পায়ুপথের চুলকানি আর নয়

পায়ুপথের চুলকানি আর নয়

পায়ুপথে চুলকানি একটি সাধারন সমস্যা, আর সকলেই কোন না কোন সময় বিষয়টি নিয়ে ভোগেন। তবে ব্যাপারটি রোগ হিসাবে আবির্ভূত হয় যখন সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়। সাধারন ভাবে আমাদের দেশে পায়ুপথে চুলকানি হলে মনে করা হয় সুতাক্রিমি হয়েছে। বস্তুতপক্ষে আমার কাছে অনেক রোগী এসে বলেন ডাক্তার সাহেব খুব সুতাক্রিমি হয়েছে, এর জন্য অনেক ক্রিমির ঔষধও খেয়েছি। কিন্ত কোন উপকার হয় নি, একটু দেখুন তো বিষয়টা কি?

আসলে পায়ুপথে চুলকানি অনেক কারনে হতে পারে। কখনও কখনও এটি অতি ঝামেলার রোগ হয়ে দাড়ায় কারন কোন চিকিৎসাতেই এটি ভাল হতে চায় না। সাধারন ভাবে যে সবকারনে পায়ুপথে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি হতে পারে তার তালিকা দীর্ঘ। সবার আগে হচ্ছে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, বিভিন্ন ধরনের সাবান ও কসমেটিক্স, খাবারের মধ্যে কফি, চা, চকোলেট, মশলাযুক্ত খাবার, দুধজাত খাবার, পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ যেমন পাইলস,  এনাল ফিসার, ফিষ্টুলা, বিভিন্ন চর্মরোগ, সোরিয়েসিস, কনটাক্ট ডার্মাটাইটিস, সাধারন কিছু রোগ যেমন ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ থাইরেড এর রোগ এসব। উপরের রোগগুলো বিশাল তালিকার অংশমাত্র।

তাই একজন ভালো কোলোরেকটাল চিকিৎসক খুজে পেতে পারেন যথাযথ কারন সাধারনত: দেখাযায় এসব রোগী চর্ম বিশেষজ্ঞ, গ্যাষ্ট্রএন্টারোলজিষ্ট, কোলোরেকটাল সার্জন সহ বিভিন্ন চিকিৎসকের নিকট ঘোরাফেরা করেন, যথাযথ চিকিৎসার আশায়। অনেকক্ষেত্রেই এর চিকিৎসা বেশ কঠিন। চুলকানির যথাযথ কারন নির্ণয় সকল চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত জরুরী। এজন্য রোগের পূনাঙ্গ ইতিহাস, যথাযথ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এবং ল্যাবরেটরী পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে কিছু সাধারন বিষয়সবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন।

অনেকক্ষেত্রে এসব সাধারন ব্যবস্থায় রোগ পুরো ভালহয়ে যায় অথবা নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রথম বিষয় হচ্ছে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা। সাধারনত পায়ুপথ ও এর আশেপাশের এলাকায় অনেক বেশী জীবানু থাকে। তাই নিয়মিত সাবান, লিকুইড সাবান অথবা হাত পরিস্কারক এন্টিসেপটিক লোশন দিয়ে দিনে কয়েকবার বিশেষত, মলত্যাগের পর ও স্নানের সময় পরিস্কার করা উচিত। যে সব খাবার বা প্রসাধনী চুলকানি বৃদ্ধি করে করে সেসব পরিহার করা উচিত। সাধারন এন্টিহিষ্টামিন জাতীয় ঔষধ,স্হানীয় ভাবে পারিবারিক চিকিৎসক এর পরামর্শ করে ষ্টেরয়েরড জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে।এর পর ভাল না হলে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এর শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ পাইলস এর অপারেশন কি বার বার করতে হয়?

অধ্যপক ডা: এসএমএ এরফান
বাংলাদেশের পাইয়োনিয়ার কোলোরেকটাল সার্জন
চেম্বার:জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হসপিটাল
৫৫,সাতমসজিদ রোড,জিগাতলা বাসষ্ট্যান্ড,ধানমন্ডি,ঢাকা
মোবাইল: ০১৬২৬৫৫৫৫১১,০১৮৬৫৫৫৫৫১১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*