প্রেসমেকার যখন দরকার
হৃদপিন্ড মানুষের একটাই কিন্তু এর অসুখ আছে শত শত। আর এর প্রতিকারও হয় ভিন্ন ভিন্ন। হৃদপিন্ডের ভালভ, রক্তচাপ, মাংসপেশি বা রক্তনালী রোগ সম্বন্ধে আমরা সবাই কম বেশি জানি। কিন্তুু হৃদস্পন্দনের অসুখ সমন্ধে আমাদের সে রকম ধারণা হয়তো নেই। কিন্তু অবহেলা করলে হৃদস্পন্দনের সমস্যার কারণেও বড় ধরণের বিপত্তি ঘটতে পারে।
◊হৃদস্পন্দজনিত রোগগুলোকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
ব্র্যাডিঅ্যারদমিয়া বা ধীরগতির হৃদস্পন্দন ট্যাকিঅ্যারিদমিয়া বা দ্রুত গতির হৃদস্পন্দন। ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া মধ্যে আবার অনেকগুলো রোগ রয়েছে, যার মধ্যে কমপ্লিট হার্টব্লক এবং সিক সাইনাস সিনড্রোমস উল্লেখযোগ্য।
সব ধরনের ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া মোটামুটি একই রকম উপসর্গের সৃষ্টি করে, যেমন- মাথা ঘুরা, মাথা ঝিমঝিম করা, মাথা ঘুরে পড়া, হঠা/ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি করার সময় বেশি হয়। যখন এই উপসর্গগুলো হয় তখন মুখ হাত- পা ফ্যাকাশে দেখা যায়, শরীর ঘামতে থাকে ও ঠান্ড হয়ে যায়, নাড়ির ধীর গতি থাকে এবং রক্ত চাপ অনেক কমে যায়। ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া রোগুলো নির্ণয় করা হয় রোগের উপসর্গ, লক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে ইসিজি এবং ২৪ ঘন্টার হল্টার মনিটরিং অন্যতম। তা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে আনুষঙ্গি অন্য ধরণের হৃদরোগ নির্ণয় করার জন্য বুকের এক্স-রে ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয়ে থাকে।
যাদের পরিশ্রম করলে উপসর্গ দেখা দেয়, ইটিটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কোনো কোনো ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া আছে, যা সাধারণত কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না এবং এগুলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় ধরা পড়ে। রোগীর যদি কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। কিন্তু তাকে সর্তক থাকতে হবে এবং যখনই কোনো রকম অসুবিধা অনুভুত হব, তখনই একজন হৃদরোগ বিশেজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। যেকোনো ধরণের ব্র্যাডিঅ্যারিদমিয়া যদি উপসর্গের সৃষ্টি করে, বিশেষ করে হঠাৎ অচেতন হয়ে যাওয়া, তাহলে শরীরে পেসমেকার বসাতে হবে। সাধারণত কমপ্লিট হার্টব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম রোগে এ ধরণের উপসর্গ বেশি করে থাকে।
এখন সবারই মনে প্রশ্ন আসবে পেসমেকার কী?
পেসমেকার হলো ছোট একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র, যা বুকের উপরিভাগরে ডান অথবা বাম পাশে চামড়ার নিচে বসানো হয়। যারা ডান হাতে কাজ করেন তাদের ডান দিকে লাগনো হয়ে থাকে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে যন্ত্রটি পেটে বসানো হয়। পেসমেকার কয়েক প্রকার হয়ে থাকে, যেমন-
- সিঙ্গল চেম্বার
- ডুয়াল চেম্বার
- বাইভেনট্রিকুলার
পেসমেকারটিকে বিশেষ তারের মাধ্যমে হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠে সংযোগ দেয় হয়। উপরোল্লিখিত প্রকারভেদে একটা থেকে তিনটা লিড সিস্টেমের প্রয়োজন হয়। রোগের প্রকারভেদে একেক ধরণের পেসমেকার লাগনো হয়ে থাকে।
পেসমেকার ইমপ্ল্যান্টেশনের পর একজন রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেগুলো নিম্নরুপ-
- যে পাশে পেসমেকার বসানো হয় সে পাশের হাত এক মাস কাঁধের ওপর উঠাবেন না।
- ওই হাত দিয়ে ছয় মাস ভারী বস্তু বহন করবেন না।
- ওই পাশের কানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না।
- মাইক্রোওয়েভ ওভেন বা টেলিভিশনের কাছে যাবেন না।
- এমআরই পরীক্ষা করা যাবে না।
যেকোনো ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার সময় ডাক্তারকে জানাতে হবে যে তার শরীরে পেসমেকার বসানো আছে।পেসমেকার বসানো দিন থেকে ১,৩, ৬ ও ১২ মাস পর হাসপাতালে এসে পেসমেকার ঠিকভাবে দেখতে হবে। তারপর বছরে একবার করে পরীক্ষা করাতে হবে।
medicalbd সাস্থের সকল খবর।

