হার্টের জন্মগত ত্রুটি বা কঞ্জিনেটাল হার্ট অসুস্থতা

হার্টের জন্মগত ত্রুটি

হার্টের জন্মগত ত্রুটি হল হার্টের গঠেনের ত্রুটি, যা জন্মের সময় থেকেই উপস্থিত থাকে। এ ত্রুটিগুলো হার্টের

  • ভেতরের দেয়াল বা আবরণ
  • ভেতরের ভাল্ব
  • হৃদপিন্ডে রক্তবাহী শিরা বা ধমনী
  • এসব কিছুকে জড়িয়েই হতে পারে।

হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটিগুলো হৃদপিন্ডের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বদল করে দেয়। হার্টের জন্মগত ত্রুটি হলো সবচেয়ে কমন জন্মগত ত্রুটিগুলোর একটি। প্রতি এক হাজার শিশুর আটজন এ ধরণের ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে আমেরিকায়।বিভিন্ন রকম হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটির হতে পারে। হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটির অনেকগুলোই সাধারণ্ তেমন কোনো চিকিৎসা লাগে না অথবা সহজেই ঠিক করা যায়। কিছু শিশু জটিল ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়। এসব ত্রুটির জন্য সঠিক চিকিৎসা করতে হয় জন্মের পরপরই।

গত কয়েক দশকে হৃদপিন্ডের জটিল রোগ গুলোর শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা দারুণভাবে উন্নত হয়েছে। যার ফলে প্রায় সব শিশু, যারা এসব রোগে ভুগছেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকে এবঙ সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবন লাভ করতে পারে।

লক্ষণ:

কম গুরুতর হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি অনেক সময় শৈশবের শেষ প্রান্তে ধরা পড়ে। কেননা শিশুদের খুব নির্দিষ্ট লক্ষন না ও থাকতে পারে। যদি একটু বড় শিশুদের লক্ষণ পরিস্ফুটন হয়, সেগুলো হতে পারে-

  • খেলাধুলা বা কাজের সময় সহজেই শ্বাসকষ্ট হওয়া,
  • ক্লান্ত হয়ে যাওয়া,
  • অজ্ঞান হওয়া,
  • হাত পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া।

গুরুতর জন্মগত ত্রুটিরগুলোর লক্ষণ সাধারণত জন্মের পরপরই পরিস্ফুটিত হয় অথবা জন্মের কয়েক মাস পর।
লক্ষণগুলো এ রকম-

  • ফ্যাকাশে ছাই বা লীন চামড়া(Cyanosis)
  • ঘন ঘন শ্বাস নেয়া,
  • পা, পেট ও চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট খাবার সময়, যার ফলে ওজন কম হওয়া
  • হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটিতে কোনো রকম বুকে ব্যথা বা অন্য কোনো ব্যথার লক্ষণ থাকে না।

হার্টের ত্রুুটিগুলো কিভাবে তৈরী হয়ঃ 

গর্ভকালীন প্রথম সপ্তাহেই হার্টের গঠন ও হৃদস্পন্দন শুরু হয়। বড় রক্তনালীগুলো, যেগুলো হার্টের ভেতর ঢোকে ও বের হয়, এগুলোও এই সময়ে গঠিত হয়। এই সময় থেকেই হার্টের ত্রুটিগুলো শুরু হতে পারে। গবেষকরা নিশ্চিত হতে পারেননি, ঠিক কোন কারণে বেশির ভাগ ত্রুটি হয়। কিন্তু ধারণা করা হয় জেনেটিক ও পরিবেশগত কারণ-সব মিলিতভাবেই ত্রুটিগুলো সৃষ্টি করে।

নানা ধরণের হার্টের ত্রুটি

১. হার্টের ছিদ্র: হার্টের ছিদ্র তৈরি হতে পারে প্রকোষ্ঠগুলোর দেয়ালে অথবা বড় রক্তনালী, যেগুলো হার্টছেড়ে যাচ্ছে সেখানে।
কখনো এই ছিদ্রগুলোর কারণে কম অক্সিজেন-মিশ্রিত রক্ত অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সাথে মিশে যায়। যার ফলে শিশুটির শরীরে কম অক্সিজেন প্রবেশ করে। ছিদ্রের ওপর নির্ভর করে, এই অপর্যাপ্ত অক্সিজেন তখন শিশুর ত্বক বা নখকে নীলাভ দেখায় বা হার্ট ফেইলিউরের দিকে নিয়ে যায়।
১. VSD হলো এম একটি ছিদ্র, যা ডান ও বাম প্রকোষ্টের মাঝের দেয়ালে হার্টের নিচের দিকে হয়।
২. ASD হয় যখন ওপরের চেম্বারগুলোর মাঝের দেয়ালে ছিদ্র হয়।
৩. PDA হয় যখন ওপরের চেম্বারগুলোর মাঝের দেয়ালে ছিদ্র হয়।
৪. PDA হচ্ছে একটি যোগসূত্র, যা শিরা যে অক্সিজেন-বিহীন রক্ত বয়ে নেয় এবং (যা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত বহন করে)।
৫. একটি পূর্ণ AV Canal defect একটি অবস্থা, যেখানে হার্টের কেন্দ্রস্থলে ছিদ্র হয়।

