অন্ত্রচাঞ্চল্য (Irritable Bowel Syndrome)

অন্ত্রচাঞ্চল্য (Irritable Bowel Syndrome)

অন্ত্র চাঞ্চল্য বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable Bowel Syndrome) পাকস্থলীর ব্যথা, খিচ ব্যথা এবং মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়ার একটি সাধারণ কারণ।

অন্ত্রচাঞ্চল্য (IBS)কেন হয়?

অন্ত্রচাঞ্চল্য বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) দৈনন্দিন মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যায়। তবে রোগটি জীবন বিপন্নকর নয়, ক্যান্সারের কোন উঁচু ঝুঁকি নেই তবে এতে। অনেক কারণেই অন্ত্রচাঞ্চল্য (IBS) হতে পারে। উদাহরণস্বরুপ আপনার মলত্যাগের ধরণ অস্বাভাবিকভাবে সংকুচতিহতে পারে। ব্যাকটেরিয়াও বদলাতে পারে আপনার (Bowels) -এ। কিংবা আপনি বিশেষ কোন খাবারের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারেন। কখনো কখনো মারাত্নক সংক্রমণের মাধ্যমে এসব সমস্যা জেগে উঠতে পারে। এছাড়া অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।

অন্ত্রচাঞ্চল্যের (IBS) – এর লক্ষণগুলো কি?

০১. পাকস্থলীর ব্যথা কিংবা খিচ ব্যথা (Cramping) মলত্যাগের অভ্যাস বদলে যাওয়া (ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য [Constipation] কিমবা উভয়টা।)
০২. পাকস্থলী ফুলে উঠা বা ফাঁপা
০৩. পায়খানার প্রচন্ড বেগ। অথচ পায়খানা করার সঙ্গে এই বেগের কোন সম্পর্ক না-ও থাকতে পারে।
লক্ষণগুলো প্রায়শই খাদ্য গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। মলত্যাগ করার পর অন্ত্রচাঞ্চল্য(IBS)-এর ব্যথা বা লক্ষণগুলো প্রশমিত হয়। অন্ত্রচাঞ্চল্য (IBS) এর লক্ষণ পরিবর্তনশীল। পঞ্চাশোর্ধ বয়সীদের মধ্যে এ লক্ষণ দেখা গেলে অন্য রোগ হয়েছে বলেও সন্দেহ করতে পারেন চিকিৎসক। পরিবারের কেউ অন্য কোন ধরনের পেটের সমস্যায় ভুগলেও এমনটা হতে পারে। নিম্নে বর্ণিত লক্ষণগুলোও অন্য কোন সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে:
০১. ব্যাখাহীন ওজন হ্রাস
০২. রাতে ডায়ারিয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
০৩. আয়রন ঘাটতি- যার কোন ব্যাখ্যা নেই।
অবস্থা আরো খারাপ হয় কীভাবে?
কতিপয় খাবার যেমন ল্যাকটোজ (Lactose), ফ্রাকটোজ (Fructose) কিংবা শর্করাযুক্ত খাবারও ক্ষতি করতে পারে (গমে গ্লুটেন আছে)
০১. মানসিক চাপ, উদ্বেগ (Anxiety)
০২. ব্যবস্থাপত্রের কতিপয় ওষুধ
০৩. রজঃস্রাব কাল
০৪. পাকস্থলীর ক্ষতিকারক মারাত্নক সংক্রমণ যথা (Travelers Diarrhea) কিংবা ফুড পয়জনিং বা খাদ্য দূষণ।

এর বিহিত কী?

কতক সুস্পষ্ট লক্ষণ এবং কতিপয় সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে অন্ত্রাচাঞ্চল্য (Lactoses) শনাক্ত করতে পারেন চিকিৎসক। অন্ত্রাচাঞ্চল্য (IBS)- এর যথার্থ কারণ নির্ণয়ের কোনো টেস্ট করার ব্যবস্থা চিকিৎসকদের হাতে নেই। একক কোনো চিকিৎসা সবার জন্য কার্যকার হয় না। কাজেই সঠিক চিকিৎসা খুঁজে পেতে সময় ও ধৈর্য্য লাগে।

চিকিৎসা:

০১. আপনি যেসব খাবার খান তাতে পরিবর্তন আনা। উাদহরণস্বরুপ আপনি গ্লুটেন (Gluten) মিশ্রিত খাবার কিংবা কতিপয় কার্বোহাইডেট বা শর্করা (Carbohydrate) গ্রহণ বন্ধ করতে পারেন। এ ব্যাপরে প্রয়োজনীয় পরামর্শ জন্য আপনার চিকিৎসককে জিজ্ঞেসা করুন।
০২. ব্যায়াম (Exercise)
০৩. ডায়েটারি ফাইবার কিংবা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ (আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে)
০৪. প্রেসক্রিপশন ওষুধ
০৫. চাপ কমাতে হবে। আচরণ বদলাতে হবে।
০৬. এমন চিকিৎসা গ্রহণ যা আপনার (Bowels) -এর ব্যাকটেরিয়াকে প্রভাবিত করে। আপনার ডাক্তার সম্ভবত প্রোবায়োটিক গ্রহণ করতে বলবেন। এতে উপকারি ব্যাকটেরিয়া আগমন ঘটে। কিছু এন্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন তিনি। যেসব ব্যাকটেরিয়া আপনার পেটে বর্তমান, এন্টিবায়োটিক সেগুলোর বদলাবে।

আরও পড়ুনঃ মল নির্গমণ নিয়মিত রাখার উপায় কি আঁশ?

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*