
মানসিক যন্ত্রণাদায়ক
বেঁচে থাকার রসদ জোগাতে মানুষ বিভিন্ন কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখে। কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলেন কর্মসংস্থান, কেউবা খুঁজতে থাকেন অন্যের প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান। সফল হলে যেমন বাহবা পান তেমনি ব্যর্থতায় জোটে উপাহাস। আর দুই উপহাসই কেবল তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শুদু তাই নয়, তার কর্মস্থলের পরিবেশও তাকে মর্মাহত করে। একইসঙ্গে শারীরিকভাবে নানমুখী জটিলতারও মুখোমুখি হতে হয় তাকে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনই এক ফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মানিসিক যন্ত্রণাদায়ক পেশায় থাকার চেয়ে বেকার থাকা শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । কেননা কঠোর শারীরিক শ্রম, সেই তুলনায় স্বল্প মজুরি শরীরের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে, ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী ব্যাধি। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইপিডেমিওলজি; পরিচালিত এক গবেষণায় এই কথা বলা হয়েছে। লন্ডনের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ নিয়ে ১.১১৬ জন ব্যক্তির উপর দুই বছর গবেষণা চালিযেছেন। যারা ছিলেন ৩৬ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে। অংশগ্রহণকারীরা ২০০৯-১০ সালের মধ্যে বেকার অবস্থায় ছিলেন। গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা দাবি করেছেন তাদের তারা দেখেছেন, যন্ত্রণাদায়ক চাকরি করার চেয়ে বেকার থাকা স্বাস্ত্যকর। দেখা গেছে, যেমন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এই ধরনের যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা বিভিন্ন চাপ সম্পর্কিত রোগে ভুগেছেন।
গবেষণার শারীরিক অবস্থা জানতে অংশগ্রহণকারীদের রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। কোলেস্টরেলের মাত্রা, রক্তচাপ, নাড়ির স্পন্দনের হার ও কোমর থেকে নিতম্বের অনুপাত এগুলোকে গবেষনার পরিমাপক ধরে চাকরি-সম্পর্কিত চাপ প্রভাব পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, তখন তাদের রক্তে গ্লুকোজ (শর্করা) ও কোলেস্টরেলের মাত্রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিল।
দেখা গেছে, এসব ছাড়াও তাদের শরীরের ফ্যাট স্টোরেজও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। রক্তপিন্ডের সঙ্গে যুক্ত সাবসটেন্সেসের যাত্রাও বেড়ে গিয়েছিল। যার ফলে শরীরে প্রদাহ হয়। উল্লেখ, উচ্চ রক্তপাচ ও কোলেস্টরেলের মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়। সেখানে হৃদপিন্ডের পাশাপাশি ফুসফুসেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চাপের মধ্যে চাকরি করলে মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনিত ঘটে। তবে কেন এমনটি ঘটে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কেনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ মাইগ্রেন প্রচন্ড মাথা ব্যাথা।
গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক তারানি দান্দোলা বলেন, বেকারদের সাফল্যের ওপর চাকরির মান উপেক্ষিত হতে পারে না। বিষয়টা এমন যে, ভালো কাজ স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই ভালো। তবে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, নিম্মামানের কাজও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে। উল্লেখ্য, চাকরির মান নির্ধারণ করা হয় বেতন, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও সন্তষ্টির মাধ্যমে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ও গবেষণায় দেখা যায়, মানসিক চাপ ওই মানুষগুলোর মধ্যে বিপদের অনুভুতি তৈরি করে। গবেষকরা খেয়াল করেছেন, মানসিক চাপের মাত্রা নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা সব সময় ভয়ের অনুভূতির মধ্যে বিরাজ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা গবেষণা থেকে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, এই ফল স্ট্রেস ও ট্রমা মানসিক ব্যাধি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায় অদূর ভবিষ্যতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
