শরীর সুস্থ রাখতে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা

শরীর সুস্থ রাখতে ঘুম

প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। ন্যূনতম ৪ থেকে সবচেয়ে বেশি ১০ ঘন্টা ঘুম দরকার হয়। শরীরের জন্য ঘুম এতটাই জরুরি যে একটা সিস্টেম অ্যাকটিভ হয় ঘুম আসার জন্য। মস্তিষ্কের রাফে নিউক্লিয়াস (Raphe Nuclei) ও লোকাস সেবাসিয়াম কেন্দ্র দুটির স্টিমুলেশনের কারণে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। র‌্যাফে নিউক্লিয়াস থেকে সেরটোনিন (Serotonin) ও নিউরো হরমোন নিঃসৃত হয় এবং লোকাস সেবাসিয়াম কেন্দ্র এর অ্যাড্রিনালিন বা (Epinephrine) হরমোনের কারণ বাড়ায়। এ ছাড়া অন্ধকারে পিনিয়াল বডি থেকে মেলাটোনিন (Melatonin) নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। মানুষের ঘুম এবং ঘুম থেকে উঠার জন্য রয়েছে সিরকাউয়াল ক্লক বা বায়োক্লক। সারাদিন শরীরে যে ক্ষয় হয় তা পূরণ করার দায়িত্ব সিরকাডিয়ান সাইকেল-এর। ঘুমের সাথে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়। গ্রোথ হরমোন আমাদের ত্বক ও চুলের কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে আমাদের ত্বক ও চুলের নতুন কোষের জন্মের হার বৃদ্ধি পায়।কিন্তু যদি ঘুম কম হয় বা না হয় তাহলে গ্রোথ হরমোনের অভাবে চুল পড়বে এবং ত্বক অনুজ্জল হবে।

স্বাভাবিকভাবে যে চুল পড়ে তা আবার গজায়। কিন্তু ঘুম কম হবার কারণে চুল পড়ে যাবার হার চুল গজানোর হারের চাইতে কম হবে। ঘুম কম হবে মেলাটোনিন কম তৈরি হবে। মেলাটোনিন তৈরি হয় টাইরোসিনের সহতায়। সুতরাং মেলাটোনিন তৈরি কম হলে শরীরে টাইরোসিন জমতে থাকলে তৈরি করে মেলানিন পিগমেন্ট। মেলানিন ত্বকের রঙ কালো করে। ঘুম না হলে প্রথমে চোখের তলায় কালি পড়ে, দীর্ঘদিন ঘুম কম হলে ত্বকের রঙ কালো হয়ে যায়। ঘুমের মাঝে সেবাসিয়াম গ্লান্ডের ক্ষরণ হয়। সেবাসিয়াম গ্লান্ডের ক্ষরণের ফলে ত্বক ও চুল উজ্জ্বল থাকে। ঘুম না হলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ব্রণ হতে পারে। ঘুমের মাঝে মাসল বা পেশির রিলাকজেশন হয়। ফলে রক্ত সঞ্চালিত হয় এবং শরীরে যা সকল জায়গায় পৌছে দেয়, এর ফলে শরীরে ক্ষয়পূরণ হয়। কিন্তু ঘুম কম হলে তা সম্ভব হয় না। ফলে শরীর ক্লান্ত হয় এবং সেই ছাপ পড়ে চেহারায়।

ঘুম কমে যাওয়ার সাথে সাথে স্মৃতিশক্তি  কমে যেতে পারে। হাত পা কাঁপতে পারে। সৌন্দর্যহানির সাথে সাথে নানা রকম শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটতে থাকবে ঘুম না হলে। ধুম কেন হচ্ছে না এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। তবে শান্ত হয়ে ভেবে দেখুন শারীরিক বা পারিপার্শ্বিক কোন সমস্যার জন্য ঘুম হচ্ছে না এমনটি ঘটছে কি না। মানসিক কারণেও অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আরেকটা কথা ঘুম না হলেই টুক করে কোন ঘুমের ওষুধ খাবেন না প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

আরও পড়ুনঃ ধূমপান কেন-কিভাবে ত্যাগ করবেন?

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*