
স্বাস্থ্যের জন্য তোকমার উপকারীতা
তোকমার বীজ বা তোকমা (Basil Seeds). তোকমা হলো Ocimum Sanctum ঘরানার উদ্ভিজ উপাদান। যা বিভিন্ন ধরণের পানীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাদ্যে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দেখতে একেবারেই সাদামাটা এই উপাদানটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আয়রন, আঁশ এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালোরি। সুস্বাস্থ্যের জন্য এবং বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা দূরকরার জন্যে তোকমা খুব ভালো কার্যকরী একটি উপাদান। অনেকেই নিয়মিত তোকমার শরবত পান করে থাকেন।
তবে যারা এখনও তোকমা গ্রহণ করা শুরু করেননি, তারাও দ্রুত তোকমা গ্রহনের অভ্যাস করুন। কারণ, এই একটি মাত্র উপাদানের অগণ্য গুণাগুণ কোনো ভাবে এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ হবেনা আপনার।
পরিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে তোকমার বীজ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হলে সেটা ফুলে, বড় হয়ে তার শরীরের বাইরের আবরণে জেলী জাতীয় পদার্থ তৈরি করে। এটাই খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে থাকে। তোকমাতে থাকা প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ, খাদ্যকে দ্রুত পরিপাক হতে সাহায্য করে থাকে। কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, ডায়রিয়া অথবা আমাশয়ের মতো পেটের সমস্যাতে তোকমার বীজ খুবই উপকারী। এছাড়াও তকমা বীজের তেল গ্যাস্টিক আলসার সমস্যার জন্যে উপকারী একটি উপাদান।
ওজন কমাতে সাহায্য করে
প্রোটিন, আঁশ, বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটিঅ্যাসিড পাওয়া যায় তোকমার বীজে। তোকমা গ্রহণের ফলে ক্ষুধাভাব কমে যায় অনেকটা। যার ফলাফলস্বরূপ ওজন চলে আসে নিয়ন্ত্রণের মাঝে। যেহেতু তোকমাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্য আঁশ, যা পেট ভরাভাব তৈরি করে থাকে। এর ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রতি ইচ্ছা তৈরি হয়না।
ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যা দূর করতে
পার্সিয়ানহার্বাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা প্রায় একশ বছর ধরে একদম সাধারণ ঠাণ্ডা-কাশির সমস্যা থেকে শুরু করে শ্বাস কষ্টের মতো গুরুত্বর সমস্যার ক্ষেত্রে ও তোকমা ব্যবহার করে আসছেন। তোকমা বীজে রয়েছে অ্যান্টি-স্পাজমোডিক (Antispasmodic) প্রভাব। যা উক্ত সমস্যার দূর করতে কার্যকরী। তোকমাতে থাকে অ্যান্টি-ফাইরেটিক (Antipyretic) জ্বর কমাতে সাহায্য করে থাকে।
তোকমাতে রয়েছে কেমোপ্রিভেন্টিভ উপাদানসমূহ
তোকমা বীজে রয়েছে উচ্চমাত্রায় লাইনলিক অ্যাসিড এবং ফ্যাটি অ্যাসিডসমূহ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম কেমোপ্রভেন্টিভ (Chemo preventive) হিসেবে কাজ করা। টিউমার যুক্ত ইঁদুরদের উপরে একটি গবেষণায় করা হয়। যেটা থেকে দেখা যায়, তোকমা গ্রহনাকারী ইঁদুর তুলনামুলক ভাবে বেশী দিন বেঁচে থাকে এবং তাদের টিউমারের বৃদ্ধির গতি কমে যায় অনেকখানি।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য এবং দুশ্চিন্তা কমাতে কাজ করে
তোকমাতে থাকা অ্যান্টি-হাইপার লিপিডেমিক (Anti hyper lipidemic) কার্যক্রম কোলেস্টেরল এর সমস্যা কমিয়ে থাকে। তোকমা বীজের তেল লক্ষণীয় ভাবে হাইলিপিডপ্রোফাইল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
তোকমা বীজে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভনয়েড এবং ফেনোলিক উপাদান সমূহ। একই সাথে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ থাকার ফলে তোকমা গ্রহণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনা মূলক ভাবে বৃদ্ধি পায়। একইসাথে, ফ্রি-রেডিক্যালড্যামেজ থেকে রক্ষা করতে ও বেশ উপকারী তোকমা।
মুখের স্বাস্থ্যভালো রাখতে সাহায্য করে
প্রদাহ-বিরোধী উপাদান সমূহ থাকার ফলে মুখের ভেতরের প্রদাহ, ইনফেকশন, আলসারসহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যায় তোকমা দারুণ কাজ করে থাকে। তোকমাতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ফাংগাল উপাদান সমূহ থাকার ফলে মুখের ভেতর একদম ফ্রশ থাকে। বিশেষ করে মুখের ভেতর কোন ইনফেকশন, দাঁতের ক্ষয়রোগ (ক্যাভিটিজ) এবং মুখের দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারেনা।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