বাধাপ্রাপ্ত রক্ত চলাচল: যখন রক্তনালী বা হার্টের ভাল্বগুলো হার্টের জন্মগত ত্রুটির কারণে সুরু হয়, হার্ট তখন বেশি বেশি কাজ করে এর মাঝ দিয়ে রক্ত চলাচল করানোর জন্য। ধীরে ধীরে এর ফলে হার্ট বড় হয়ে যায়। এবং মাংসপেশি মোটা হয়ে যায়। এর উদাহরণ হলো pulmonary/aortic stenois অস্বাভাবিক রক্তনালী, কিছু কিছু জন্মগত ত্রুটি হয় যখন রক্তনালিগুলো, যা হার্টের ভেতর ঢুকে এবং বের হয়- যা পরিপূর্ণ গঠন হয় না বা সঠিক অবস্থানে থাকে না।
Transposition of great arteries হয় যখন Coarctation of aorta শিরা ও aorta হার্টের ভুল দিয়ে গঠিত হয়।
Coarctation of aorta হয় যখন হার্টের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী- aorta (যা সারা শরীরে রক্ত) দেয় খুব বেশি সরু হয়ে যায়।
যেখানে ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে যে tricuspid vaive (বা তিন পর্দার ভাল্ব) ঠিকমতো গঠিত হয় না এবং প্রায়ই লিকিং (Leaking) হয়।
pull, Ateals: যেখানে pull Valve অনুপস্থিত থাকে। যার ফলে ফুসফুসে অস্বাভাবিক রক্তচলাচল করে।

২. একটি অপুনর্গঠিত হার্ট: কখনো হার্টের একটি বড় অংশ ভালোমতো গঠন হয় না। যেমন- trypoplastic left heart syndrome – এ হার্টের বাম দিক পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না যেন শরীরে প্রয়োজনীয় রক্ত যেতে পারে।

৩. বিভিন্ন ত্রুটির যোগফল: কিছু নবজাতকের অনেগুলো হৃদপিন্ডের জন্মগত ত্রুটি থাকে। যেমন- সবচেয়ে সাধারণ হলো: Tetralogy of Fallot, যেটা মূলত চারটি ত্রুটির সংমিশ্রণ। Pull ভাল্ব স্টেনোসিস একটি বড় VSD একটি overriding aorta-aorta এখানে ডান ও বাম নিলয়ের মাঝে থাকে। VSD এর সরাসরি ওপর দিয়ে। যার ফলে কম সমৃদ্ধ রক্ত ডান নিলয় থেকে সরাসরি aorta তে যায় pull শিরাকে বাদ দিয়েই

৪. ডান নিলয়ের Hypertrophy: এখানে ডান নিলয়ের মাংসপেশি বেশি মোটা হয়ে যায় অতিরিক্ত কাজ করার কারণে।

৫. TOF:  এ পর্যাপ্ত রক্ত ফুসফুসে যেতে পারে না নেয়ার জন্য এবং সেই কম সমৃদ্ধ রক্তটাই সারা শরীরে চলে যায়।

৬. শিশু-কিশোর: যাদের TOF আছে Cyanosis এ আক্রান হয়, যা মারাত্মক হতে পারে। অতীতে এ ক্ষেত্রে বয়স্ক শিশুরা খুবই ক্লান্ত হয়ে যেত কাজ, পরিশ্রম বা খেলার সময় এমনকি অজ্ঞান হয়েও যেতে পারে। বর্তমানে শৈশবেই মেরামত করে ফেলা হয় এ সমস্যাগুলো দূর করার জন্য।

৭. TOF সংশোধন বা মেরামত: করতে হয় open heart সার্জারি দিয়ে। জন্মের কিছুদিন পরই অথবা শৈশবে pull শিরাটুকু কতটুকু সরু তার ওপর সার্জারির সময়কাল নির্ভর করে।

আরও পড়ুনঃ স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এক নয়।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*