ভিটামিন ডি -এর প্রভাব দেহে

ভিটামিন ডি -এর প্রভাব দেহে

ভিটামিন ডি:

সূর্য রশ্মি আর যাই হোক ত্বকের জন্য সুবিধার নয়। আজন্ম জেনে আসা একথাটি এবার মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হলো। রুপ সচেনতন রমণীরা এটি মানতে না চাইলেও গবেষকরা হাতে কলমে দেখিয়েছেন ভিটামিন ডি শুধু একটি ভিটামিনই নয় এটি একটি ধন্বন্তরি ওষুধ। কমপক্ষে ১৮টি মারাত্মক ক্যান্সার, প্রসেস্ট ক্যান্সার, মূত্রথলির ক্যান্সার, ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, মূত্রনালির ক্যান্সার, সারভিকাল ক্যান্সার, পানক্রিয়েটিক ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, গলব্লাডার ক্যান্সার ইত্যাদি ও পাঁচটি ভয়ঙ্কর রোগ (ডায়াবেটিস উচ্চরক্তচাপ, মাল্টিপল স্কেলরিসিস, বিওমেটিয়েড আর্থারাইটিস, মুখের ও দাঁতের রোগ) থেকে রক্ষা করতে ৪০% পর্যন্ত কার্যকর এই ভিটামিন ডি।

ভিটামিন ডি শরীরে কি প্রভাব ফেলে:

প্রকৃত অর্থে ভিটামিন ডি আমাদের শরীরে ভিটামিন আকারে নয় এটি হরমনের মতো কাজ করে। এটি হাড়ের গঠন দেখভাল করার পাশাপাশি দেহকোষের বৃদ্ধি পর্যক্ষেণ করে এবং শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে এমন কোষগুলোই শুরুতেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি দেহকোষই ভিটামিন ডি গ্রহণের রিসিপটার রয়েছে যা প্রতিটি কোষকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সাহার্য করে।

এতো গেলো রোগব্যাধির ক্ষেত্রে ভিটামিন-ডি এর কার্যক্ষমতা কিন্তু এতেই তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। উপকারিতা তো এখনো বলাই হয়নি। গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট দুপুরের রোদে শরীরের ৫০ শতাংশ এলাকা অনাবৃত করে চলাফেরা করেন(তামাটে বা কালো ত্বকের জন্য ৩০-৩৫ মিনিট) এমন মানুুষের উপরোক্ত ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে অন্যদের চেয়ে ৪০% কম। শুধু কি তাই? নিয়মিত ১০০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন ডি গ্রহণ হাড় গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যাদের শরীরে পরিমিত মাত্রায় ভিটামিন ডি রয়েছে তাদের শুধু ১৮ টি ক্যান্সার আর পাঁচটি মারাতœক রোগের ঝুঁকি কমায় না, একই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দীর্ঘায়ূর পথ সুগম করে। মোদ্দা কথা, ভিটামিন ডি সুপার স্টাটাস ভিটামনি বা মহৌষধ।

ভিটামিন ডি এর পর্যাপ্ত উপস্থিতি পুরুষের প্রস্টেট ক্যান্সার, মলাশয়ের ক্যান্সার, নারীর সাার্ভিকাল ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে- যেসব পুরুষ গৃহ অভ্যন্তরের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকে অর্থ্যাৎ দিবালোকে কম যাতায়াত- তাদের প্রস্টেট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা যারা যাতায়াত করেন তাদের চেয়ে অনেক বেশি। একই ঘটনা নারীদের ক্ষেত্রেও সত্য। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-এর উপস্থিতি উপরোক্ত প্রতিটি মারাত্মক রোগের সঙ্গে লড়ার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরো দৃঢ় করে। ভিটামিন ডি শুধু সূর্যালোক থেকেই নয় এটি কেম থেরাপি কিংবা কণিকার মাধ্যমেও নেয়া যেতে পারে (তবে সেটি জরুরি প্রয়োজনেই কেবল চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন)।

সুস্থ থাকার জন্য ভিটামিন ডি গ্রহণের তালিকা: 

➳জন্ম থেকে ৫০ বছর প্রতিদিন গড়ে ৫ মিলিগ্রাম
➳৫১ থেকে ৭ বছর প্রতিদিন গড়ে ১০ মিলিগ্রাম
➳৭০+ বছরের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১৫ মিলিগ্রাম

এছাড়াও ভিটামিন ডি- এর চাহিদা পূরণ হতে পারে:

➳প্রতিদিন এক টেবিল চামচ কডলিভার অয়েল।
➳১০০ গ্রাম রান্না করা শ্যামন মাছ
➳টুনা মাছ ৮৫ গ্রাম
➳সার্ডিন ৫০ গ্রাম
➳দুধ এক কাপ

মারাত্বক পাঁচটি রোগ থেকে বাঁচার জন্য শরীরে যে পরিমাণ ভিটামিন ডি প্রয়োজন

১. উচ্চ রক্তচাপ- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের ৮০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন যা সপ্তাহে তিন দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট দুপুরের রোদে টানা ছয় সপ্তাহ ৫০ শতাংশ শরীর অনাবৃত করে রৌদ্রস্নানে এ পরিমাণ ভিটামিন ডি-র সংস্থান করতে পারে।
২. মাল্টিপল স্কেলরিসিস- এ রোগটি প্রতিরোধে ভিটামিন ডি মহৌষধের মতো কাজ করে। প্রতিদিন ১ হাজার আইইউ ভিটামিন ডি টানা ছয়মাস গ্রহণ করলে রোগটি পুরোটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
৩. রিওমোটয়েড আর্থারাইটিস- শরীরে ভিটামিন ডি- এর পর্যাপ্ত উপস্থিতি এ রোগটির ঝুঁকি হ্রাস করে।
৪. ডায়াবেটিস শরীরে ভিটামিন ডি এর পর্যাপ্ত উপস্থিতি ডায়াবেটিস টাইপ-১ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। প্রতিদিন ২ হাজার আইইউ ভিটামিন গ্রহন করলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৮০% পর্যন্ত হ্রাস পায়।
৫. মুখ ও দাঁতের রোগ- যাদের শরীরে ভিটামিন ডি- এর উপস্থিতি সন্তোষজনক তাদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ২০% পর্যন্ত হ্রাস পায়।

আরও পড়ুনঃ শীতে স্বাস্থ্য সমস্যা।

গণ সচেতনতায় ডিপিআরসি হসপিটাল লিমিটেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*