
সাস্থের জন্য, খাবার সম্পর্কে একটু সচেতনতা
শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, বৃদ্ধ, সন্তানসম্ভাবা ও প্রসূতি মাতা প্রত্যেক ব্যক্তিকে পুষ্টির অভাবজনিত রোগের কবল থেকে বাঁচাতে হলে মনোযোগের সাথে খাদ্য তালিকা পরিকল্পনা করে খাদ্য নির্বাচনের বিষয়ে যত্নবান হওয়া একান্ত দরকার। এসাথে রান্নার সময়ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে শাকসবজি পানিতে অতিরিক্ত ধুয়ে বেশি তাপে এবং অতিরিক্ত সময় রান্না করে অযথা খাদ্য উপাদানের অপচয় না ঘটে। খাদ্যগ্রহণে ভ্রান্ত ধারণা ও কুসংস্কার পোষণ পরিবারের পুষ্টি সমস্যা আরো বাড়িয়ে তোলে। যে সব কুসংস্কার পোষণ করা হয় তা নিছক ভ্রান্ত ধারণা যেমন, রাতে ফল খাওয়া নিষেধ। সাধারণ জ্বরে ভাত খাওয়া বারণ, হাঁসের ডিম ক্ষতিকর ইত্যাদি।
আবার বোয়াল, গজার ও মিরকা মাছ এবং মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি খাবারের প্রতি রয়েছে অনেকের বিরূপ মনোভাব। এইসব বিরূপ ও ভ্রান্ত ধারণার পিছনে যুক্তিসঙ্গত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য নাই। হাঁসের ডিম আকারে ও ওজনে মুরগির ডিমের চেয়ে বড় হওয়ায় হাঁসের ডিমে প্রোটিন, লোহা, ভিটামিন এ পরিমাণে বেশি পাওয়া যায়। উল্লেখিত মাছ, বোয়াল, গজার, মিরকা থেকে সম্পূর্ণ প্রোটিন পাওয়া যায়। শিশুর জন্মের পরে মায়েদের খাদ্য বেছে খাওয়ার কুসংস্কার শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এটা-ওটা বেছে খাওয়ার অভ্যাস শারীরিক পরিপুষ্টির পরিপন্থী। যাঁরা কাঁচা সবজি যেমন, গাজর, বীট, লেটুস, টমেটো, মূলা, বাঁধাকপি, কেপসিকাম খেতে অনভ্যস্ত তাঁদের এসব কাঁচা সবজি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
পরিবারের শিশুদের শৈশবকাল হতেই সবরকম খাদ্যের অভ্যাস গঠন করা সহজ হয়। যে পরিবারে বয়স্ক ব্যক্তিরা বেছে খাবার খান তাঁদের শিশুদের খাওয়ার ভালো অভ্যাস গঠনে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। অপুষ্টি ও পুষ্টিহীনতা রোধ করার জন্য প্রত্যেক পরিবারে খাওয়ার ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অতিরিক্ত তেল-চর্বি, ভুনা-ভাজা, ডিম-দুধের তৈরি খাবার বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর। এইসব খাবার সব বয়সেই খুব পরিমিত পরিমাণে খেলে দেহে মেদ জমতে পারে না। দেহে মেদ এবং কোলেস্টরেলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া দেহের জন্য ক্ষতিকর।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।
