকজন ডাক্তারের যোগদান রয়েছে অথচ কেউ প্রেষনে অন্যত্র আবার কেউ নিরুদ্দেশ রয়েছেন। এদের সম্পর্কে বলেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (পেডিয়াট্রিক্স) ডাঃ রতন কুমার সিংহ সম্পর্কে জানান, তিনি ২০১৩ সালে অত্র স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে যোগদান করে তিনি প্রেষনে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চাকুরী করছেন। কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলী করলে পদটি খালি হয়। আর তা না হলে প্রেষনের আদেশ স্থগিত করে যোগদানকৃত কর্মস্থলে পাঠালেও কিছুটা ডাক্তার শুন্যতা কমতো। ডেন্টাল সার্জন ডাঃ ফেরদৌস আমিন দীর্ঘ দিন থেকে কর্মস্থলে নেই। সম্পূর্ণ নিরুদ্দেশ এর কারনে উপজেলা বাসী যেমন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি উক্ত পদ দখল করে থাকায় কর্তৃপক্ষ ওই পদে কাউকে বদলিও করতে পারছে না। কারন সরকারী নিয়মানুযায়ী কোন পদে কেউ নিরুদ্দেশ থাকলে ৫ বৎসর অতিবাহিত না হলে কর্তৃপক্ষ কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
ডাক্তার শুন্য পদ গুলি দ্রুত পূরন করলে অত্র বদলগাছী উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার মান শতভাগ সফল করা সম্ভব হবে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ডাক্তার সংকট গোটা নওগাঁ জেলাতেই। তবে আগামী দু মাসের মধ্যে ডাক্তার নিয়োগ হলে, এ সংকট থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অপরদিকে, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুন্য পদে ডাক্তার যোগদান ও ডাক্তারদের ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করার মধ্যেদিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি করার দাবী এলাকাবাসীর । ডাক্তার সংকটের কারনে যেন চিকিৎসার অভাবে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর পরিবর্তে নওগাঁ জেলা সদরে নিয়ে যেতে পথিমধ্যে অকালে কোন প্রাণ ঝড়ে না যায়।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
