
মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে লোকবল সংকটকে পুঁজি করে রোগীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক রোগীর ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করার জন্য দুইশ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আর এসব অনিয়মের মূলহোতা সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিকাশ ভৌমিক। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (২৮ মে) দুপুর ২টায় সদর উপজেলার চর আলী আহসান গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে মোহাম্মদ হৃদয়কে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, সকালে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও
টাকা না দেওয়ায় অন্তত ৪ ঘন্টা যাবত রোগীর স্বজনদের হয়রানি করা হয়।
জানা গেছে, গত রোববার (২৭ মে) সকালে সড়ক দূর্ঘটনায় হৃদয়ের পায়ে আঘাত লেগেছিল। দুপুরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এসময় ওটি ইনচার্জ পরিচয়দাতা বিকাশ ভৌমিক রোগীর পা এক্সরে ও অন্যান্য পরীক্ষার জন্য ‘নিরাময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাদের পাঠিয়ে দেন।
এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে পা ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ করা হয়। এজন্য বিকাশ ভৌমিক ৫ হাজার টাকা দাবী করেন। পরে ২ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এমন অনিয়ম শুধু অর্থোপেডিক বিভাগে সীমাবদ্ধ নয়। হাসপাতাল কাউন্টার, ইমার্জেন্সী বিভাগ এবং ভর্তি বিভাগেও টাকা ছাড়া যথাযথ সেবা মিলছে না বলে জানা গেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বিকাশ ভৌমিক বলেন, গত কয়েক বছর যাবত আমি রোগীদের নিকট থেকে টাকা নেই না। আমার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানেও কোনো রোগীকে পাঠাইনা। ছাড়পত্রের বিষয়ে আমার কোনো হস্তক্ষেপ নেই। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
